ও প্রজাপতি || বাংলা নাটকের রিভিউ
ও প্রজাপতি বাংলা নাটকের রিভিউ
সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আবারো একটি বাংলা নাটককে রিভিও করার চেষ্টা করেছি ও আপনাদের সাথে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
অপূর্ব ও কেয়া পায়েলের নাটক যেন ইউটিউব জুড়ে সবখানেই। সুন্দর জুটির মধ্যে আমার কাছে এই দুজনের নাটক বেশ ভালো লাগে। তাই তাদের এই জুটির করা নাটকগুলো আমি যেন না দেখে থাকতে পারিনা। আজকে ও প্রজাপতি নাটকটি অসাধারণ একটি গল্প নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নাটকের শুরুর দিকে একরকম ভাবলেও কিন্তু নাটকের শেষের দিকে নাটকের পুরো গল্প পরিবর্তন হয়ে অন্যরকম হয়ে যায় যা বেশ সুন্দর একটি গল্প নিয়ে সাজানো। আজকে আমি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে নিজের মত করে এই নাটকের রিভিউ করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | ও প্রজাপতি |
|---|---|
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| পরিচালক | সোহেল আরমান |
| অভিনয়ে | অপূর্ব ও কেয়া পায়েল ও আরো অনেকেই। |
| প্রকাশিত | ১৭ জুন ২০২৩ |
| সময় | ৪৫:১৬ মিনিট |
নাটকের মূল কাহিনী শুরু |
|---|
ছেলেটি সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই। সে বাংলাদেশে থাকে না বললেই চলে। পরিবারের সকলেই দেশের বাইরে অর্থাৎ কানাডায় থাকে। সেখানেই সে পড়াশোনা করে ও সেখানে বড় হয়েছে। হঠাৎ করে কিছুদিন বেড়ানোর জন্য বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশের যত পর্যটক কেন্দ্রগুলো আছে সেখানে সে ঘুরে বেড়াবে এরপর আবার ফিরে যাবে। নাটকের শুরুতেই দেখতে পাই সে একটি ক্যামেরা হাতে নিয়ে স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষা করছে। ট্রেন আসলে সেই ট্রেন ধরে সে খুলনা যাবে ও সেখান থেকে সুন্দরবন।
সেই সময় সেখানকার স্টেশন মাস্টার এসে তার সাথে পরিচিত হয় ও তাকে বলে যে আপনার বড় ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে আপনার খোঁজখবর নিতে সে আমার খুব ক্লোজ বন্ধু। আর আমি আপনার সম্পর্কে সবকিছু জানি। এখানে তাদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় এরপর এখানে শুরু হয় নাটকের আসল গল্প। একটি মেয়ে দৌড়ে এসে তার পাশে ঘেঁষে বসে। সে জিজ্ঞাসা করলে তখন মেয়েটি বলে তুমি কেন রাগ করে বাসা থেকে চলে এসেছো ও আরো অনেক কিছু। সে এমনভাবে কথা বলছে যেন মেয়েটি সেই ছেলের ঘরের বউ আর সে রাগ করে ঘর থেকে বের হয়ে চলে এসেছে তাই সে স্টেশনে তাকে নিতে এসেছে। এগুলো নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হলে স্টেশন মাস্টার আসে এবং তাদেরকে নিয়ে একটি অফিস রুমে বসায়। তখন মেয়েটি তার ঘটনা খুলে বলে যে একজন লোক তাকে ফলো করছিল তাই আমি বাধ্য হয়ে আপনার সাথে অভিনয় করেছি। আর এগুলো করতে করতে তার খুলনার ট্রেন মিস হয়ে যায়।
মেয়েটি বলে মেয়েটিকে কেউ একজন ফলো করছে। আর সেই ছেলেটির সাথে ফেসবুকে বেশ কিছুদিন সম্পর্ক করেছে। আজকেই প্রথম সে ছেলেটির সাথে দেখা করতে আসলে দেখে ছেলেটি একটি সন্ত্রাসী টাইপের ছেলে। আর জোর করে তাকে বিয়ে করতে চায় আর এজন্যই সে ছেলেটির কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং তার বাবা মা দুজনেই ডিভোর্সি এবং দুজনেই আলাদা আলাদা ভাবে বিয়ে করেছে। তাই এখন তাকে তার বাবা-মা কেউই আগের মতো ভালোবাসে না। আর তাই সে তাদের কারো কাছেই ফিরে যাবে না। এখন সে কোথায় যাবে সেটাও ঠিকমতো বলছে না। তখন ছেলেটি পুরো কথা শুনে মেয়েটিকে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং বলে আপনি চাইলে আমার এখানে থাকতে যতদিন আমি বাংলাদেশে আছি।
মেয়েটি অনেক খুশি হয় ও তার বাসায় থাকতে থাকে। এরই মধ্যে ছেলেটি তার তার বড় বোনকে ফোন দিয়ে আনে আর সেই বড় বোনকে সবকিছু খুলে বলার পর মেয়েটিকে দেখতে যায়। তখন সে মেয়েটিকে দেখে এত বেশি পছন্দ করে যে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই যে ছেলেটির সাথে এই মেয়েটির বিয়ে দিবে ও এই মেয়েকেই এই ঘরের বউ বানাবে। আর এই কথা শুনে ছেলেটি বেশ অবাক হয়ে যায় আর বলে যে তুমি কিসের মধ্যে কি বলছ। মেয়েটি এখন বিপদে পড়েছে বলে আমি এখানে এনেছি। তুমি এর মধ্যে বিয়ের কথা কেন বলছ ? এভাবে অনেক কিছু হওয়ার পর মেয়েটির সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে মেয়েটি বলে যে আমি রাজি। তখন বড় বোন অনেক খুশি হয়ে তাদের বিয়ের কথাবার্তা বলতে থাকে।
এরই মধ্যে হুট করে একদিন মেয়েটিকে বাসায় কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমন সময় হুট করে স্টেশন মাস্টার ছেলেটিকে ফোন করে বলে যে ভাই আপনি এখনই তাড়াতাড়ি স্টেশন আসেন, মেয়েটির ব্যাপারে কিছু কথা বলব। তখন সে দ্রুত স্টেশনে গেলে সে দেখতে পায় মেয়েটি সেখানে অন্য আরেকটি ছেলের সাথে একই ঘটনা ঘটাচ্ছে। ঠিক প্রথম দিনের মতোই স্টেশনে একজন অপরিচিত লোককে বলছে যে তুমি কেন আমার সাথে রাগ করে বাসা থেকে চলে এসেছো। আর এমন ভাবে কথা বলছে যেন সেই ছেলেটি তার হাসবেন্ড। পাশেই দেখা যাচ্ছে একজন ডাক্তার ম্যাডামকে। আর ডাক্তার ম্যাডাম তখন তাকে সবকিছু খুলে যে সে একজন মানসিক রোগী। সে প্রেম করে এমন একটি রোগে আক্রান্ত হয়েছে সে মনে করে যে কেউ তাকে জোর করে বিয়ে করার জন্য জোর করছে ও কেউ তাকে পেছনে পেছনে তারা করছে। সে হসপিটালে ছিল আর সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে আর এই কথা শোনার পর ছেলেটির মনে অনেক দয়া হলো মেয়েটির জন্য। মেয়েটিকে তখন হসপিটালে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু যেতে চাচ্ছিলোনা আর তখন ছেলেটি বলে তুমি যাও আমি সবসময় তোমার সাথেই আছি। আর এখানেই শেষ হয় নাটকের গল্প।
ব্যক্তিগত মতামত |
|---|
ভালোবাসা এক ধরনের মায়া। ভালোবাসা তখনই সৃষ্টি হয় যখন একটা মানুষকে মনের গভীর থেকে তাকে নিয়ে চিন্তা করা হয়। ভালোবাসা তখনই সৃষ্টি হয় যখন একটা মানুষ তার কাছে কিছুদিন থাকার পর হুট করে হারিয়ে যায় কিংবা তার শুন্যতা অনুভব হয়। এই নাটকের কাহিনীটি এমনই কিছু গল্প নিয়ে নাটকটি সাজানো হয়েছে। নিচে দেওয়া লিঙ্ক থেকে আপনারা চাইলে নাটকটি দেখে নিতে পারেন। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
নাটকটির ইউটিউব লিংক |
|---|
আপু আপনি একদম ঠিক বলেছেন এই দুজনের নাটক দিয়ে ভরা।আমার ও আপনার মতো এদের নাটক দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। আপনি খুব চমৎকার ভাবে নাটকের রিভিউ পোস্ট শেয়ার করেছেন। আমার খুব ভালো লেগেছে। আশাকরি নাটকটি দেখবো।অনেক ধন্যবাদ আপু আপনাকে শেয়ার করার জন্য।
মাঝেমধ্যে নাটক দেখতে ভালই লাগে। কিন্তু সময়ের অভাবে অনেক সময় দেখা হয় না। খুব সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন আপনি। পুরো নাটকের রিভিউ পড়ে নাটকটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। সময় করে নাটকটি দেখব। এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপু।
ও প্রজাপতি নাটকটি দেখেছিলাম ঈদের ছুটির মধ্যে। নাটকটির গল্পটি অসাধারন ছিলো। অপূর্ব এবং কেয়া পায়েল এর জুটি ভীষণ ভালো লাগে। ভালোবাসা গুলো সত্যি অদ্ভুত। আপনার রিভিউ দেখে ভালো লাগলো ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
ব্যস্ততা ও সময় সল্পতার কারণে নাটক দেখা একদমই হয় না। তবে মাঝে মাঝে রিভিউ পড়ে খুব ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে উপস্থাপন করার জন্য ভালো থাকবেন সর্বদায়।
অপূর্বের নাটকগুলো সব সময়ই চমৎকার হয়ে থাকে। একটা সময় অপূর্বের কোন নাটক বের হলে সেটি খুঁজে খুঁজে দেখতাম। যদিও এখন সময় স্বল্পতার কারণে নাটক একদমই দেখা হয় না। মাঝে মাঝে রিভিউ দেখে কিছুটা হলেও উপলব্ধি করতে পারি। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।