ফটোগ্রাফি: "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১৬ তম পর্ব।
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ২৯ ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট হাজির হয়েছি। কিছুদিন আগেই আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ডিপার্টমেন্ট এর ফেস্টিভ্যাল হলো। ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরে এটাই প্রথম সিভিল ডিপার্টমেন্টের ফেস্টিভ্যাল পেলাম। ফেস্টিভাল সম্পর্কে আগে একটু একটু ধারণা থাকলেও আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্টের ফেস্টিভ্যালের দিনে সবকিছু ক্লিয়ার হয়েছি। ফেস্টিভ্যাল মানেই বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কিছু কেনাকাটা করা আর মজার মজার খাবার খাওয়া। ফেস্টিভ্যালে যে এতটা পরিমাণ আনন্দ হয় আসলে ফেস্টিভ্যালটা না হলে, হয়তো অজানা থেকে যেতো। আর আমাদের ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি তে সিভিল এর স্টুডেন্ট সবথেকে বেশি।
সিভিল ডিপার্টমেন্টের আয়োজিত ফেস্টিভ্যালে প্রায় বিশটা মতো স্টল দিয়েছিলো আমাদের সিভিল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীরা। আমাদের ব্যাচের স্টুডেন্টদের কোন স্টল ছিল না তাই আমাদের মেইন কাজ ছিল সব স্টল গুলো ঘুরে ঘুরে দেখা আর ইচ্ছামতো খাওয়া-দাওয়া করা। আমরা বন্ধুরা মিলে প্রতিটি স্টলে ঘোরাফেরা করছিলাম আর প্রতিটি স্টল থেকেই কিছু না কিছু খাওয়া দাওয়া করেছিলাম। এই ফেস্টিভ্যালে যারা স্টল দিয়েছিলো তারা সবাই আমাদের আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা, অর্থাৎ তারা সবাই আমাদের থেকে সিনিয়র ছিলো।
আজকে থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে আপনাদের সাথে আমাদের ফেস্টিভ্যালের প্রতিটি স্টলের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের সাথে পর্ব আকারে শেয়ার করবো। আজকে আমি যে, স্টল থেকে বিভিন্ন পণ্যের ফটোগ্রাফি গুলো করেছি এই স্টলের নামটি ছিলো " ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড কর্নার"। এই স্টলের নামটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিলো। আজকে আমি আমাদের "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১৬ তম পর্বে "ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড কর্নার" থেকে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্যের ফটোগ্রাফি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আমার প্রথম ফটোগ্রাফি ছিলো, এক প্লেট ভরা বার্গার। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিক দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ভোট কর্নার আমার কাছে অনেক বেশি ভালো লেগেছে। আপনারা আমার ফটোগ্রাফিতে দেখতেই পাচ্ছেন যে, কতটা যত্ন সহকারে পাতলা পলিথিন দিয়ে সুন্দর করে বার্গার গুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ করে রাখা হয়েছে। কারণ আমাদের বর্তমানে পরিবেশের যা অবস্থা খোলা খাবার কিছুতেই খাওয়া ঠিক নয়। এই স্টলে প্রতি পিস বার্গারের মূল্য ছিল ৬০ টাকা করে। যদিও আমি স্টল থেকে বার্গার খাইনি তবে বার্গার খাবারটি আমার কাছে অনেক প্রিয়।
এই স্টলে দ্বিতীয় ফটোগ্রাফিটি ছিলো, একটি প্লেট ভরা সমুচা। বার্গারের মতো সমুচাও বেশ সুন্দরভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা ছিলো। আসলে সকল খাবারগুলো যদি এরকম ভাবে সুন্দর করে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা থাকে তাহলে দেখতেও ভালো লাগে আবার সেই খাবারটা খাইতেও ভালো লাগে। এক কথায় আমরা যে খাবারই খাই না কেন প্রথমে আমাদের সেই খাবারটা উপর রুচি আসতে হবে। আপনারা জানেন যে সমুচা খুবই মুড়মুড়ে জাতীয় স্ট্রিট ফুড। এই স্টলে প্রতিটি সমুচার মূল্য দশ টাকা ছিলো। আমার কাছে দামটা পারফেক্ট মনে হয়েছে কারণ এখন গ্রামেও সমুচা দশ টাকা পিস বিক্রি করে।
এই স্টলের আমার তৃতীয় ফটোগ্রাফিটি ছিলো, এক প্লেট ফ্রাইড চিকেন। ফ্রাইড চিকেন আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। আসলে এই খাবারটা আমার মতো প্রায় মানুষের কাছেই ভালো লাগার একটি খাবার। আমি বাইরে গেলে মাঝেমধ্যেই এই খাবারটি খেয়ে থাকি। এই স্টলে ফ্রাইড চিকেন ৯০ টাকা করে বিক্রি করছিলো। এখানে ফ্রাইড রাইস এক পিসের দাম ৯০ টাকা নাকি একটা প্লেটের সম্পূর্ণটা ৯০ টাকা আমি বুঝে উঠতে পারি নাই। যাইহোক এই খাবারটি কিন্তু বেশ মজাদার।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি ছিলো, এক প্লেট চাউমিন। এই চাউমিন খাবারটি চায়নার প্রধান খাবার। তবে আমাদের দেশেও বর্তমানে চাউমিনের বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। গ্রামে জনপ্রিয়তা একটু কম থাকলেও শহর অঞ্চলে চাউমিনের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। চাউমিন খাবারটি আমারও অনেক প্রিয় একটি খাবার। আমার ফটোগ্রাফির এই প্লেটের উপর যদিও অনেক পরিমাণ চাউমিন রয়েছে তবে স্টল থেকে আলাদা প্লেটে দিচ্ছিলো যেটার মূল্য ৫০ টাকা করে।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি হলো, এক প্লেট চিকেন প্যাটিস। আমার ফটোগ্রাফিরে প্লেট এর উপর অনেকগুলো চিকেন প্যাটিস রয়েছে। চিকেন প্যাটিস খাবারটা মোটামুটি ভালো লাগলেও খুব একটা বেশি ঘা হয় না। তবে অনেকেই চিকেন প্যাটিস খাবারটা অনেক বেশি পছন্দ করে। আসলে প্রতিটা মানুষেরই আলাদা আলাদা পছন্দের খাবার রয়েছে। একজন ব্যক্তি যে, সব রকম খাবার পছন্দ করবে এমনটা তো আর নয়। তবে আমি পেটুক মানুষ মোটামুটি সব রকম খাবারই খেয়ে থাকি। কারণটা খাবার খেয়ে আমি শান্তি পাই।
আমার এই ফটোগ্রাফিটি হলো, এক প্লেট স্যান্ডউইচ। এই প্লেটের উপর মোট পাঁচটি স্যান্ডউইচ রয়েছে। এখানে স্টল থেকে দাম দিয়ে রাখা হয়েছে ১১০ টাকা। তবে আমি এটাও জানি না যে এখানে একটার দাম ১১০ টাকা নাকি পুরো প্লেটটার ধরে ১১০ টাকা। যাই হোক দাম যেটাই হোক না কেন খাবারটা কিন্তু দুর্দান্ত স্বাদের। আমি স্যান্ডউইচ খাবারটা মাঝেমধ্যেই নিজে বানিয়ে খায়। কারণটা এই খাবারটা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে।
আজকে আমাদের "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" - ১৬ তম পর্বে "ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড কর্নার" স্টলের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের ফটোগ্রাফি গুলো আপনাদের কেমন লেগেছে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আর "ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" ১৭তম পর্ব নিয়ে খুব শীঘ্রই আসবো আপনাদের সামনে।
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ৯ ই জুন ২০২৩ |
| লোকেশন | গাবতলী,ঢাকা |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon

বাহ চমৎকার ভাই। এককথায় অসাধারণ ছিল আপনার খাবারের ফটোগ্রাফি গুলো। ইউরোপীয়ান ইউনিভার্সিটির ফুড ফেস্টিভ্যাল এর পোস্ট আগেও আপনার থেকে দেখেছি। আজকেও বেশ কিছু চমৎকার এবং লোভনীয় খাবারের ছবি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করে নিয়েছেন। বার্গার, ফ্রাইড চিকন, চাউমিন, স্যান্ডউইচ সবকিছুই ছিল আপনার ফটোগ্রাফি তে। বেশ চমৎকার ছিল। ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি সিভিল ফেস্টিভ্যালের ফটোগ্রাফি পোস্ট আপনি এর আগের পর্বগুলো দেখেছেন জেনে ভালো লাগলো ভাই। আসলেই ভাই খাবারগুলো অনেক বেশি লোভনীয় ছিল। সুন্দর সাবলীল ভাষায় মতামত প্রকাশ করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
"ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল-২০২৩" নিয়ে বেশ কিছু পর্ব শেয়ার করে ফেলেছেন দেখছি ভাই। কোনটাই আগে দেখা হয়নি, তবে আজকের পর্বটি বেশ ভালো লাগলো।"ইঞ্জিনিয়ারিং ফুড কর্নার" এই স্টল টিতে দেখছি আমাদের প্রায় সকলের পছন্দের সব খাবারগুলো রয়েছে। চিকেন প্যাটিস, এই খাবারটা আপনার মত আমিও খুব একটা বেশি পছন্দ করি না। তবে বাদবাকি সমস্ত খাবারই আমার খুব পছন্দের। ফ্রাইড চিকেন, মনে হয় একটা পিসের দাম ৯০ টাকা। এই খাবারটি আমারও অনেক পছন্দের।
হ্যাঁ দিদি ইতিমধ্যে অনেকগুলো পর্ব শেয়ার করে ফেলেছি। আমার কাছেও তাই মনে হয়েছিলো ফ্রাইড চিকেন এক পিসের দাম ৯০ টাকা। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিদি। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল দিদি।
"ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সিভিল ফেস্টিভ্যাল" গিয়ে তোলা আপনার ফটোগ্রাফিগুলো অনেক সুন্দর হয়েছে ভাই। বিভিন্ন ধরনের খাবার গুলো দেখে খিদে পেয়ে গেলো ভাই। ফটোগ্রাফিতে শেয়ার করা প্রত্যেকটা খাবার ই আমার ফেভারিট। খাবারগুলোর দামও দেখছি ঠিকঠাক রয়েছে, খুব বেশি নেই ।
আসলেই দাদা আপনি ঠিকই বলেছেন খাবার দেখলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। আমার ফটোগ্রাফির প্রত্যেকটা খাবার ই আপনার ফেবারিট জেনে ভালো লাগলো দাদা। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।