নিউলি ম্যারিড || নাটকের রিভিউ
নিউলি ম্যারিড নাটকের রিভিউ
সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আবারো একটি বাংলা নাটককে রিভিও করার চেষ্টা করেছি ও আপনাদের সাথে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
নিউলি ম্যারিড নাটকের কাহিনীটি বেশ রোমান্টিক ছিল। আমি সব সময় রোমান্টিক নাটকগুলো একটু বেশি দেখে থাকি। আর আমার কাছে নাটকের মধ্যে রোমান্টিক নাটকগুলোই বেশি ভালো লাগে। নিউলি ম্যারিড নাটকের মধ্যেও বেশ কিছু সিন ছিল যা অনেক বেশি রোমান্টিক। আর এই ভালোবাসাময় নাটক গুলো আমি দেখে যেমন মজা পাই তেমনি রিভিউ করতেও বেশ ভালো লাগে। আজকে আমি এই নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী আমি আমার নিজের মতো করে রিভিউ করার চেষ্টা করলাম। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | নিউলি ম্যারিড |
|---|---|
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| পরিচালক | মেহেদী হাসান হৃদয় |
| অভিনয়ে | মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল ও আরো অনেকেই। |
| প্রকাশিত | ৩ জুলাই ২০২৩ |
| সময় | ৪৪:৫৮ মিনিট |
নাটকের মূল কাহিনী শুরু |
|---|
নাটকের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই বাবা এবং মেয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বসে কথা বলছে। মেয়ের বাবার পছন্দ মতো আগেই মেয়ের বিয়ে হয়ে আছে একটি বাংলাদেশী ছেলের সাথে। কিন্তু মেয়ে কখনোই কোন বাঙালি ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না, কারণ মেয়ে ছোট থেকে দেশের বাইরে থাকে। বাংলাদেশের কোন কালচারের সাথে মেয়ের কোন কিছুই যায় না বলে সে ধারণা করে। কিন্তু বাবার পছন্দ বাঙালি ছেলে এবং বাংলাদেশের সবকিছু। আর তাই নিজের বন্ধুর ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে আরও আগেই দিয়ে রেখেছে। মেয়ের কথা হচ্ছে বাবাকে খুশি করার জন্য সে জাস্ট শুধু বিয়েটাই করেছে কিন্তু সে সংসার করতে পারবে না। আর এই কথা বলাতে বাবা বেশ রাগ করে। বাবা বলে ছেলে এখন দেশে থেকে আমাদের এখানে এক সপ্তার জন্য আসবে। ওর সাথে কথা বলবি, ঘুরবি , তারসাথে সময় কাটাবি ,তারপর সিদ্ধান্ত নিবি সে কি ভালো না খারাপ। তারপর সে তোর যোগ্য কি অযোগ্য সেটা বিবেচনা করতে পারবি।
এরপর দেশ থেকে ছেলেটি আসে। আসার পর থেকেই মেয়েটি ছেলেটিকে ইগ্নোর করতে থাকে সবকিছু মধ্যেই। একটা সময় ছেলে এবং মেয়ে বাহিরে যায় নিরিবিলি একটা পরিবেশে কথা বলার জন্য। তখন মেয়ে ছেলেকে বলে আপনি দেশ থেকে এখানে এসেছেন এক সপ্তাহ থাকেন, ঘুরেন তাতে আমার কোন সমস্যা নেই তবে আমি আপনাকে বিয়ে করেছি শুধু একমাত্র বাবাকে খুশি করার জন্য। আমি আপনার সাথে সংসার করতে পারবো না। একথা শোনার পর ছেলেটির মনটা একটু খারাপ হয়ে যায় ,তবে ছেলে নিজেই বলে এক সপ্তাহ পর এমনতো হতে পারে যে আমারই আপনাকে পছন্দ হয়নি। কথাগুলো আপনি আমাকে ফোনে বলে দিলেইপারতেন। আর এই কথা শুনে মেয়েটিও একটু অবাক হয়।
এই এক সপ্তাহের মধ্যে ছেলেটিকে নিয়ে বেশ কয়েক জায়গায় যায়। মেয়ের ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করিয়ে দেয় এবং সেখানে বেশ কিছু মজা কাহিনী ঘটে। মেয়েটি সব ক্ষেত্রে ছেলের দুষ খুঁজে বেড়াই এবং বাবার কাছে ফোন দিয়ে ছেলের দোষের কথা বলতে থাকে কিন্তু এতে বাবা কোনভাবেই বিশ্বাস করে না, কারণ ছেলে সম্পর্কে বাবা সবকিছু জানে যে ছেলে অত্যন্ত ভালো এবং ভদ্র এবং তার বন্ধুর ছেলে বলে কথা।
এরই মধ্যে ছেলে মেয়েটিকে সব ক্ষেত্রে অনেক বেশি কেয়ার করে। খাবার খাইয়ে দেয়। খাবার তুলে দেয় এবং সবকিছুতে অনেক বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করে আর এগুলোর মধ্যেই মেয়ের ভিতরে ছেলের প্রতি একটু ভালোলাগা ও ভালোবাসা কাজ করে ঠিকই কিন্তু বুঝতে পারেনা। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন মেয়েটি সে নিজের হাতে ছেলেটির জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে আসে কিন্তু সেই কপির মধ্যে মেশানো ছিল কোন একটা মেডিসিন যে মেডিসিনটা খেলে ছেলেটি অজ্ঞান হয়ে যেত। ছেলেটি মেয়েটির চালাকি বুঝতে পেরে চালাকি করে কফির কাপ পরিবর্তন করে ফেলে এবং ভালো কপির কাপ ছেলেটি খায় এবং মেডিসিন মিশ্রিত কফির কাপটি মেয়েটিকে খাওয়ায়। তৎক্ষণাৎ মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়।
এরপর তাকে নিয়ে হসপিটালে যায়, আর হাসপাতালে থাকাকালীন অবস্থায় ও বাসায় নিয়ে আসা পর্যন্ত সমস্ত কেয়ার ও ভালোবাসার প্রকাশ করে ছেলেটি। আর এত কেয়ার ও ভালোবাসা দেখে মেয়েটি ছেলেটিকেও ভালবাসতে শুরু করে ও স্বামী হিসেবে তাকে গ্রহণ করে ফেলে। একসময় ছেলেটি একটি চিঠি লিখে এয়ারপোর্টে চলে যায় দেশের ফেরত যাওয়ার জন্য কিন্তু মেয়েটি তার চিঠি পড়ে দ্রুত এয়ারপোর্টে চলে যায় এবং ছেলেটিকে খুঁজে বের করে। সেখানে গিয়ে তাদের দুজনের মিল হয় আর এখানেই সমাপ্ত ঘটে নাটকের।
ব্যক্তিগত মতামত |
|---|
ভালোবাসা সব সময় সুন্দর। কাউকে কখনো তার চেহারা দেখে তার মন মানোসিকতা বুঝার চেষ্টা না করাটাই ভালো। কারণ একটা মানুষের মন মানসিকতা কখনো তার চেহারায় ফুটে ওঠে না। তার কাজে-কর্মে তার ব্যবহারে ও তার ভালোবাসায় সবকিছু ফুটে ওঠে। মেয়েটি ছেলেটিকে না দেখেই না বুঝেই বলেছিল সেই ছেলে কখনোই আমার যোগ্য হতে পারে না, কিন্তু একটা সময় সেই ছেলেকেই সে ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়। আর এটাই হচ্ছে এই নাটকের শিক্ষনীয় বিষয় আপনারা চাইলে নিচে আমার দেয়া লিংক থেকে নাটকটি দেখে নিতে পারেন।
নাটকটির ইউটিউব লিংক |
|---|
আসলে ভালোবাসাটা সব সময় সুন্দর হয়, আর সেই ভালোবাসাটা কখনো চেহারা দেখে বুঝা যায় না। মানুষের আচার-আচরণ দেখেই এবং তার কেয়ার দেখে বোঝা যায় একে অপরের প্রতি ভালোবাসাটা। হয়তো মেয়েটি বলেই দিয়েছিল ছেলেটা তার যোগ্য না, কিন্তু অবশেষে সেই ছেলেটাকে কাছে টেনে নিয়েছিল। নাটকের শেষের মিলটা দেখে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ভালোবাসা গুলো যেন সবসময় এরকমই হয়।
আপু আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করেছেন নিউলি ম্যারিড। ফারহান এবং কেয়া পায়েলের অনেক নাটক আমার দেখা কিন্তু। আপনার এই নাটকটি আজও আমার দেখা হয়নি, দেখেই মনে হচ্ছে নাটকটি অনেক মজার ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি নাটক রিভিউ করার জন্য, আশা করি নাটকটি দেখে নেব।
নাটকটি আমি দেখেছি। ফারহান খুব ভালো অভিনয় করে। কিছু কিছু জায়গায় ভীষণ হাসির ছিল। আসলে নাটকটি বেশ ভালো লেগেছিল আমার। রেটিং পয়েন্ট আমিও এমনই দিতাম।
সর্ম্পূন রিভিউ পড়ে আর জায়গা গুলো দেখে মনে হয়েছে সম্পূর্ণ নাটকটি বিদেশে করা হয়েছে। ভালবাসার জন্য মন দরকার। যেটা ফারহানের ছিল। যার জন্য সে তার ভালবাসাকে জয় করেতে পেরেছে। ধন্যবাদ আপু।