এসো হাত বাড়াও নাটকের রিভিউ
এসো হাত বাড়াও নাটকের রিভিউ
সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আবারো একটি বাংলা নাটককে রিভিও করার চেষ্টা করেছি ও আপনাদের সাথে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
বাংলা নাটক মানেই অন্য রকম ভালোলাগা। এখন আর আগের মতো অন্য কিছু দেখতে ইচ্ছা করেনা। বেশ কিছু ঈদের নতুন বাংলা নাটক বের হয়েছে। যদিও এখনো আমার সবগুলো নাটক দেখা হয়নি। তবে আস্তে আস্তে সবগুলোই দেখে ফেলবো আশাকরি। মাঝে মাঝে সময় পেলেই ইউটিউবে ঢুকে বাংলা নাটক দেখা শুরু করি। এরই মধ্যে আরেকটা বাংলা নাটক দেখলাম আর নাটকটির শুরুর দিকে বেশ ফানি ছিল। পুরো নাটকটি দেখার পর ভাবলাম আপনাদের সাথে নাটকটির পুরো কাহিনী রিভিউ করে আমার নিজের মতো করে শেয়ার করি।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | এসো হাত বাড়াও |
|---|---|
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| পরিচালক | মোঃ মেহেদী হাসান জনি |
| অভিনয়ে | জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, আফরোজ মিম, মাসুম রেজওয়ান ইত্যাদি। |
| প্রকাশিত | ২৬ এপ্রিল ২০২৩ |
| সময় | ৫৭:৫৯ মিনিট |
নাটকের মূল কাহিনী শুরু। |
|---|
নাটকের শুরুতেই আমরা দেখতে পাই তারা তিন বন্ধু একসাথে। আর এই তিন বন্ধুর মধ্যে একজনের পেটে সমস্যা আর তাই বার বার ওয়াসরুমে যাচ্ছে আর আসছে। আর বন্ধুর এই অবস্থা দেখে বাকি দুই বন্ধু হসপিটালে যাওয়া কথা বললে সে কোনো ভাবেই রাজি হয় না। কারণ ডাক্তারের কাছে গিয়ে সে লজ্জায় তার পেট খারাপের কথা কোনো ভাবেই বলতে পারবে না তাই সে কোনো ভাবেই হসপিটালে যেতে রাজি না।
তাই দুই বন্ধু মিলে জোর করে হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে হসপিটালে নিয়ে যাই। এরপর ডাক্তার আসে। ডাক্তারকে তার সমস্যার কথা সে নিজের মুখে বলতে পারছেনা বলে বন্ধুই বলে দিয়েছে যে তার পেট খারাপ বার বার ওয়াসরুমে যাচ্ছে। এরপর ডাক্তার পেট দেখে পেটে অনেক গ্যাস হয়েছে বলে চলে যাই ও একজন নার্চকে পাঠায় গ্যাসের ইনজেকশন দেয়ার জন্য। যখন নার্স রুমে ঢুকবে ঠিক তখনি সে ভয়ে চিৎকার চেঁচামিচি শুরু করে ও সে ভালো হয়ে গেছে কিছুই লাগবেনা বলতে থাকে।
একটা সময় এপাশ ফিরে যখন নার্সের চোখে চোখ পড়ে ঠিক তখনি যেন সবকিছু স্থব্ধ হয়ে যায়। কারণ মেয়েটিকে দেখার সাথে সাথে সে প্রেমে পড়ে যায় আর একনজরে তাকিয়ে থাকার কারণে নার্চ কোনদিকে ইনজেকশন দিয়ে দেয় সে কিছু বুঝতে পারে না। এরপর সে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বন্ধুদের দিয়ে নার্সকে ডাকায় ও কথা বলার চেষ্টা করে।
একটা সময় সে সুস্থ হয়ে গিয়েছে বলে ডাক্তার তাকে রিলিস করে দেয় কিন্তু সে কোনো ভাবে হাসপাতাল থেকে যেতে চাচ্ছে না। তার বন্ধুরা তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করছে কিছু সে কোনো ভাবে এখন বাসায় যাবে না। শারীরিক অনেক রকম অসুস্থতার কথা বলে সে হসপিটালে আরো কিছুদিন ভর্তি হয়ে থাকতে চাই কারণ সেই নার্চসের কাছ থেকে সে দূরে যেতে চাচ্ছে না। এই অবস্থা দেখে সেই দুইজন বন্ধু মিলে আবারো আগের মতো দড়ি দিয়ে হাত পা বেঁধে জোর করে বাসায় নিয়ে আসে।
বাসায় নিয়ে আসার পর সে আরো বেশি পাগলামি শুরু করে কিভাবে আবারো হসপিটালে যাবে। কি করবে কি করবে ভাবতে ভাবতে একটি চুরি দিয়ে তার বন্ধুদের হাত কাটতে চাই আর এই ভয়ে দুইজনই পালিয়ে যাই। এরপর নিজের একটা আঙুলের একটু খানি কেটে রক্ত বের করে চলে যাই সেই নার্সের কাছে। আর এমন পাগলামি দেখে নার্স খুব ভালো করেই বুঝে গেছে সে কেন এমন করছে। এরপর নার্স তাকে খুব ভালো করে বুঝিয়ে বলে আপনার এসব পাগলামি দোয়া করে বন্ধ করেন তাহলে আমার চাকরিটা চলে যেতে পারে। আপনি নিশ্চই চান না আপনার জন্য আমার চাকরিটা চলে যাক।
এরপর কিছুদিন পরের কথা। নার্সের খুঁজে প্রেমিক চলে আসে আবারো হসপিটালে। সেখানে এসে ভালোবাসার মানুষকে দেখতে না পেরে অন্য একরেকটা নার্সকে জিজ্ঞাসা করে সে কোথায়। সেই নার্স বলে সে চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। এরপর বাসার ঠিকানা চাইলে সে দিতে রাজি না থাকায় নার্সের হাত থেকে স্যানিটাইজার নিয়ে খেয়ে ফেলতে চাই প্রেমিক আর ঠিক তখনি মেয়েটির বাসার ঠিকানা দিয়ে দেয়।
এরপর সে একটি ফুলের তোড়া নিয়ে মেয়েটির বাসায় গিয়ে হাজির হয়। কলিং বেল দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করার পর দেখতে পায় মেয়েটির এঙ্গেজমেন্ট এর আয়োজন করা হয়েছে। সেই অবস্থাই গিয়ে বেশ অবাক হয়ে যায় ও মেয়েটির দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। আর তখন মেয়ের মা তাকে জোর করে বসিয়ে বলে মিষ্টি খেয়ে যাও আজ আমার মেয়ের এঙ্গেজমেন্ট। এরপর প্রেমিকের চোখের সামনেই প্রেমিকার এঙ্গেজমেন্ট সম্পন্ন হয়।
এর পরদিন ছেলেটি আবারো চলে যায় মেয়েটির বাসার নিচে তখন ছেলেটিকে দেখে মেয়েটি বাসা থেকে নিচে নেমে আসলে তাকে অনেক অনুরোধ করে বন্ধুত্ব সম্পর্ক তৈরি করতে বলে। এখানে তাদের অনেকক্ষণ কথাবার্তা চলতে থাকে। একটা পর্যায়ে মেয়েটি ছেলেটির সাথে বন্ধুত্ব করতে রাজি হয়। মেয়েটিও ছেলেটিকে মনে মনে অনেক ভালোবেসে পেলেছিলো কিন্তু তারতো এঙ্গেজমেন্ট হয়ে গিয়েছে এই ভয়ে তার ভালোবাসার কথা কোনো ভাবেই ছেলেটির সাথে প্রকাশ করতে পারছিলো না।
এরপর প্রায় একমাস তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কথা বলে ,ঘুরতে যায় , দেখা করে আর এভাবে একজন আরেকজনের উপর আরো বেশি ভালোবাসার প্রকাশ পাই কিন্তু মেয়েটি কোনো ভাবেই তার ভিতরের কথা ছেলেটিকে বলতে পারে না। মেয়েটির বিয়ের সময় প্রায় চলে এসেছে এমন একদিন তাদের দেখা হয় আর তখন ছেলেটি অনেক কান্না করে তার ভালোবাসার কথা মেয়েটিকে জানাই। আর তখন দুইজনই অনেক কান্না করে এটা কখনো সম্ভব না বলে বিয়ের কার্ড দিয়ে মেয়েটি চলে যাই আর বলে এটাই তাদের শেষ দেখা। আর সে যেন বিয়েতে না আসে, আসলে মেয়েটি অনেক কষ্ট পাবে কথাটি বলে যায়।
বিয়ের দিন। বিয়ে বাড়িতে খুব আনন্দ ফুর্তি চলছে। এরই মধ্যে বুকভরা কষ্ট নিয়ে প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্রেমিক চলে আসে। কান্না মুখে প্রেমিকাকে খুঁজতে থাকে। এরইমধ্যে যে ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে হচ্ছে সেই ছেলের কিছু বন্ধুরা তাকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। আর এই খবরটি কোনো ভাবে মেয়েটির কানে যায় আর ঠিক তখনই গায়ে হলুদের আসর থেকে এই ছেলেকে বিয়ে করবে না বলে সোজা হসপিটালে চলে যায়। আর তখনই দুজনের সুন্দর একটি মিল হয় আর নাটকের হ্যাপি এন্ডিং ঘটে।
ব্যক্তিগত মতামত |
|---|
আসলে পুরো নাটকটি জুড়ে ছিল কিছু হাস্যকর মজার দৃশ্য। কিন্তু মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিলো অন্য একটি ছেলের সাথে। আর তাই একটা ছেলে তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে দেখেও সে কোন কিছুই করতে কিংবা বলতে পারছিল না। আমাদের সমাজে এমন অনেক হচ্ছে যাদেরকে জোর করে নিজের পছন্দের বাহিরেও অন্য কোন ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় আর এতে করে আমি মনে করি তিনটি জীবন নষ্ট হয়ে যায়। আর ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার জন্য মানুষ কতই না কষ্ট করে। নিজের জীবনটাও দিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনা। এই নাটকের শেষদিকে হ্যাপি এন্ডিং দেখে আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। যদি হ্যাপি ইন্ডিং না হতো তাহলে হয়তো এ নাটকটির এত সুন্দর লাগতোনা। আপনারা চাইলে নিচে আমার দেয়া লিঙ্ক থেকে নাটকটি দেখে নিতে পারেন।
নাটকটির ইউটিউব লিংক |
|---|
https://twitter.com/ayrin344/status/1655190374711984129?s=20
আপু অপর্বের নাটক আমার কাছে অপূর্ব লাগে। আমি সব সময় অপূর্বের নাটক দেখি। অপূর্বের এই নাটকটির ট্রেইলার কিছুদিন আগে আমি দেখেছিলাম। আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছিল। সেবিকার প্রেমে যখন রোগী পড়ে তখন তার কি অবস্থা হয় এই নাটকের মাধ্যমে জানতে পারলাম।
এসো হাত বাড়াও নাটকের রিভিউটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে। আসলে আপু এই নাটকের মধ্যে আমাদের সমাজের বাস্তব কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সত্যিই আপু, নাটকটির শেষের মুহূর্তটা অত্যন্ত হ্যাপি এন্ডিং ছিল। আপু নাটকটির রিভিউ পড়ে এই নাটকটি দেখার জন্য আমার খুবই ইচ্ছে করছে। অবশ্যই সময় পেলেই নাটকটা আমি দেখবো।
আপু এর আগেও আপনার কয়েকটি নাটকের রিভিউ আমি পড়েছি। অনেক সুন্দর রিভিউ করেন আপু আপনি। আর আজ করলেন অপূর্বর নাটকের রিভিউ। যিনি কিনা আমার ক্রাশ। এত সুন্দর নাটকটি আমার দেখা হয়নি। তবে আপনার রিমোটে পড়ে বেশ দেখার আগ্রহ জাগলো। কি করে একজন সেবিকার সাথে রুগীর প্রেম হয়ে যায়?
ইদানিং দেখছি সকলে অপূর্ব এর নাটক রিভিউ দিচ্ছে।আসলে বাংলাদেশের নাটকগুলো বরাবরই আমার কাছে ভালো লাগে।তবে অপূর্ব এর নাটকগুলো বেশ ভিন্ন ধরনের।যাইহোক এই নাটকের মূল বিষয় সম্পর্কে জেনে ভালো লাগলো।নাটকটির শেষ হয়েছে অনেক সুন্দরভাবে ভালোবাসার জয় নিয়ে।যাইহোক ধন্যবাদ আপু,সুন্দর রিভিউ দিয়েছেন।
জানেন তো আপু নায়িকা দেখতে যদি সুন্দর হয় তাহলে সে নাটকটা আমি সাথে সাথে দেখে ফেলি 🥰। ঠিক যেমন এই নাটকটা। আর শুরু থেকে মারাত্মক রকমের হেসেছি নাটকটা দেখার সময়। অনেক সুন্দর রিভিউটা লিখেছেন। মাঝে মধ্যে ভাবি জীবনটা যদি নাটকের মতই সহজ হত!! সবকিছু অনায়াসে পেয়ে যেতাম হাতের মুঠোয়।