আমি তিথি (গল্পের দ্বিতীয় পর্ব )
আমি তিথি
ঐখানে যেকোনো মানুষ আর্ট শিখতে পারে। যাদের টাকা পয়সার অভাব নেই তাদের কাছ থেকে নাম মাত্র একটা বেতন নেই আর বাকিদের বিনে পয়সায় আর্ট শেখাই। আমার কাছে টাকা পয়সা কিছুই না...আসল হচ্ছে মানুষের সাথে মেশা, তাদেরকে কিছু শেখানো। এইসব নিয়ে আমার চেয়ে বেশি গর্ব আমার বন্ধুদের। কিন্তু আমার মায়ের, বড়ো খালার আর কিছু মানুষের এইসবে কোনো তৃপ্তি নেই। তাদের ভাষ্যমতে আমি যা করছি তার কোনো অর্থই হয় না, এইসবে নাকি জীবন চলে না। কই...আমি তো দেখছি দারুন চলে যাচ্ছে। মাস শেষে নিজের থাকা খাওয়ার খরচ জুগিয়ে ঘরেও কিছু দেয়ার মত সামর্থ্য আমার হয়ে গেছে।
ওদের এইসব চোখেই পড়ে না। সারাদিন শুধু আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের বসে থাকা, ঘাটাঘাটি করা...এই ছাড়া তাদের বোধহয় দুনিয়াতে আর কোনো কাজই নেই। কদিন ধরেই নতুন কিছু করার কথা ভাবছি আবার আর এই নিয়েই এখন তাদের সমস্ত অভিযোগ। এইজন্য দুইদিন পর পর আমি কি করছি না করছি সেটা নিয়ে তাদের আসর বসানো হচ্ছে। আমি ওদের সাথে এইসব নিয়ে তর্কতে যাই না। যার যা মনে আসে বলুক, আমি শুনতে ভালই লাগে। নিজের মধ্যে কেমন একটা বিখ্যাত বিখ্যাত ভাব জাগে তখন এই ভেবে যে সবার মুখে মুখে আমি, আমাকে নিয়ে কথার শেষ নেই তাদের। ব্যাপারটা একই সাথে হাস্যকর আবার সুন্দরও বটে!
নতুন কিছু নিয়ে ভাবছি বলতে আমার লিখা বেশ কয়েকটা গল্প জমেছে আমার গল্পের ডায়েরিতে। ওইগুলো বইমেলায় এইবার বের করবো তাই নিয়েই ভাবছি।বন্ধুদের সাথে এই নিয়ে আলাপ করেছিলাম গতাকাল। ওদের কথা শুনে নিজের প্রতি বিশ্বাস আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেছে। ওরা পাশে আছে বলেই হয়তো আজকে এতকিছু করতে পারছি একসাথে। ইদানীং তাই এই গল্পগুলো কাটছাট করা, কোনটা ভালো কোনটা খারাপ সেটা নিয়ে আলোচনা...মোটামুটি একটা ব্যাস্ত সময় পার করছি। আর সেইজন্য দুইদিন পর পর ভার্সিটি যাই। টুকটাক মিস দিচ্ছি ক্লাস....
- এইভাবে পড়ে পড়ে আর কত ঘুমাবি?

খালা এক কাপ চা খাওয়াও তো...
সে কি কথা! নিজে যেখানে উঠে খালাকে চা বানিয়ে খাওয়াবি...সেখানে আমাকেই বলছিস! তোর সবকিছু এরকম উলটাপালটা কেনো শুনি? আসার পর থেকে তোর নামে একটার পর একটা কথা শুনেই যাচ্ছি আমি। এইযে টাকা পয়সা ছাড়া মানুষকে পড়াচ্ছিস...এতে কি লাভ? তোর ফায়দাটা কোথায় আমাকে একটু বুঝা। এইসব আর্ট, গল্প লিখে কি হবে? আছে কোনো ভবিষ্যৎ?
তোমাদের কাছে ভবিষ্যৎ কোনটা?
শোনো মেয়ের প্রশ্ন! বড় হয়েছিস...এখন একটা ভালো দেখে বিয়ে দিবো, সংসার করবি,বাচ্চা পালবি, ওদের নিয়ে থাকবি....কত সুন্দর! আমাদের তখন আর কোনো চিন্তা নেই।
ওহ্ আচ্ছা...এখন হাতমুখ ধুয়ে বাইরে বের হবো । তোমার সাথে বিকেলে কথা হবে। তুমি যাও এখন...সকালের নাশতা করো গিয়ে...
ভালো কথা বললেই তো আর তোর শুনতে ভালো লাগে না.. লাগবেও না।সময় গেলে তখন বুঝবি।
এই বলতে বলতে খালা চলে গেলেন রুম থেকে। আমি খুব ভালোই জানি তাদের কাছে মেয়েদের ভবিষ্যৎ মনে কি। তাই আর কথা বাড়াই না তাদের সাথে।যারা বুঝেও বুঝতে চায় না তাদের সাথে কথা না বলাই ভালো।
(চলবে..........)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
_
তিথির ব্যাপারে যতই জানছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আসলেই আমাদের দেশের অনেক পরিবারের চিন্তা ভাবনা এখনও আদি যুগের মতোই। তারা এখনও ভাবে যে মেয়েদের বিয়ে দিবে, সংসার করবে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে মেয়েদের জীবন। কিন্তু তারা জানলেও মানতে চায় না, মেয়েরা এখন পুরুষদের সাথে সমান তালে অগ্রসর হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে। যাইহোক তিথির মত মেয়েরাই পারবে তিথির মা, খালার মতো মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম আপু। আপনার জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল। ভালো থাকবেন সবসময়।
আমি তিথি গল্পটির প্রথম পর্বটি আমার পড়া হয়নি।তবে দ্বিতীয় পর্বটি পড়ে আমি বুঝতে পারলাম, তিথি খুবই উদার মনের একটি মেয়ে যে সবাইকে প্রায় বিনামূল্যে আর্ট শেখায়। কিন্তু তার মা, বড় খালা এবং আরও কিছু মানুষের এটাতে আপত্তি বলে তিনি এও বলেছেন যে এই এর ফলে তার খেয়ে পড়ে চলে তো যাচ্ছে এবং তিনি সংসারেও কিছু আর্থিক যোগান দিতে পারছেন ,তাই এর থেকে বেশি কিছু দরকার নেই। তার এই উদারতা দেখে আমি খুব খুশি হয়ে গেলাম। তিথির বন্ধু বান্ধবীরা তার সাথে আছে বলেই সে এত দূর এগিয়ে যেতে পারছে সেটা জেনে খুব ভালো লাগলো। কিন্তু তার বড় খালার মনোভাব একেবারেই ভালো না।