নীলফামারী বড় মাঠে মিনিবার ফুটবল লীগ ||
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালোই আছি। আজ আমি আরেকটি ব্লগ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। নীলফামারী বড় মাঠে খুব বড় করে ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমি ঢাকা থেকে বাসা ফিরে পরেরদিন বিকেলে নীলফামারী বড় মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিলাম। সেখানে যেয়ে দেখতে পারি নীলফামারীর সব থেকে বড় ফুটবল লীগ শুরু হয়ে গেছে। আমি ঢাকায় ছিলাম জন্য জানতাম না যে নীলফামারী মিনিবার ফুটবল লীগ শুরু হয়ে গেছে। আজকে আমি এই মিনিবার ফুটবল লীগ এর একটি ম্যাচ নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি। আশা করছি আপনাদের ভালো লাগবে।
নীলফামারী বড় মাঠ ময়দানে নীলফামারীর সবথেকে বড় মিনিবার ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিত হয় প্রতি বছরেই। এইবারেও নীলফামারী বড় মাঠ ময়দানে প্রতিবছরের ন্যায় এই লীগটি অনুষ্ঠীত হয়। আমি খেলা দেখার জন্য এইদিন আগেই মাঠেই চলে যাই। এই মিনিবার ফুটবল লীগে নীলফামারী থেকে টোটাল ৩৬ টি টিম খেলে। এতেই বোঝা যায় কত বড় লীগ এটি। এই লীগে স্পনসর এর কোনো অভাব হয়না।খুব জাকজমকভাবে এই লীগটি প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়।
আমি যেদিন খেলা দেখতে গিয়েছিলাম এইদিন খেলা ছিলো নীলফামারী শাহীপাড়া বনাম থানাপাড়া। খেলা শুরু হয় ঠিক বিকেল ৫ টায়। রেফারি টস এর মাধ্যমে সেন্টার ও বার ক্যাপ্টেইন ঠিক করে। খেলার মোট সময় ৬০ মিনিট বা ১ ঘন্টা। ৩০ মিনিট পর হাফ টাইম। যেহেতু মিনিবার তাই প্রতিটি টিমে ৭ জন করে খেলোয়াড় ও ৩ জন করে এক্সট্রা প্লেয়ার। খেলার সব নিয়ম প্লেয়ারদের কে বুঝিয়ে দিয়ে ঠিক বিকেল পাঁচটায় রেফারি খেলা শুরু করে।
দুই দলই অসম্ভব সুন্দর খেলছিল। দুই দলের খেলোয়াড়রাই ছিল ভালো অর্থাৎ কোন দল কোন দলের চেয়ে কম কিংবা বেশি নয়। যেহেতু মিনিবার তাই গোলের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না, দুই দলেই আপ্রাণ চেষ্টা করছিল একটি গোলের জন্য কিন্তু কোন দলই কাঙ্খিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না। দুইটি দলই অ্যাটাক ও কাউন্টার অ্যাটাক করছিল। এভাবে অ্যাটাকিং খেলতে খেলতে খেলার হাফটাইম গড়িয়ে যায় কিন্তু কোন দলেই গোলের দেখা পায় না।
প্রায় ১০ মিনিট পরে দ্বিতীয় অর্ধের খেলা শুরু হয়। এবার প্রতিটি দল আরো বেশি অ্যাটাকিং খেলা শুরু করে। মিনিটে মিনিটেই অ্যাটাক ও কাউন্টার অ্যাটাক হচ্ছিল। এবার শাহীপারা বেশি অ্যাটাকিং খেলছিল কিন্তু থানাপাড়া ডিফেন্ডার অনেক ভালো হওয়ায় এত অ্যাটাক দেওয়া সত্ত্বেও একটি গোলের দেখা পায় না শাহীপাড়া। আমরা দর্শকরা খেলাটি অনেক বেশি ইনজয় করছিলাম। এভাবেই গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচটি ড্র হয়।
ম্যাচটি ড্র হাওয়ার পর শুরু হয় পেনাল্টি। প্রতিটি পাঁচটি করে পেনাল্টি মারার সুযোগ পাবে যেই টিম বেশি গোল করবে সেই টিম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা হবে। পেনাল্টির সময় দর্শকগুলো একদম জড়ো হয়ে গিয়েছিল। অনেক দর্শক এই ফুটবল লিগ দেখতে আসে। দর্শকে চারদিকে ঘিরে গিয়েছিল। দুইটি টিমই একটির পর একটি করে পেনাল্টি মারে। পেনাল্টিতে থানাপাড়া দুইটি গোল ও শাহীপারা মাত্র একটি গোল করে। পেনাল্টি তে থানাপাড়া জয়লাভ করে। দর্শকরা অনেক বেশি উপভোগ করেছিল এই খেলাটি, খেলা শেষে থানাপাড়ার দর্শক ও খেলোয়াড়রা উদযাপনে মেতে ওঠে।
আজকের মত এখানেই। আশা করছি আপনাদের ভালো লেগেছে। এতক্ষণ ধরে মনোযোগ দিয়ে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দেখা হবে অন্য একটি ব্লগে ততক্ষণে ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আমি আল হিদায়াতুল শিপু। বর্তমানে ইন্টার পরীক্ষা দিলাম এই বছর। আমি ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি ভ্রমণ করতে অনেক পছন্দ করি। আমি মাঝে মাঝে কবিতা ও লিখি। আমার লেখা কবিতা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটা পত্র পত্রিকা এবং মেগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। কাব্যকলি বইতেও আমার লেখা কবিতা রয়েছে।
খানাপারা টিমকে অভিনন্দন জানাচ্ছি তাদের বিজয় লাভের জন্য। সেই সাথে শাহী পাড়া টিম কেও অভিনন্দন। কারণ দুই দলই মোটামুটি অনেক ভালো খেলেছে।এবং তুমি পুরো খেলাটিকে খুবই চমৎকারভাবে উপভোগ করেছ এবং আমাদের মাঝে শেয়ার করেছ।এজন্য তোমাকেও অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।♥♥
তুমি ঠিক বলেছো, খেলাটি আমি অনেক ইনজয় করেছিলাম। তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
প্রথমেই আমি থানাপাড়া টিমকে অভিনন্দন জানাতে চাই খেলায় বিজয়ী হবার জন্য। এই ধরনের ছোটবারে ফুটবল খেলা অনেকটাই আকর্ষণীয় হয়। আর যেহেতু পেনাল্টি হয়েছে তাহলে তো আকর্ষণের পরিমাণটা আরো বেশি হয়ে গিয়েছিল।
আপনি ঠিক বলেছেন ভাই পেনাল্টির জন্য খেলার আর্কষণ অনেক বেড়ে গিয়েছিলো।
এই ফুটবল টুর্নামেন্ট তাহলে অনেক বড়। ৩৬ দল এখানে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে ফুটবল খেলার দর্শক অনেক উপভোগ করে। নির্দিষ্ট ৬০ মিনিটের মধ্যে তো কোন দল গোল করতে পারে নাই শুনে সত্যি অবাক হলাম। কারণ দর্শক খেলাটি খুব সুন্দর করে উপভোগ করেছে। যাইহোক পেনাল্টি সময় থানাপাড়া দুই গোল দিয়ে জয়লাভ করেছে।থানাপাড়া টিমকে অভিনন্দন। আর আপনার খেলা অনেক প্রিয় সেটা আমি জানি। প্রায় সময় আপনি খেলা নিয়ে মাঝেমধ্যে পোস্ট করেন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
ভাইয়া এই পেনাল্টি দিয়েই গত বছর আর্জিন্টিনা বিশ্বকাপ নিয়েছে। বড় বা মিনি ফুটবল পেনাল্টির মজাই আলাদা। তখন বুক শুধু ধুক ধুক করে কাপে। দারুন এনজয় করেছেন। ধন্যবাদ।
পেনাল্টি এর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা অনেক ভালো ফুটবল খেলা আমাদের উপহার দিয়েছে। আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
৩৬ দল অংশগ্রহণ করা টুর্নামেন্ট তাহলেতো অনেক বড় টুর্নামেন্ট। ফুটবল খেলা বাংলাদেশ অনেক জনপ্রিয়। ৬০ মিনিট খেলার মধ্যে কেউ গোল দিতে পারে নাই তাহলে খেলাটি অনেক জমজমাট হয়েছে। তবে খেলাটি পেনাল্টি পর্যন্ত গড়িয়েছে। এবং ওখানে থানাপাড়া ক্লাব দুই গোল দিয়ে জয়লাভ করেছে।থানাপাড়া কেলাবকে অভিনন্দন। তবে খেলাটি দর্শক অনেক ইনজয় করেছে। ধন্যবাদ আপনাকে ফুটবল খেলা অনুভুতি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
আসলে ফুটবল খেলা দেখতে আমিও খুব পছন্দ করি কিন্তু সময় সাপেক্ষে যেন ফুটবল খেলা দেখতে পাই না। আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামে ফুটবল খেলা প্রতিনিয়ত চলছে কিন্তু সময়ের কারণে হয়ে ওঠে না। খুব সুন্দর একটি ফুটবল খেলার বিষয়ে আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন দেখি আমার খুবই ভালো লেগেছে সময় উপযোগী একটি খেলা এটি।