বিধবা নারীর প্রেমের গল্প
বিধবা নারীর প্রেমের গল্প
আমি যখন ছোট ছিলাম তখন একটা মানুষকে যমের মতো ভয় পেতাম। আর তিনি হলেন আমার স্বামী। খুব অল্প বয়সে বাবা আমার বিয়ে দিয়ে দেয় উনার সাথে। মাছকে বড়শি দিয়ে ধরলে যেমন আর ছুটে যেতে পারেনা আমার অবস্থাটাও ঠিক তেমনি হয়েছিল। আমার সবসময় এমন মনে হতো যেন কেউ একজন বড়শি দিয়ে আটকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে এক গভীর জঙ্গলের ভিতর, তার হাত থেকে বাঁচার যেন কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে বিয়ের ঠিক দুই বছর পরেই কোনো এক দুর্ঘটনায় আমার স্বামী মারা গেলো। আর সে মারা যাওয়ার কারণে তার পুরো পরিবার আমাকে দোষারোপ করতে চাইলো। আমি নাকি অলক্ষনি অকল্যানকর একজন মানুষ। আমার সাথে যারই বিয়ে হবে সেই এভাবে মারা যাবে। আর এগুলো শুনে আমার আত্মীয় স্বজনরা সবাই মিলে আমাকে সেখান থেকে মুক্ত করে আনে। আমি যেন গিলে ফেলা বড়শি থেকে মুক্ত হয়ে আবার নতুন করে বাঁচতে শুরু করলাম।
আমি খুব আনন্দের সাথে বাবার বাড়ি চলে আসলাম। দিন যাই রাত যাই তার সাথে সাথে বয়সও বাড়ে। যদিও মানুষ আমার সামনে কখনো কিছু বলতোনা তবুও আমি জানতাম আমার মতো রূপ যেখানে সেখানে পাওয়া যায়না। আমি আমার রূপ নিয়ে কিছু না বললে হয়তো আপনারা আমার এই গল্পের অর্থ বুঝতে পারবেন না। পুরো গ্রাম জুড়ে কেবল আমি ছিলাম সৌন্দর্যরুপি ফুলের মতো। আমি যখন চলতাম তখন নিজেই অনুভব করতাম একখন্ড হীরার খন্ড নাড়ালে তার চারদিক থেকে যেমন আলো ঝকমক করে উঠে ঠিক তেমনি আমার শরীরের প্রতিটি খন্ডে এমন সৌন্দর্যের আলো ঝকমকিয়ে উঠতো। আমি মাঝে মাঝে অনেক সময় নিয়ে নিজেই নিজের হাত গুলো দেখতাম। কি অপরূপ সৌন্দর্য তার। আবার মাঝে মাঝে বিধবার সাদা শাড়ি খুলে হলুদ রঙের একটি শাড়ি পড়ে, হাতে কিছু চুড়ি পড়ে ও খোঁপায় বেলীফুলের মালা দিয়ে আয়নার সামনে বসে থাকতাম আর ঘন্টার পর ঘন্টা তাকিয়ে থাকতাম নিজের সৌন্দর্যের দিকে।
বাবা কিছুদিন হলো চলে গেছে আমাদের ছেড়ে। এখন ঘরে শুধু আমার বড় ভাই ও আমি। একদিন হুট করে কি জানি মনে করে ভাইয়ার ঘরে গিয়ে বলতে লাগলাম আচ্ছা ভাইয়া তুমি এখনো বিয়ে করছোনা কেন ? বাড়িতে একা একা কি ভালো লাগে। ভাইয়া উত্তরে বললো কেনোরে হটাৎ এই কথা আমি আছিনা এই বাড়িতে ? আর যদি আমি বিয়ে করে ফেলি তাহলে তো তুই আমাকেও পাবিনা। হয়তো সবসময় তোর ভাবি আমাকে কিছু না কিছুতে ব্যাস্ত রাখবে। আমি বললাম কেন ভাইয়া এমন কেন হবে। তোমার জন্য দশ গ্রাম দেখে এমন একটা লক্ষি বউ নিয়ে এসব যাতে করে আমাদের কাউকে কোনো রকম আলাদা হতে না হয়। ভাইয়া এই কথা শুনে হেসে চলে গেলো।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
গল্পের শুরুটা বেশ আগ্রহ সৃস্টি করলো পরবর্তি পর্বগুলো পড়ার । পরবর্তি পর্বগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম। অনেক শুভ কামনা।
এটা সত্যি যে কিছু সমাজে এখনো এসব বিস্বাস করে ৷ স্বামী মৃত্যুর জন্য দায়ী তার স্ত্রী ৷ জানি না এটা কোন নিতী ৷ যখন জন্ম মৃত্যু আলাদা সবাকে নিজ নিজ যেতে হবে ৷ তখন কেন একজন মৃত্যুর জন্য আরেক জন দায়ী হবে ৷
যা হোক এখন বিধবা মেয়েটি তার বাবার বাড়িতে ৷ পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা ৷
আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে তারা ভাবে কোন মেয়ের স্বামী মারা গেলে সেই মেয়ে নাকি অলক্ষী। তারা এগুলো মন থেকে বিশ্বাসও করে। কিন্তু তারা এটা মানতে চায় না জন্ম,মৃত্যু সব সৃষ্টিকর্তার হাতে। যাইহোক গল্পের প্রথম পর্ব পড়ে খুব ভালো লাগলো আপু। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।