জীবনের গল্প (সংসার ) - দ্বিতীয় পর্ব

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago

সংসার

garden-rose-red-pink-56866.webp

image source

প্রথম পর্ব

এর মধ্যে ব্যবসার জন্য অনলাইনে একটা পেইজ ওপেন করি আর সেখানে আমার ডিজাইন করা কাপড়ের ছবি আপলোড করি। সাতদিনের মধ্যে আমার তৈরি করা সাতটি কাপড় বিক্রি হয়ে যায় আর আমরা সেই আনন্দে আনন্দিত হয়ে ব্যবসায় আরো বেশি মনোযোগী হয় ও আগ্রহ প্রকাশ করি। আমি কাপড়ের ডিজাইন তৈরি করি আর সে কেনাকাটা,ডেলিভারি দেয়া ও টাকা পয়সার লেনদেন গুলো সামলাচ্ছে আর এভাবেই আমাদের দিন যাচ্ছে খুবই ভালোভাবে ও আনন্দের সাথে। আর এভাবেই পাঁচটি বছর কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না।

আর এই পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের ছোট্ট ঘর এখন একটা রাজপ্রাসাদের মতো। এখন আর আমাদের আলু ভর্তা আর ডাল ভাত খাওয়া হয় না আমার ঘরে এখন কাজের বুয়া আছে চারজন। কাপড় তৈরি করা বিশাল এক ফেক্টরিতে। পাঁচ পাঁচটা গাড়ি। সারাদেশে ভেলিভারি দেয়ার জন্য শত শত লোক। দেশে এবং বিদেশে ছড়িয়ে গেছে আমাদের নাম ও খ্যাতি। আমার তিনি হলেন এখন স্যার আর আমি হয়ে গেলাম মেডাম। সময়ের সাথে সাথে মানুষও নাকি অনেক বদলে যায়। এটা আমার নিজের সাথে কখনো ঘটেনি বলে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। নিজের সাথে যখন ঘঠলো তখন বুঝতে পারলাম। আমার দিক থেকে আমি ঠিক থাকলেও সে বদলে গেছে অনেকটা। সে হয়তো টাকার পাহাড়ে ডুবে গেছে আর সেখান থেকে আমাকে আর দেখতে পারছে না। সারাদিন সে এখন এত ব্যস্ততার মধ্যে থাকে যার কারণে সে আর আমার সাথে ঠিক মতো কথা বলতে পারে না। একসাথে বসে খাওয়া হয় না। কোনো নির্জন জায়গায় গিয়ে ভালোবাসার কথা বলা হয় না।

আমিও ব্যস্ত থাকি কিন্তু ব্যস্ততার মাঝেও তাকে সময় দেয়ার চেষ্টা করি কিন্তু আমার সময় দেয়াটাও যেন তার কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে গেছে। ইদানিং সে আমার সাথে কথা বলতে যেন খুব কষ্ট হয়, না পারতে কথা বলে। সবকিছু মিলিয়ে আমি নিজেও অতিষ্ট হয়ে উঠেছি। কেন জানি মনে হচ্ছে আমাদের বোধ হয় একসাথে থাকাটা আর হবে না। তার কারণ কি টাকা, বাড়ি, গাড়ি ? সে কি আমাদের অতীতের কথা ভুলে গেছে এত তাড়াতাড়ি। যখন আমি এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসে ছোট এই সংসারে আলু ভর্তা আর ডাল ভাত খেয়েও অনেক বেশি সুখে ছিলাম আর সেই আমি এখন এত কিছু পাওয়ার পরেও যেন সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছি। সে এখন তার নিজের কাজের জন্য পার্সোনাল মেয়ে এসিস্টেন্ট রেখেছে। সারাদিন সেই মেয়ের সাথেই ব্যবসা সম্পৃক্ত সবকিছু আলোচনা করে কিন্তু আমি নিজেও এই কোম্পানির মালিক তবুও সে এখন আমাকে জিজ্ঞাসা করে কিছুই করে না।

ইদানিং আরেকটা বিষয় খুব ভালো করে খেয়াল করছি। অফিস শেষে সেই মেয়ের সাথে বাহিরে ঘুরতে যায় কিন্তু আমাকে সময় দেয়ার মতো তার কাছে সময় হয় না। একদিন দুইদিন আমি আর এসব সহ্য করতে না পেরে তাকে ডিভোর্স এর কথা বলি ও কোম্পানি সবকিছু সমান ভাগে ভাগ করতে বলি। আর তখন সে এক কথায় রাজি হয়ে যায় যেন সে আমার কাছ থেকে এই কথাটা শুনার অপেক্ষায় ছিল। কিছুদিনের মধ্যে আমাদের ডিভোর্স হয় ও আমরা আলাদা হয়ে যায়।

টাকা পয়সা মানুষকে কখনো প্রকৃত সুখী করতে পারে না। অল্প খেয়ে অল্প পরেই যে সুখের সংসার করা যায় তা হয়তো বিশাল টাকার পাহাড়ে থেকেও এই সুখ অনুভব করা সম্ভব না। আমাদের প্রতিটা মানুষের উচিত অতীতের কথা মনে রাখা ও অতীতকে মনে রেখে সামনের দিন গুলোতে ভালো থাকার চেষ্টা করা। জীবনে প্রতিটি মানুষ অতীতে অনেক কষ্ট করে উপরের দিকে উঠে কিন্তু সেই উপরে উঠার কারণে যদি সে অহংকারী হয়ে উঠে ও ভালোবাসাহীন হয়ে উঠে তাহলে এই উপরে উঠাটায় জীবনের সবচেয়ে বড় বোকামি।

সমাপ্ত

1.png


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_vote.png


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

_

Heroism_3rd.png

Sort:  
 4 years ago 

আপু টাকা হলে মানুষ সাদা কে কালো বানায়।দিনকে রাত বানায় এটা হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি।আমি মনে করি যেসব মানুষ রাতদিন পরিশ্রম করে ডাল ভর্তা দিয়ে ভাত খায় তারাই বেশি সুখে আছে।টাকায় মানুষকে অমানুষ রূপে তৈরি করে।টাকার লোভে পড়ে মানুষ অহংকারী হয়ে যায় উশৃঙ্খল জীবন যাপন করতে অভ্যস্ত হয়।সুশিক্ষিত এবং মনুষ্যত্ববোধ আছে এমন মানুষ কখনো তার অতীতকে ভুলতে পারে না।

 4 years ago 
আসলে জীবন চলার জন্য টাকা দরকার। তবে অতিরিক্ত টাকাই অনেক সময় কষ্টের কারন হয়ে দাড়ায়।কারন প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে

অর্থই অনর্থের মূল।

সুখ হচ্ছে আপেক্ষিক বিষয়। যেখানে বিশাল বাড়ি,গাড়ির থাকার পরও সুখ থাকে না। সেখানে দিন রাত পরিশ্রমের মাধ্যমে সামান্য ডাল আর ভর্তার মাঝে সুখ থাকে।আসলে অনেক সময় আমরা যখন খারাপ অবস্থা থেকে খুবই ভালো অবস্থার মুখ দেখি।তখন নিজেদের অতীতের কথা ভূলে যাই।যা কখনও কাম্য নয়।আর তখনই নিজেদের আচরন বা কাজ কর্ম মনুষ্যত্ব থেকে অমনুষ্যত্বে রুপান্তরিত হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে,টাকা বা বাড়ি-গাড়ি কখনও সুখ বয়ে আনে না।সুখ নিজের মধ্যেই থাকে।তা মনুষ্যত্ব দিয়ে জাগ্রত করতে হয়।
 4 years ago 

টাকা মানুষকে আমূল পরিবর্তন এনে দেয়, আর এই পরিবর্তন আমি খুব কাছ থেকেই দেখেছি। আর এখন আপনার গল্পের মধ্যে একটি সুখী পরিবার কিভাবে তছনছ হয়ে গেল তা জানতে পারলাম। এত বিশাল বিশাল ফ্যাক্টরি, পাঁচ পাঁচ টি গাড়ি, অঢেল সহায় সম্পত্তি থেকে কি লাভ, যদি স্বামীকে কাছে না পায়, স্বামীর সাথে কথা বলার সুযোগ না হয়। অন্যদিকে মেয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট এর সাথে ঘুরে বেড়ানোর পর্যাপ্ত সময় তার স্বামীর হাতে থাকে। ব্যাপারটি খুবই গোলমেলে। আর তাইতো শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ডিভোর্সের কথা বলতেই হল। এসব কিছুর মূলেই রয়েছে টাকার অপব্যবহার। বেশি টাকা পয়সা হলে সুখ পালিয়ে যায়। আপু আপনার জীবনের গল্পটি খুবই শিক্ষামূলক, শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 4 years ago 

যখন অর্থ টাকা এগুলো ছিল না তারা সুখেই ছিল কষ্টে ছিল কিন্তু তাদের মধ্যে মিল ছিল ভালোবাসা ছিল। কিন্তু হঠাৎ এইরকম সফলতা ছেলেটাকে ক্রমেই মেয়েটার থেকে দূরে নিয়ে গেছে। তাদের সংসার এখন ভাঙনের পথে প্রায়। গল্পটা যেভাবে শুরু হয়েছিল আবার সেভাবেই যেন শেষ হলো মাঝে শুধু একটু সম্ভাবনা দেখিয়ে দিয়ে গেল। বেশ ভালো লিখেছেন।।

 4 years ago 

যে ভালোবাসার জন্য আপনি আপনার বাবা মা কে ফেলে চিরদিনের মতো চলে এসেছেন ৷ শুধু ভালোবাসার জন্য আজ সে ভালোবাসা অন্ধ ৷ একটা সময় অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে ভালোবাসার পূর্নতা পাবার জন্য কত কিছু করেছেন ৷ আর এখন অর্থনৈতিক প্রচুর থাকার পরেও আগের মতো ভালোবাসাটা আর নেই ৷ টাকা পয়সা দিয়ে ভালোবাসা হয় না ৷

এতো সুখে সংসার যে এমন পরিস্থিতি আসবে তা চিন্তা করা যায় ৷ যা হোক পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা ৷

 4 years ago 

বেশ ভালো লেগেছে আপু গল্পটি। টাকা আসলে যেমন মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দেয়,তেমন মানুষকে পরিবর্তন করে দেয়। আগেকার পরিবারগুলোতে অর্থ পয়সা ছিল না। কিন্তু পরিবারে সবার মধ্যে ছিল মিল ,ভালোবাসা ,আবেগ এবং যে অল্প একটু খাবার পেত সবাই ভাগ করে খেত। কিন্তু এখন মানুষের অডেল সম্পত্তি, টাকা পয়সা হলেও এ ভালোবাসা মিলা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিকই বলেছেন আপু টাকা-পয়সা মানুষকে প্রকৃত সুখ এনে দিতে পারে না।

 4 years ago 

যারা ডাল ভাত খেয়ে দিন কাটাই তারাই সুখী যাদের অনেক টাকা অনেক বাড়ি গাড়ি রয়েছে তারা জীবনে সুখী হতে পারে না। আপনি ঠিকই বলেছেন অর্থই অনর্থের মূল। সত্যিই সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন যেমন পরিবর্তন হয় তেমনি তাদের আচার-আচরণ ও পরিবর্তন হয়। আমাদের সবার উচিত অতীতের সেই কথাগুলো মনে রেখে এগিয়ে যাওয়া। কারণ অতীতে কি ঘটেছে তা যদি আমরা মনে না রাখতে পারি তাহলে কোন কিছুই করা সম্ভব না। টাকা পয়সা দিয়ে কখনো সুখ কেনা যায় না। সুখ নিজে থেকেই আসে। যারা অল্পতেই খুশি তারাই সুখী থাকতে পারে। এরকম বিষয়গুলো শিক্ষণীয় যার থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।

 4 years ago 

টাকা পয়সার কারণে মানুষ আরও বেশি অহংকারী হয়ে পড়ে সত্যি। মানুষের জীবনে টাকা পয়সা আসলে তারা অন্য মানুষকে অবহেলা করে। যার জন্য তাদের সুখী জীবন আগের মত সুখে থাকে না। টাকা পয়সা কখনো মানুষকে সুখ এনে দিতে পারেনা। তারা অতীতে ঘটে যাওয়া সকল ঘটনা ভুলে যায়। গরিব মানুষ সবসময়ই সুখে থাকে। কিন্তু বড়লোকেরা অহংকারের কারণে তাদের সুখী জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আপনি যে গল্পটি লিখেছেন শেষ পর্যন্ত তাতে ওই সংসারে স্ত্রী এবং স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গেল। খুবই খারাপ লাগলো গল্পটি পড়ে।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 59993.95
ETH 1578.05
USDT 1.00
SBD 0.42