অন্ধকার রাতে (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব )

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

অন্ধকার রাতে

image.png

image source

কালো লম্বা এক পাঞ্জাবি পরিহিত, হাতে বড় বড় বলের তজবি। কপালে কালো টিপ আর কাঁধে ঝোলানো একটি ব্যাগ। দেখে মনে হয় না একদমই সে একজন ভালো মানুষ। তবে গ্রামের লোকজন বলে কথা। গ্রামের মানুষ জনের কাছে এসে থাকার জায়গা চাইলেই সবাই সম্মতি দিয়ে দেয় ও লোকটি থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। দিন যেতে লাগলো, গ্রামের এদিকে সেদিকে ঘুরে বেড়াতো লোকটি ,আর গ্রামের মানুষের সাথে এতটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ফেলেছিল যে তার ভিতরে থাকা কালো ছায়াটাকে আর কেউই ধরতে পারেনি। হঠাৎই একদিন লোকটির সামনে পড়লো বকুল এত সুন্দর মেয়ে দেখে ভাবতে লাগলো এমনই একটা মেয়ে তার প্রয়োজন, লোকটি বকুলের সম্পর্কে জানতে চাইলে বকুল নির্দ্বিধায় তার পরিচয় বলে দৌড়ে চলে গেল। লোকটি মনে মনে বলতে লাগলো এমনি একটা মেয়ে তার প্রয়োজন।


এখন প্রতিদিন লোকটি বকুলের সাথে দেখা করে কথা বলে, আর বকুল ও যেন ওই লোকটিকে নিজের বন্ধুর মতো বানিয়ে নিচ্ছিল। পূর্ণিমা সরে আমাবর্ষার রাত নামতে শুরু করল, আর সেই লোকটির মনে বকুলের প্রতি আকৃষ্টতা আরও বাড়তে থাকল তার মনে শুধু একটাই চিন্তা যেভাবেই হোক তার সাদ্ধ জয় করতে বকুলকে বলি দিতেই হবে এটাই তার উত্তম সময়।

লোকটির মনুষ্য রূপ সরে আসতে আসতে একটি পিশাচে পরিণত হতে লাগলো। দেখতে দেখতে অবশেষে ফিরে পেল পিশাচটি অনেক বছর পর অপেক্ষা করার সেই অমাবস্যার রাত। তবে আজই কি বকুলের শেষ দিন !! কেন ? কেন এই পিশাচের সাধ্য জয় করতে আজ বলি হতে হবে বকুলকে ?কেন এই নিষ্পাপ দেহখানা বকুল বিলিয়ে দেবে এই পিশাচের হিংস্রনীয় অন্যায় কাজে ? কিন্তু কিছুই করার নেই আজ বকুল ব্যর্থ সে লোকটির মায়া আর ক্ষমতার জালে।

গ্রামের গহীন জঙ্গলের ঝোপের নিচে পিশাচটি শুরু করে তার বলি খেলার তান্ডব। সেকেন্ড মিনিট আর ঘন্টা হতেই বকুল হাজির পিশাচটির মায়াজালে। এত নিষ্পাপ মুখখানা দেখে পিশাচটির একটুও মায়া হলো না মায়া হলো না এই ছোট্ট পরিবারের একমাত্র আশা ভরসা বকুলের জন্য। কেনইবা মায়া হবে কারণ আজ সেই পিশাচটি সাধন করতে চলেছে অসাধ্য কে, আস্তে আস্তে বকুলের দেহ খানা ছিড়তে শুরু করেছে পিশাচ। আজ বকুলের চিৎকার কারো কানে পৌঁছাবে না ,বকুলের চিৎকারে বারবার হেসে উঠছে পিশাচটি বকুলের দেহের প্রতিটি অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেই তার পোষা পশু গুলোকে।

অবশেষে মিশে থাকে শুধু বাতাসে বকুলের গন্ধ।

আমাদের সমাজে এমন অনেক ঘটনা ঘটে গেছে যা আমরা এখন আমাদের দাদা, চাচা, ফুফু, তাদের কাছ থেকে শুনতে পাই। আর এই ঘটনা গুলো অনেক বেশি লোমহর্ষক। যদিও এখন এই ধরনের জাদুটোনা এখন আর মানুষ করে না বা করলে আমরা সেটা উপলব্ধি করতে পারি না। খারাপ মানুষদের পক্ষে সব কিছুই সম্ভব। নিজের স্বার্থ জয় করতে তারা সব কিছুই করতে পারে। তবে এখন এই ধরনের মানুষ আমাদের আশে পাশে নেই বলে আমরা ভেবে নিতে পারি না তারা একেবারেই নেই! আছে যেখানে থাকার সেখানেই। আর সেই জন্যই আমাদের সবসময় সতর্ক থাকা উচিত। অপরিচিত মানুষদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আগে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা করে করা উচিত। আর এই গল্পে আমি এমন একটি শিক্ষামুলক বিষয় নিয়েই গল্পটি সাজিয়েছি।

সমাপ্ত

1.png


VOTE @bangla.witness as witness

witness_proxy_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_vote.png


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

_

Heroism_3rd.png

Sort:  
 3 years ago 

নিজের সিদ্ধি সাধনের জন্য তিনি এরকম একটা কাজ করবেন বা ঘটনাটা এরকম একটা দিকে মোর নিবে এটা আমি ভাবিনি। যাইহোক গল্পটা চমৎকার ছিল আর হ্যাঁ এটা অবিশ্বাস করার কিছু নেই এখনও এরকম অনেক কিছুই আছে যেটা আমাদের অজানা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.103
BTC 64048.81
ETH 1857.67
USDT 1.00
SBD 0.36