আলোর পিছনে অন্ধকার (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব )
আলোর পিছনে অন্ধকার
মেয়েটি মনে করেছিল সে হয়তো আর কোনো দিন মা হতে পারবেনা। তার শারীরিক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু না সেই ভুল ধারণা ভেঙেছে তার। সে মা হতে চলেছে। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে খুশির সংবাদটা কি আসলেও খুশির ? একদিন অফিস থেকে মাত্র বাসায় ফিরলো স্বামী। ঠিক তখনি স্ত্রী স্বামীকে বললো তোমার সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে যা আমি তোমাকে বলতে চাই। তখন স্বামী সেই ভালোবাসার মানুষকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো ঠিক আছে বলো তুমি কি বলতে চাও তোমার সব কথা আজ আমি শুনবো। তখন স্ত্রী বললো আমি তোমাকে বলেছি ঠিকই যে আমি প্রেগনেট কিন্তু বাচ্চাটা আসলে তোমার না। এই কথাটা শুনার সাথে সাথে জড়িয়ে ধরা ভালোবাসার মানুষটাকে ছেড়ে দেয় আর সাথে সাথে যেন তার রূপ পরিবর্তন হয়ে যায়।
স্বামী - মানে বাচ্চাটা আমার না মানে কি ? তুমি আর কার সাথে কি করেছো ?
স্ত্রী - আমি চেয়েছিলাম তুমি যেন সত্যটা জানো। আমি চাইলেই তোমার কাছে সত্যটা লুকাতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটা চাইনি। তোমাকে আমি ধোকা দিতে চাইনি।
স্বামী - তুমি ধোকার কথা বলছো ? ধোকা শব্দটা তোমার মুখে মানাইনা। কত চেষ্টায় কত কষ্ট করে আমি আমাদের সম্পর্কটাকে আজকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছিলাম। তুমি যদি খুশি নাই ছিলে আমার সাথে তাহলে আমাকে বলতে কিন্তু এই ভাবে তুমি আমার সাথে প্রতারণা কেন করলে ?
স্ত্রী - দেখো আমার কথা শুনো। আমি ভেবেছিলাম আমি তোমার সাথে সবকিছু খোলাখুলি ভাবে বলে ফেললে হয়তো তুমি আমার কথা বুঝবে। কিন্তু আমার মনে হয়না তুমি আমাকে বুঝতে পারছো।
স্বামী - তোমাকে বুঝার মতো কি আছে ? তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী। আমরা একে অন্যের সাথে জোর করে এক ছাদের নিচে থাকিনি। চার বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক আমাদের তারপর আমরা একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি , বিয়ে করেছি , পরিবারকে ছেড়ে দিয়ে এসেছি কত কষ্টই না করেছি এই সবকিছুই তো তোমার আর আমার জন্য। আর সেই তুমি কিনা আমার সাথে এমন টা করলে ? আমার সাথে তোমার থাকতেই হবে এমন কথাতো তোমাকে আমি কখনো বলিনি।
স্ত্রী - একজন মানুষকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম আমি এটা সত্য কথা তাই বলে তার প্রতি আমার ভালোবাসা সবসময় একই রকম থাকবে এমনটাওতো না তাই না ?
স্বামী - কেন ? আমি কি তোমার খেয়াল রাখিনি ? তোমার যত্ন নেই নি? তোমাকে ভালোবাসিনি ? তোমার সব কাজে তোমাকে সাপোর্ট দিয়ে পাশে থাকিনি ?
স্ত্রী - থেকেছো। আমার পেটে যার সন্তান সেও আমাকে খেয়াল রাখতে পারবেনা তোমার মতো। তাই বলে তো এমন টা হতে পারে না যে আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসবো। অন্যকাউকে ভালোবাসতে পারবোনা।
স্বামী - কিন্তু আমার ভুল টা কোথায় হয়েছে ?
স্ত্রী - তোমার কোনো ভুল হয়নি। মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। তার শরীরের পরিবর্তন হয়। তার মনের পরিবর্তন হয়। আমারও পরিবর্তন হয়েছে। এখানে তোমার যেমন কোনো ভুল নেই আমার তেমন কোনো ভুল নেই।
স্বামী - ভুল নেই মানে ? ভুল নেই মানে কি বলতে চাচ্ছিস ?
এই কথা বলেই সে রাগে স্ত্রীর গলা টিপে ধরে। আর স্ত্রী কষ্ট সহ্য করতে না পেরে স্বামীকে এত জোরে ধাক্কা মারে যে সে তিন তোলার বারান্দা থেকে সে সোজা নিচে পরে যায় আর সাথে সাথে মাথা ফেটে সেখানেই মারা যায়। তার নিজের চোখে স্বামীর এই মৃত্যু দেখে সে মানুষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যাই আর একটা সময় পাগল হয়ে যায়। কোনো ভাবে পেতে থাকা বাচ্চাটাও মারা যায়।
আমরা এই গল্প থেকে এটা শিক্ষা নিতে পারি যে ভালোবাসার পাওয়ার কিংবা ক্ষমতা যতই থাকুক না কেন সেই ভালোবাসা একদিন বিষের চেয়েও আরো বেশি বিষাক্ত হবে যেদিন দুজনের মধ্যে তৃতীয় কোনো ব্যাক্তি প্রবেশ করবে। আমরা সবসময় যায় করিনা কেন কখনো কোনোভাবে নিজের পরিবার ও নিজের ভালোবাসার মানুষকে ঠকানোর চেষ্টাও করবো না। এতে করে ধ্বংস হবে নিজে ও ধ্বংস হবে সুখের সুন্দর পরিবার।
সমাপ্ত
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
আসলেই মানুষ পরিবর্তনশীল ৷ মানুষ সময়ের সাথে সাথে বদলে যায় , মনের পরিবর্তন ঘটে ৷ ভালো লাগার পরিবর্তন হয় ৷ তবে সব ক্ষেত্রেই নিজেকে পরিবর্তন করা উচিত নয় ৷ যাই হোক, যদিও গল্পটির প্রথম পর্ব পড়িনি তবে দ্বিতীয় পর্ব পড়ে বেশ ভালোই ৷ আসলেই ভালোবাসার সুন্দর সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তি এলে সেই সম্পর্ক খুব তারাতারি নষ্ট হয় ৷ ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর একটি গল্প শেয়ার করার জন্য ৷
আপু আমি প্রথম পর্ব পড়ে একটা কমেন্ট করে ছিলাম। কিন্তু আজ তো আমি পুরো মফিজ হয়ে গেলাম শেষ টা পড়ে। যা ধরণা করেছিলাম তার ধারে কাছেও নেই। আপু এটা কোন ভালোবাসা ছিল না। জাস্ট একটা মায়া ছিল, আর ছিল অভ্যাস। বলতে দ্বিধা নেই ঠিক এই রকম স্টেজ টাই আমি পার করেছি। এই রকম মনের কেউ হোক সে ছেলে অথবা মেয়ে, সে কখনো ভালোবাসতে পারে না। ভালো যেমন সবাই বাসতে পারে না, তেমন ভালোবাসাটাও সবাই আগলে রাখতে পারে না। মাঝ রাতে লেখাটা পড়ে কেমন একটা অস্বস্তি হলো সত্যি।
এমন ভালোবাসার মানুষ কোনো শত্রুর জীবনেও না আসুক।
আপু, আপনার গল্পটি খুবই সময়ে উপযোগী একটি গল্প। আপনার গল্পের মত অহরহ ঘটনা বর্তমান সময়ে সমাজে ঘটে যাচ্ছে। আসলে স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসার মধ্যে যদি তৃতীয় ব্যক্তি জড়িয়ে যায় তাহলে সে ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকে না. সেটা বিষে পরিণত হয়ে যায়। আর মানুষ পরিবর্তনশীল বলেই, নিজেদের ঘর-সংসার ভেঙ্গে, নিজেদের ভালোবাসার মানুষকে ধোঁকা দিয়ে পরিবর্তনশীল না হাওয়াই উত্তম।