"বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ২য় পর্ব "

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ৭ই মে, রবিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। কিছুদিন আগে ঈদের ছুটিতে আমি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছি। আমাদের গ্রামের সবকিছুই আমার কাছে খুবই ভালো লাগে। গ্রামে আমাদের পাড়াতে চারটি মন্দির আছে। একটি রাধা কৃষ্ণ মন্দির, একটি মা দুর্গা মন্দির, একটি সরস্বতী মন্দির এবং আরেকটি শীতলা মন্দির। আমাদের পাড়ার প্রতিটি মন্দিরেই পূজা অর্চনা করা হয়ে থাকে। আমাদের পাড়ায় প্রতিবছর বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন হয়ে থাকে।


কভার ফটো

GridArt_20230507_132010989.jpg

কয়েকটি ছবিকে সংযুক্ত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।


আর এই নগরকীর্তনে ছোট-বড় সবাই অংশগ্রহণ করে। আমাদের পাড়ার নগর কীর্তন রাধাকৃষ্ণ মন্দির থেকে শুরু হয়ে প্রতিটি বাড়ি ঘুরে রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে এসে শেষ করা হয়। আর যেদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে সেদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে নগর কীর্তন করে আবার সেখানেই শেষ করে দেয়া হয় সেদিন আর পাড়ায় যাওয়া হয় না। এই বৈশাখ মাসে পাড়ায় নগরকীর্তনে বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে।

20230422_115210.jpg

আজকের নগরকীর্তনে উপস্থিত সকল ভক্তবৃন্দের জন্য বিপুল বিশ্বাস খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিল। পুরো বৈশাখ মাস ব্যাপী নগর কীর্তন করার পরে প্রতিবছর রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে মহা ভোগের আয়োজন করা হয়। এই বৈশাখ মাসে নগরকীর্তনে উপস্থিত ভক্তবৃন্দের জন্য আমাদের পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করবে সে কয়দিনে প্রতিটি পর্ব আকারে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আমি গত সপ্তাহে বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ১ম পর্ব শেয়ার করেছি। আর আজকে আমি ২য় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করব।



20230507_123741.jpg

একমাত্র ঈশ্বরের নাম জপের মাধ্যমেই জীবের মুক্তি সম্ভব। তাইতো এই বৈশাখ মাস ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষভাবে নগর কীর্তন করে থাকে। আমাদের পাড়ার নগরকীর্তনে যুবসমাজের অবদান সব থেকে বেশি। কারন আমরা যারা প্রতিদিন নগর কীর্তন করি সবাই অবিবাহিত সবাই শিক্ষার্থী। আমরা প্রতিদিন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের সামনে নগর কীর্তন শুরু করি এবং এখানেই শেষ করি।

আজকে শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির থেকে নগরকীর্তন আরম্ভ করা হয়। তারপর আমাদের পাড়ার প্রতিটা বাড়িতে নগর কীর্তন করা হয় এবং আমাদের পাড়ার শীতলা মন্দিরের সামনে সবাই মিলে নগরকীর্তন করা হয়। পাড়ার প্রতিটি বাড়ি এবং মন্দিরে নগর কীর্তনের জন্য গড়ে পাঁচ মিনিট করে নগর কীর্তন করা হয়। আমাদের পাড়ায় ৩০ টা। মতো বাড়ি এবং চারটি মন্দির আছে।

20230507_123321.jpg

আজকে আমাদের পাড়ার বিপুল বিশ্বাস গুরুদেবের মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ায় নগর কীর্তনে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করেছিল। হিন্দু ধর্মালম্বীরা গুরুদেবের মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার পরেই কীর্তন বা সাধু সেবার আয়োজন করে তাই বিপুল বিশ্বাস নগরকীর্তনের সকল ভক্তবৃন্দের জন্য খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছে।

20230507_123052.jpg

আজকে আমাদের ভক্তবৃন্দের জন্য ভাত, দু'রকমের ডাল, ঘন্ট, শাক ভাজি, পটল ভাজি, চাটনি ও মিষ্টান্ন ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। আজকের আয়োজনটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছিল।

20230507_122932.jpg

সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে আমার কলা পাতায় করে খাওয়ার পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। কলা পাতায় খাওয়ার দৃশ্য খুবই কম দেখা যায়। আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যেকোন অনুষ্ঠানে কলা পাতায় করে খাওয়ার দৃশ্য ও ব্যাপক হারে প্রচলিত ছিল।

20230507_123014.jpg

নগর কীর্তন শেষে সবাই মিলে একসাথে এভাবে প্রসাদ খাওয়ার মাঝে আলাদা একটি আনন্দ লুকিয়ে আছে।

20230507_121537.jpg

আমি কলাপাতায় আজকের নগর কীর্তনের প্রসাদ সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিয়েছি। নগরকীর্তনের এসব প্রসাদ খেতে আমার খুবই ভালো লাগে। আর সব থেকে বড় কথা হলো প্রতিদিন এভাবে নগর কীর্তন করার মাধ্যমে হৃদয়ে শান্তি অনুভূত হয়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের ইহলোক থেকে পরলোকে যাওয়ার একমাত্র সহজ অবলম্বন এই হরিনাম সংকীর্তন। এই মহামন্ত্র সংকীর্তনের মাধ্যমেই ঈশ্বরকে হৃদয়ে ধারণ করা যায়।

আমি পরবর্তীতে "বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া - ৩য় পর্ব" আপনাদের সাথে শেয়ার করব।



পোস্টের ছবির বিবরন

ক্যামেরাম্যান@aongkon
ডিভাইসস্যামসাং জে-৭ প্রো
ক্যামেরা১৩ মেগাপিক্সেল
তারিখ২৩ ই এপ্রিল
লোকেশনকুষ্টিয়া


প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার "বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়া -২য় পর্ব" ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 3 years ago 

বাহ! বেশ আনন্দ ফুর্তির মাধ্যমে নগর কীর্তন আয়োজন করে সম্পন্ন করেছেন, সেই সাথে পুরনো দিনের নিয়ম রীতি অনুযায়ী কলাপাতায় খাওয়া-দাওয়া বিষয়টা সত্যিই অন্য রকম ছিল আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গ্রামগঞ্জে এখনো এসব রীতিনীতি লক্ষ্য করা যায় কিন্তু আমরা শহরে থাকি আসলে এগুলো তেমন একটা দেখা যায় না। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা আপনার আনন্দঘন মুহূর্তগুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

খুবই ভালো লেগেছিল পুরনো দিনের মত সেই কলা পাতায় খাবার খেতে পেরে। সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার অনুভূতির আজকের পর্ব দেখে খুব ভালো লাগলো। আসলে এসব উৎসবে সকলের একসাথে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার আনন্দ খুবই অন্যরকম। কীর্তন অনুষ্ঠানে খুব সুন্দর মুহূর্ত পার করেছেন। এত চমৎকার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

আজকের পর্বটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 3 years ago 

বৈশাখ মাসে নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার বর্ণনাগুলো আপনি খুবই চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছেন। আপনার এ পোষ্টটি পড়ে আমার খুবই ভালো লেগেছে ভাইয়া। আসলে কলাপাতায় এভাবে প্রসাদ খাওয়ার মধ্যে নিহিত রয়েছে এক অনাবিল আনন্দ।নগর কীর্তন শেষে প্রসাদ খাওয়া-দাওয়ার মুহূর্তটুকু আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। ভাইয়া পরবর্তী পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

 3 years ago 

এর আগেও দেখেছিলাম নগর সংকীর্তনের একটা পর্ব। সেখানে ফল প্রসাদ ছিল বোধ হয়। আজ তো একদম পুষ্পান্নর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাই মিলে একসাথে হরিনাম করার পর এভাবে প্রসাদ খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম। ভীষণ ভালো লাগে আমার যখন এই চমৎকার পোস্ট গুলো দেখি। ঈশ্বর আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুক এটাই প্রার্থনা করি।

 3 years ago 

আমার প্রতিটি পোস্ট দেখে সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 64459.60
ETH 1879.30
USDT 1.00
SBD 0.36