বাস্তব ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় একটি গল্প
শিক্ষণীয় একটি গল্প
বেশ কয়েকদিন ধরে ভাবছি শপিং করবো সাথে কিছু ঘরের জিনিসপত্র কিনবো কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিনা। আর এটাই স্বাভাবিক বর্তমান সময়ে সবাই এতটা ব্যস্ত থাকে যে হুট করে চাইলে বাসা থেকে বের হওয়া যায় না। যাইহোক আর যেভাবেই হোক বেশ কিছুদিন পর সময় করে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম শপিং করার আশায়। বাসা থেকে বের হয়ে একটা রিকশা নিলাম মার্কেটের নাম বলে। তবে মার্কেটে যাওয়ার আগেই ঘরের সুন্দর কিছু জিনিস পত্র দেখে রিকশা দাঁড়ানোর কথা বলে আমি নেমে গেলাম ও সেই দোকানে ঢুকে গেলাম। দোকানের ভিতরে এক দোকান দুই দোকান দেখতে দেখতে বেশ ভিতরে চলে গেলাম। দোকানের ভিতরের জিনিসপত্র দেখতে লাগলাম ও দামাদামি করতে লাগলাম কিন্তু এতক্ষনে আমি ভুলেই গিয়েছি যে আমি ভাড়া না দিয়ে রিকশা দাড় করে এসেছি অল্প কিছুক্ষনের কথা বলে।
এতক্ষনে সময় প্রায় আধাঘন্টা চলে গেছে বেশ কিছু জিনিসও কিনা হয়েছে। হটাৎ করেই আমার মনে পড়লো রিকশা ওয়ালার কথা। রিকশা হয়তো এটাই ভাববে আমি টাকা মেরে দিয়ে চলে গেছি। মনে মনে ভাবছি হায় আল্লাহ এখন গেলে ওই লোক আমাকে নির্ঘাত অনেক গুলা কথা শুনাবে। এমনও হতে পারে এতক্ষনে চলে গেছে। যাইহোক এই কথা সেই কথা ভাবতে ভাবতে সেখানে গেলাম ও দেখলাম এখনো সেই রিকশা চালক দাঁড়িয়ে আছে। আমি রিকশায় উঠলাম ও মার্কেটের দিকে যেতে বললাম। আমি শুধু অপেক্ষায় আছি লোকটার কাছ থেকে কিছু কথা শুনার কিন্তু আমার ভাবনা চিন্তা সম্পূর্ণ পাল্টে গেলো। অবাক হয়ে আমি নিজেই তখন লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলাম মামা আমি এত দেরি করলাম আপনি কি ভেবেছেন আমাকে নিয়ে? আমি আপনারা টাকা মেরে দিয়ে চলে গেছি ? উনি বললো হ্যাঁ আমি কিছুক্ষন অপেক্ষার পর এটাই ভেবেছিলাম , কারণ এমন ঘটনা আমাদের রিকশা ওয়ালাদের সাথে প্রায় ঘটে। কিছুক্ষন দাঁড়ানোর কথা বলে আর ফিরে আসে না। তখন আমি আবার বললাম আচ্ছা মামা যখন আপনি দেখলেন আমি দেরি করছি তখন আপনি আমাকে খুঁজতে যাননি কেন ? তখন লোকটি উত্তরে বললো আমার এই পঞ্চাশ টাকা ভাড়া খুঁজতে গিয়ে যদি আমার এত দামের রিকশাটা চুরি হয়ে যাই তখন আমি কি করবো। আমি একটু অবাক হলাম উনার কথা শুনে। আমি আমার বললাম তাহলে আপনার কি আমার উপর রাগ হয়নি আমি আশার পরতো আপনি আমাকে কিছু বলতে পারতেন ? তখন লোকটি জবাবে বললো আমি আপনাকে কিছু বললে যদি আবার আপনি রাগ করে আমাকে ভাড়া না দেন তাহলে ক্ষতিটা আমার এই হবে।
লোকটির এই চমৎকার চিন্তাধারা দেখে আমি সত্যি অনেক অবাক হয়ে গেলাম আর এই রিকশা ওয়ালা থেকেও আমাদের জীবনের অনেক কিছুই শিক্ষার নেয়ার আছে। আমাদের কখনো কোনো মানুষকে ছোট করে দেখা উচিৎ না ও কারো সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করাও উচিৎ না। নিজেকে সবসময় সকলের সামনে এমন ভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন যাতে করে যে কেউ আপনাকে ভালোবাসে ও আপনার জন্য দুআ প্রার্থনা করে। আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অল্পতেই হুটহাট করে রেগে যায় ও খারাপ ব্যবহার করে কিন্তু সে এটা চিন্তা করে না অথবা বুঝতে পারে না যে তার এই রাগের কারণে ও খারাপ ব্যবহারের কারণে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও নিজের সম্মানটা কতটা নিচে নেমে যাচ্ছে।
এই শিক্ষণীয় বিষয়টা বুঝানোর জন্যই আমি পুরো ঘটনাটা নিজের মতো করে সাজিয়েছি। এটা আমার সাথে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা না। আশাকরি আপনাদের কাছে আমার লেখা গল্পটি ভালো লাগবে ও এই গল্প থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
সমাপ্ত
আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে



কথায় আছে মানুষ শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করলেই স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সমাজের খেটে খাওয়া মানুষদের কাছেও অনেক কিছু শেখার থাকে। আসলে তাদের চিন্তাধারা দেখলে মাঝে মাঝে অনেক ভালো লাগে। প্রতিনিয়তই আমরা এমন কিছু মানুষের থেকে শিক্ষা লাভ করতে সক্ষম হই। সত্যি আপু রিক্সাওয়ালা ভাইটির ব্যবহার অনেক ভালো লাগলো। আসলে ভাইটির চিন্তাধারা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপু আপনার এই পোষ্টের মাধ্যমে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় তুলে ধরেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমাদের দেশে অনেকেই আছে যারা রিক্সাওয়ালাদের সাথে খুবই খারাপ ব্যবহার করে। তাদেরকে অনেক অপমান করে যার জন্য তারা অনেক কষ্ট পায়। আপনার উপর কিন্তু লোকটি অনেক রাগ করতে পারতো কিন্তু করেনি সত্যি আমরা অনেক রিক্সাওয়ালাকে দার করিয়ে অনেক জায়গায় চলে যায় তারপর ভুলে যাই। আমাদের এরকম ছোট ছোট ভুলের জন্য তারা অনেক কষ্ট পেয়ে থাকে। এরকম রিক্সাওয়ালার কাছ থেকেও কিন্তু আমরা অনেক শিক্ষা আদায় করতে পারি। খুবই ভালো লিখেছেন আপনি পড়ে ভীষণ ভালো লাগলো।
গল্পটি অনেক বাস্তব সম্মত।তবে উনি ভাল মানুষ,এমন অনেক রিক্সাওয়ালা আছে খুচরা আনার কথা বলে টাকা নিয়ে যায়,আর আসে না।এরকম ভাল মানুষরা আছে দেখেই দুনিয়া চলতেছে।তবে সব লোকের থেকেই শেখার কিছু না কিছু। ধন্যবাদ আপু সুন্দর শিক্ষামূলক একটি গল্প পোস্ট করার জন্য।
পুথিগত শিক্ষায় শুধু শিক্ষিত না হয়ে ছোট- বড় অনেকের কাছেই কিছু শেখার আছে, তাই এই গল্পে শিখলাম।সব রিকশাওয়ালা ভাইরা আসলে খারাপ হয় না।ভালো ও আছে। তাদের ব্যবহার দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে যাই। আপনার গল্পের রিকশাওয়ালা ভাইটির ব্যবহার আমার খুবই ভাল লাগলো। সুন্দর একটি শিক্ষনীয় গল্প আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। অনেক শুভকামনা আপু আপনার জন্য।
মানুষ হুস ৷
আর এই জন্য মানুষ হলো সৃষ্টি সেরা জীব ৷ কারন এমন কিছু সুন্দর মানুষ আছে বলেই পৃথিবী আজও টিকে আছে ৷ সত্যি কি আপু গরিব মানুষ সবসময় তার নীতি আর সততা নিয়ে থাকে ৷ আর বিশ্বাস টা রাখে ৷
আর এরকম ঘটনা প্রায় ঘটে তবুও দেখুন সে ব্যাক্তি আপনার উপর বিশ্বাস ছিল বলে আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিল ৷
যা হোক ভাগ্য ভালো আপনার খেয়াল এসেছে ৷ নচেত সে ব্যাক্তি কি করতো ৷
মানুষটি আসলে একজন সহজ সরল ৷
এই জিনিস আমারও হয়। মাঝে মাঝে আমিও টোটো দাঁড় করিয়ে জিনিস পত্র কিনতে থাকি।তারপরে মনে পরে,"এ বাবা! টোটোওয়ালা কাকু দাঁড়িয়ে আছে তো!"এটা একদমই ঠিক বলেছেন,আমাদের জীবনে প্রত্যেকের থেকেই কিছু না কিছু শেখার আছে।বেশ ভালো লাগলো রিকশাওয়ালা কাকুর কথাগুলো শুনে।কখনোই কোন কাজকে ছোট চোখে দেখা উচিত নয়। সেটা যে কাজই হোক।সৎ পথে যদি কেউ রোজগার করে নিজের পেট চালায়, তাহলে তাকে সবসময়ই বাহবা দেওয়া উচিত।