কাপল রোম্যান্স নাটকের রিভিউ
কাপল রোম্যান্স নাটকের রিভিউ
সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি প্রথম বারের মতো একটি বাংলা নাটককে রিভিও করার চেষ্টা করেছি ও আপনাদের সাথে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
আমি সময় পেলে বাংলা নাটক দেখি। একটা সময় আমি শুধু হিন্দি ও তামিল মুভি গুলো দেখতাম। আস্তে আস্তে বাংলা নাটক দেখে বাংলা নাটকের এত ভক্ত হয়েছি যে বলে বুঝানো যাবে না। মাঝে মাঝে সময় পেলেই ইউটিউবে ঢুকে বাংলা নাটক দেখা শুরু করি। কাল রাতেই একটা বাংলা নাটক দেখলাম আর নাটকটি দেখে এতটা কষ্ট পেয়েছি যা বলে বুঝানো যাবেনা তাই ভাবলাম আপনাদের সাথে নাটকটির পুরো কাহিনী আমার নিজের মতো করে শেয়ার করি।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | কাপল রোম্যান্স |
|---|---|
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| পরিচালক | মেহেদী হাসান হৃদয় |
| অভিনয়ে | মুশফিক আর ফারহান, কেয়া পায়েল, জিয়াউর রহমান রনি, উর্মি জান্নাতুল ফেরদাউস। |
| প্রকাশিত | ২৭ এপ্রিল ২০২৩ |
| সময় | ৪২:০৩ মিনিট |
নাটকের মূল কাহিনী শুরু। |
|---|
শুরুতেই আমরা দেখি বিদেশের কোনো একটা জায়গায় প্রেমিকা কিছু ব্যাগ নিয়ে একটি বাসার সামনে অপেক্ষা করছে তার প্রেমিকের জন্য। সে অনেক কষ্ট করে বাসাটি খুঁজে বের করেছে এই বাসায় নতুন উঠবে বলে কিন্তু কোনো একটা কারণে সেই বাসায় তাকে ঢুকতে দিচ্ছিলনা বলে সে তার প্রেমিককে কল দিচ্ছে বার বার। সেই প্রেমিকতো ঘুমে বিভোর। সে পাঁচ মিনিট দুই মিনিট এমন আরো কিছু মিথ্যা কথা বলে অপেক্ষা করতে বলেই সে আবার ঘুমিয়ে যায়। একটা সময় বাড়ির মালিক বাসার দরজা বন্ধ করে বাসার ভিতরে চলে যায় আর বেচারা প্রেমিকা রাস্তার পাশে একটা বেঞ্চে খুব রাগ নিয়ে বসে থাকে।
তার বেশ কিছুক্ষন পর প্রেমিক ও তার বন্ধু আসে। এরপর বেশ কিছুক্ষন প্রেমিকের ও তার বন্ধুর উপর রাগ ঝাড়ে ও নতুন আরেকটি বাসা খুঁজে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু তারা তিনজনে মিলেও আর কোনো বাসা খুঁজে পেলোনা। এরপর সবকিছু নিয়ে প্রেমিকা প্রেমিকের বাসায় চলে আসে। কিন্তু সে মোটেও রাজি ছিলোনা এই বাসায় আসার তাই প্রেমিকা প্রেমিককে শর্ত দিয়েছে এই বাসার এক কর্নারের রুমে সে থাকবে আর আরেক কর্নারের রুমে প্রেমিক থাকবে। এরপর সকল রান্নাবান্না, কাপড় পরিষ্কার করা , রুম ক্লিন করা সবকিছু প্রেমিক করবে প্রেমিকা কিছুই করতে পারবেনা।
এরপর আসে রাতে থাকার পালা। রাতে যখন প্রেমিকা তার নিজের রুমে প্রবেশ করবে তখন প্রেমিক শুধু একটা মিথ্যা কথা বলে যে রাতে যেন কোনো ভাবেই জানালা না খুলা হয় কারণ পাশের বাসাটা হন্টেড। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে। প্রেমিকা শুরুতে বিষয়টাকে পাত্তা না দিলেও রুমে ঢুকার পর তার মাথায় এই কথাটা খুব ভালো করে গেথে যাই ও প্রচন্ড ভয় পাওয়া শুরু করে। এরপর আর কি আস্তে আস্তে চুপি চুপি করে প্রেমিকা চলে যাই প্রেমিকের রুমে। সেখানে গিয়ে তাদের বেশ কিছুক্ষন ভালোবাসা কথা আধান প্রধান করা হয়।
এরপর নাটকের একটা পর্যায়ে প্রেমিকা প্রেমিকের হাত ধরে কান্না করছে। তখন তাকে কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে বাংলাদেশে থাকা তার পরিবার থেকে খবর এসেছে তার বাবা খুবই অসুস্থ তাকে খুব তাড়াতাড়ি দেশে যাওয়ার কথা বলছে। তার পর তাকে সান্তনা দিয়ে দেশে যাওয়ার কথা বলে আর তখন প্রেমিকা তার প্রেমিককে অনেক গুলো শর্ত দিয়ে যায় যেমন - আমি না থাকলে তুমি কোনো পার্টিতে যাবেনা, কোনো ক্লাবে যাবেনা, উল্টাপাল্টা কিছু খাবে না, আমাকে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় কল করবে আর আমি কল দিলে তোমার হাজার কাজ থালেও আমার কল ধরবে ইত্যাদি।
প্রেমিকা দেশে চলে যাই কিন্তু আর কোনো খবর নেই। এদিকে প্রেমিকের অবস্থা টেনশন করে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একটা পর একটা কল দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ফোন বন্ধ পাচ্ছে আর এভাবেই চলে গেলো পনেরো দিন। আর ঠিক পনেরো দিন পরেই সেই প্রেমিকা প্রেমিকের নাম্বারে কল করে আর প্রেমিক কল ধরেই অনেক গুলো কথা শুনিয়ে দেয় কারণ সে কেন টানা পনেরোটা দিন তারসাথে যোগাযোগ করেনি। আর ঠিক তখনি ওপর পাশ থেকে প্রেমিকা বলে উঠে তার বিয়ে হয়ে গেছে। বাবা তাকে মিথ্যা অসুস্থতার কথা বলে দেশে এনে তার এক বন্ধুর ছেলের সাথে একপ্রকার জোর করে তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। সেই সময়ে তার মোবাইল টাও নিয়ে নেই যাতে করে সে তার প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। আর এই কথা শুনার পর প্রেমিকের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিলো তার আর বেঁচে থাকার কোনো আশায় নেই। প্রচন্ড কষ্টে ভুক পাঠিয়ে চাপা কান্না করছিলো। আর এখানেই নাটকের সমাপ্তি ঘটে। সত্যি বলতে শেষে এই অংশটুকো দেখে আমি নিজেও কান্না করে দিয়েছিলাম।
ব্যক্তিগত মতামত |
|---|
ভালোবাসার মানুষকে হারানোর কষ্ট হয়তো পৃথিবীর কেউ সহ্য করতে পারে না। ভালোবাসা এমন একটা মায়া এমন একটা বন্ধন যা হারিয়ে গেলে কিংবা চলে গেলে নিজেকে সামলিয়ে নেয়া খুবই কষ্টের। নিজের সাথে নিজেকে এক প্রকার যুদ্ধ করে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। কিন্তু তখন বেঁচে থাকার ইচ্ছাও যেন শুন্য হয়ে যায়। ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে কাপল রোম্যান্স বাংলা নাটকটি খুবই ভালো লেগেছে। আপনারা চাইলে এই নাটকটি আমার দেয়া লিংকের মাধ্যমে দেখে নিতে পারেন।
নাটকটির ইউটিউব লিংক |
|---|
আপু, আপনার দেখা "কাপল রোম্যান্স" নাটকটির রিভিউ পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। সত্যি আপু ভালোবাসা এক অন্য ধরনের মায়া। যেটা কখনোই ভুলে থাকা সম্ভব নয়। প্রেমিকার জন্য নাটকে প্রেমিকের অবস্থাটা সত্যি অন্যরকম হয়ে গেছে। আপু সময় পেলে অবশ্যই এ নাটকটি খুবই মনোযোগ সহকারে দেখব। দারুন একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
একদম ঠিক কথা বলেছেন আপু। বাংলাদেশ এর নাটক গুলো এত বেশি ভালো লাগে যে আপনাকে বলে বুঝাতে পারবো না। এবার ঈদের মধ্যে চমৎকার চমৎকার নাটক রিলিজ পেয়েছে । ফারহান এর নাটক গুলো আমার কাছে ভালো লাগে। কেয়া পায়েল চমৎকার অভিনয় করেন। আপনার রিভিউ দেখে ভালো লাগলো। নাটকটি আমি দেখেছি। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
নাটক আমার খুব একটা দেখা হয়না তবে এই প্ল্যাটফর্মে রিভিউ পড়ে অনেক নাটক দেখেছি। আপনি কাপল রোমান্স নাটকের খুব সুন্দরভাবে রিভিউ শেয়ার করেছেন। নাটকের শুরুর দিকে বেশ রোমান্স হয়েছে। কিন্তু দেশে ফেরার পর নায়িকার বাবা এভাবে জোর করে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে এটা খুবই খারাপ লেগেছে জেনে। এটা আসলেই কোন প্রেমিক সহজে মেনে নিতে পারবে না। ধন্যবাদ আপু।
আশা করি আপু ভালো আছেন? বেশ চমৎকার নাটকের রিভিউ করেছেন আপনি। যদিও নাটকটি আমার দেখা হয় নি তবে আপনার রিভিউ মাধ্যমে নাটকটি সম্পর্কে জেনে খুব ভালো লাগলো। আপনার নাটকের উপস্থাপন সত্যি বেশ দুর্দান্ত। আসলে ভালোবাসা খুবই অদ্ভুত । যাকে ভালোবাসা যায় ঐ মানুষ যদি জীবন থেকে হারিয়ে যায় তা মেনে নেওয়া অনেক কষ্টকর। ভালোবাসার প্রিয় মানুষ ছাড়া জীবন পাতা ছাড়া গাছের মতোন। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর নাটক আমাদের মাঝে রিভিউ করার জন্য।
একটা সময় হিন্দি মুভি অনেক দেখা হতো এবং মাঝে মধ্যে তামিল মুভিও দেখতাম। তবে কয়েক বছর যাবৎ সময় পেলেই বাংলা নাটক দেখি। আমার কাছে খুব ভালো লাগে। ফারহান এবং কেয়া পায়েল এর নাটক দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এই নাটকের শেষের দিকটা পড়ে সত্যিই খুব খারাপ লাগলো। কারণ হ্যাপি এন্ডিং হয়নি। সময় পেলে নাটকটি অবশ্যই দেখবো। যাইহোক এতো সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপু।
আপু আমিও সুযোগ পেলেই বাংলা নাটক দেখি।আমাদের দেশের নাটকের তুলনা হয়না।আপনার আজকের নাটকের রিভিউ পড়ে নাটকটি দেখার খুব ইচ্ছা হচ্ছে। সময় সুযোগমত দেখে নেব।ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
মুশফিক ফারহান মানেই হৃদয় ছুয়ে যাওয়া নাটক,
কাছের মানুষকে হারানো ভয়ংকর কষ্ট
কাছের মানুষ কে যে হারিয়েছে শুধু সেই জানে কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা কতটা
ফারহান আর কেয়া পায়েলের দারুন একটা নাটক এটা। আমার এমনিতে এদের নাটক দেখতে বেশি ভালো লাগে। তাই মাঝেমধ্যে এন ফারহানা নাটক দেখে থাকি। আমার খুবই ভালো লাগলো এত সুন্দর একটি নাটক আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে দেখিয়েছেন দেখে। আশা করি পরবর্তীতে আপনি আবারও আমাদের মাঝে এমন সুন্দর সুন্দর নাটক রিভিউ করে দেখাবেন আপু।
আসলেই আপু বাংলাদেশের প্রতিটি নাটক কিন্তু বেশ সুন্দর হয়। আর ঈদ আসলে তো আর কথাই নেই। কোন টা রেখে কোন টা দেখবো। যাই হোক আপনি বেশ সুন্দর ভাবে কাপল নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন। নাটকটি বেশ সুন্দর । সময় করে নাটকটি একাবার দেখবো। কারন কেয়া পায়েল এবং মুশফিক আর ফারহান দুজনই আমার বেশ প্রিয়।
কাপল রোম্যান্স বাহ আপু খুব চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ করেছেন। নাটকটি যদিও এর আগে দেখা হয়নি। তবে আপনার রিভিউ পড়ে দেখার ইচ্ছে পোষণ করছি। ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য।