খেলা হবে || বাংলা নাটকের রিভিউ
খেলা হবে বাংলা নাটকের রিভিউ
সবাই কেমন আছেন ? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আজকে আমি আবারো একটি বাংলা নাটককে রিভিও করার চেষ্টা করেছি ও আপনাদের সাথে নাটকের সম্পূর্ণ কাহিনী সুন্দর ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
খেলা হবে নাটকটি কোন রোমান্টিক গল্প কিংবা কোন প্রেম কাহিনী নয়। এই নাটকের গল্পটি সাজানো হয়েছে কিছু ফানি মোমেন্ট দিয়ে ও মানুষ কিভাবে মানুষকে ঠকাতে পারে কিংবা মানুষ কিভাবে মানুষকে বোকা বানিয়ে রাস্তার ফকির বানিয়ে দিতে পারে এমন কিছু বাস্তবতা নিয়েই আজকের এই নাটকের গল্প। যদিও আমি রোমান্টিক নাটক গুলো একটু বেশি দেখি তবে শামীম হাসান সরকার ও অহনা রহমানের জুটি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। আজকে আমি আমার এই পোষ্টের মাধ্যমে খেলা হবে নাটকের গল্পটি নিজের মত করে রিভিউ করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আপনার কাছে ভালো লাগবে।
নাটকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য |
|---|
| নাটকের নাম | খেলা হবে |
|---|---|
| প্লাটফর্ম | ইউটিউব |
| পরিচালক | শহীদ উন নবী |
| অভিনয়ে | শামীম হাসান সরকার, অহনা রহমান ও আরো অনেকেই। |
| প্রকাশিত | ১২ নবেম্বর ২০২২ |
| সময় | ৪৪:৫৫ মিনিট |
নাটকের মূল কাহিনী শুরু |
|---|
তারা দুজন স্বামী ও স্ত্রী। একজন বাসার ম্যানেজার ও আরেকজন কাজের বুয়া। তবে তারা যে বাসায় কাজ করে সে বাসায় পরিচয় দিয়েছে তারা শুধুই একজন আরেকজনের পরিচিত। এদিকে বাসায় স্যার ও ম্যাডাম। তাদের চার বছরের সংসার। স্যার হলো মন ভুলো মানুষ, মুহূর্তেই ভুলে যায় সবকিছু। ম্যাডাম হচ্ছে অনেক দেমাক দেখানো প্রকৃতির। স্বামীর সাথে শুরু করে সকলের সাথে খুব দেমাক দেখিয়ে কথা বলে ও স্বামীর সাথে সবসময় খারাপ ব্যবহার করতে থাকে। যেকোনো বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে লেগে থাকে সবসময়।
আর এদিকে ম্যানাজার ও কাজের বুয়া দিনের পর দিন আঘাতে থাকে তাদের প্লান অনুযায়ী। প্রতিনিয়ত গাড়ির তার ছিড়ে গাড়ি নষ্ট করে স্যারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিচ্ছে। গাড়ির তেল খুলে বিক্রি করে তেল শেষ হয়ে গিয়েছে বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে প্রত্যেকটা খাত থেকে এই সমস্যা ওই সমস্যা বলে ম্যানেজার স্যারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দিনের পর দিন।
এদিকে কাজের বুয়া তার রূপ যৌবন দেখিয়ে স্যারকে ভুলিয়ে রাখে সবসময়। স্যার ও ম্যাডামের সেবা যত্নে নিয়োজিত থাকে সবসময় কারণ তাদের মন জয় করাটাই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য। রান্না বান্না করতে গেলে রান্নার পরে অর্ধেক খাবার সরিয়ে ফেলে তারপর খাবার পরিবেশন করার পর এত খাবার কোথায় জিজ্ঞাসা করলে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। এভাবেই সার ও ম্যাডাম কোন ভাবে বুঝতে পারে না তাদের মূল উদ্দেশ্য।
স্যার মন ভোলা বলে স্যারের মানিব্যাগ থেকে প্রতিনিয়ত টাকা সরিয়ে নিচ্ছে ঘরের কাজের বুয়া। স্যার মন ভোলা বলেই মনে করতে পারে না যে তার টাকাগুলো কি হয়। বউকে টাকার কথা জিজ্ঞাসা করলে বউয়ের কাছ থেকেও কথা শুনতে হয় স্যারের। আর এভাবে দিনের পর দিন তার মানিব্যাগ থেকে টাকা সরিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার।
নাটকের শেষ অংশে স্যার ও ম্যাডামের চতুর্থ অ্যানিভার্সারি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান করে। আর সেখানে তাদের বেশ কিছু আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত হয়। তারপর তাদেরকে ওয়েলকাম ড্রিংস হিসেবে কোক দেওয়া হয় আর সেই কোকের মধ্যে মেশানো থাকে অজ্ঞান হওয়ার মেডিসিন। কোক খাওয়ার পরে সকলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। আর তারা দুজন তাদের সমস্ত কিছু হাতি নিয়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। বাসা থেকে শুরু করে সকল সিসি ক্যামেরার লাইন তারা আগে থেকেই কেটে রাখে।
কিছুদিন পর স্যার ও ম্যাডামকে দেখা যায় রাস্তায় ভিক্ষা করতে। ঠিক তখনই বাসার সেই ম্যানেজার ও কাজের বুয়া গাড়ি নিয়ে এসে তাদের সামনে হাজির হয়। আর এখন এই পরিবেশে দেখলে মনে হবে যে তারা দুজনেই স্যার ও ম্যাডাম আর স্যার ও ম্যাডাম হয়ে গেছে রাস্তার ভিখারি। তখন তাদেরকে সবকিছু খুলে বলে যে আমরাই আপনাদের এই জায়গায় এনেছি কিন্তু তাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই বলে তারা কোন কিছুই করতে পারছে না। যদিও বাস্তবে এটা কখনোই সম্ভব না। এরপর দুজন গাড়ি থেকে নেমে তাদেরকে ১০০ টাকা ও ম্যাডামকে এক হাজার টাকা দিয়ে বলে যে এত অহংকার করা ভালো না। কালকেই ছিলেন রাজরানী এখন হয়ে গেলেন চাকরানী আর আমি ছিলাম চাকরানী এখন হয়ে গেলাম রাজরানী। এসব কথা বলেই তারা গাড়ি নিয়ে চলে যায় আর তারা দুজন টাকা হাতে নিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে গাছতলায়। আর এখানেই শেষ হয় নাটকের গল্প।
ব্যক্তিগত মতামত |
|---|
এই নাটকটি যদিও মজা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে তবে বাস্তবে এত বড় দুর্ঘটনা না হলেও কিছুটা হলেও ঘটে। বাসার কাজের লোকেরা কিংবা ম্যানেজাররা উপরের বসদেরকে অনেক কিছু বুঝিয়ে অনেক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেই এটা সত্যি। আমি মনে করি যে কাউকে একদম অন্ধবিশ্বাসের মত নিজের পাশে রেখে নিজের সমস্ত কিছুর দায়িত্ব দিয়ে দেওয়াটা উচিত নয়। মাঝে মাঝে নিজেকেও নিজের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে করে অন্য কারো কোন ক্ষতি করার সাহস হয়ে ওঠে না। যদিও আমি নাটকটি খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, আপনারা চাইলে নিচে দেয়া লিংক থেকে নাটকটি দেখে নিতে পারেন। আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।
নাটকটির ইউটিউব লিংক |
|---|
নাটকটি যথেষ্ট শিক্ষনীয় বটে।নাটকের রিভিউ চমৎকার ভাবে করলেন আপু।খুব মজার আর শিক্ষনীয় একটি নাটক ভালো লাগার কথাই।সময় সুযোগ হলে অবশ্যই দেখবো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আপু নাটকের বেশ কিছু ফ্লিপ দেখার সুযোগ হয়েছিল। আমার তখনই মনে হয়েছিল যে নাটকটি সত্যিকারের অর্থে একটি শিক্ষনীয় নাটক হবে। তবে আপনার করা রিভিউটি দেখে কিন্তু অবশেষে তাই বুঝলাম যে নাটকটি সত্যি সত্যি শিক্ষনীয় উচিত। বিশ্বাস ভালো, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস কিছুতেই ভালো না। বেশ দারুন রিভিউ করেছেন আপু।
এধরনের ঘটনা এতোটা না ঘটলেও কিছুটা অন্তত বাংলাদেশে ঘটে। যাইহোক নাটকটি যেমন ফানি তেমন কিছু শিক্ষনীয় দিক ছিল। সবমিলিয়ে বেশ ভালো লেগেছে নাটকটি। দেখতে হবে মনে হচ্ছে।
প্রতিনিয়ত নাটকের রিভিউ দেখে কিছুটা বোঝা যাচ্ছে আপনি নাটক প্রেমী। এভাবে আপনি নাটকগুলো রিভিউ দিতে থাকলে নাটকের প্রতি সকলের একটি ভালোবাসা জন্মাবে৷ আমিও আপনার নাটকের রিভিউ দেখে নাটকগুলো দেখার চেষ্টা করি৷ আজকে আপনি "খেলা হবে" নাটকটির রিভিউ দিয়েছেন। এই নাটকের নামটি থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই নাটকটি অনেক সুন্দর হবে এবং আপনার এই রিভিউ এর মধ্যে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলোই নাটকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাটক এর মূল বিষয় হলো বিশ্বাস ভালো কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস একদমই ভালো নয়৷
বাংলাদেশিি অনেক সুন্দর একটি শিক্ষণীয় নাটক আপনি আজকে আমাদের মাঝে রিভিউ শেয়ার করেছেন।বিশ্বাস করতে হবে তবে অন্ধের মত বিশ্বাস করলে ঠকতে হবে।নাটকটি এখনো দেখা হয়নি সময় পেলে অবশ্যই দেখে নিব। সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।
এই নাটকটা আমি আরো কয়েকদিন আগে দেখেছিলাম। আমার কাছে নাটকটা দেখতে এমনিতে ভালো লেগেছিল। আসলে বেশিরভাগ মানুষকে দেখা যায় অন্যদেরকে একেবারে অন্ধের মত বিশ্বাস করতে। কিন্তু এটা একেবারেই উচিত না। কখন যে সেই মানুষগুলো পিছন থেকে ছুরি মারবে এটা কেউ বলতে পারবে না। এই নাটকটা আসলে অনেক শিক্ষনীয়। আপনি নাটকটার রিভিউ পোষ্ট করেছেন দেখে নতুন করে আবারও পড়ে ভালো লাগলো।
"খেলা হবে" কথাটা শুনেই শামীম ওসমানের কথা মনে পড়ে গেলো। আমি অবশ্য নাটক দেখি না বললেই চলে তবে নাটকে যে এতো সুন্দর খেলা চলে সেটা তো জানতাম না। নাটকের রিভিউটা পড়ে বুঝলাম যে, অনেক মজার নাটক। এক কথায় মনকে রিফ্রেশমেন্ট করার জন্য এরকম নাটক দেখাটা বেশ ভালোই। বাসার কাজের বুয়া অনেক চালাক আছে তাই স্যারকে ভুলিয়ে রাখে। সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
বাহ বেশ চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ করেছেন আপু।আমি জানি আপনি নাটক অনেক পছন্দ করেন। যার কারণে আপনার কাছ থেকে অনেক সুন্দর সুন্দর নাটক রিভিউ দেখতে পাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু খুব চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।
চমৎকার একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন আপু। এই নাটকটি আমি দেখেছি। খুব ভালো লেগেছিল আমার কাছে। নাটকটি যেমন মজার তেমন শিক্ষানীয় বটে।কাউকে অন্ধ বিশ্বাস করে সমস্ত দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়। তাহলে এভাবেই পস্তাতে হয়। ধন্যবাদ আপু এত সুন্দর একটি নাটকের রিভিউ শেয়ার করার জন্য।
এই ধরনের নাটক গুলো দেখতে আমার অনেক ভালো লাগে। এই নাটকটার কাহিনী অনেক সুন্দর ছিল। নাটকটা আমি দেখেছিলাম যার কারণে আবারো নাটকটা আপনার রিভিউর মাধ্যমে দেখে ভালো লাগলো। আসলে বেশিরভাগ মানুষ অন্যদেরকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে, কিন্তু তারা বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারেনা। কিন্তু সব সময় বিশ্বাস করা কিন্তু একেবারে ঠিক না। কারণ এক সেকেন্ডও সময় লাগবে না বিশ্বাস ভাঙতে।