"বৃষ্টির ভেতরে আমাদের গ্রামের সাথে পাশের গ্রামের ফ্রেন্ডলি ফুটবল ম্যাচ"

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ-১ লা জুলাই, শনিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আপনারা হয়তো জানেন যে, আমি ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছি। আসলে যাদের গ্রামে বাড়ি আছে তারা ঈদের ভিতরে কেউই শহরে থাকে না সবাই গ্রামের দিকে চলে আসে। কারণ আমরা সবাই প্রকৃতিপ্রেমী, প্রকৃতিকে ভালোবাসি নিজের গ্রামকে ভালোবাসি। গ্রামে এসে সবার সাথে সময় কাটাতে খুবই ভালো লাগে আমার। আমার মত আমার বন্ধু এবং বড় ভাই, ছোট ভাই সবাই ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসেছে।

আর তাই সবাই মিলে খেলাধুলা আর একটা হাসি তামশাই মেতে থাকে সবসময়। আমি খেলাধুলা খুবই ভালোবাসি। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ফুটবল খেলার তো মজাই আলাদা। তবে এখন আর সেরকম বৃষ্টির দিনে খেলা হয়ে ওঠে না কারণ সবাই যার যার মত কোন না কোন কাজে ব্যস্ত গ্রামের বাইরে। কিন্তু ঈদের ভেতর সবাই বাড়িতে আসার কারণে আমাদের গ্রামের সাথে পাশের গ্রামের আজকে দুপুরে ফ্রেন্ডলি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছিলাম।

jump-1822412_1280.jpg

Source

এ ফুটবল খেলাটা এক সময় প্রচুর পরিমাণে খেলতাম কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসছে। আসলে সময় সবকিছুই বদলে দেয়। পাশের গ্রামের সাথে ফুটবল খেলা নেওয়ার কোন পরিকল্পনায় ছিল না আমাদের। কিন্তু পাশের গ্রামের এক বড় ভাই ফোন করে ফ্রেন্ডলি ফুটবল ম্যাচ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। আসলে আমাদের গ্রামের ছেলেপেলের ফুটবল খেলার জন্য তেমন মাঠ নেই আর ফুটবল খেলার অভ্যাসও নেই। তারপর আমাদের গ্রামের ছেলেপেলের সবাই কে ফোন দিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

তারপর সবাই সকালের হালকা নাস্তা করে খেলার জন্য একসাথে বের হয়ে গেলাম। আমাদের সেই পাশের গ্রামের নাম হলো শ্যামপুর, আর আমাদের গ্রামের নাম মামুদানিপুর। আমাদের এই ফুটবল ম্যাচটি হবে শ্যামপুরের প্রাইমারি স্কুলের মাঠে। অনেক বড় মাঠে মাঠে প্রতিদিনই ফুটবল খেলে থাকে শ্যামপুরের ছেলেপেলে। তাইতো আমাদের ওদের সাথে খেলতে একটুও ভয় ভয় করছিল আসলে অনেকদিন খেলা নেই হারার ভয় ছিলো। কিন্তু আমরা ছিলাম প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী।

football-1807520_1280.jpg

Source

তারপর ওদের মাঠে গিয়ে খেলা শুরু করলাম। খেলার প্রথম ৪৫ মিনিট অর্থাৎ হাফ টাইম পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র থাকলো। শ্যামপুরের ছেলেপেলে যেহেতু অনেক ভালো খেলে তাই আমাদের মেইন টার্গেট ছিলো গোল দিতে পারি বা না পারি গোল হজম করা যাবে না। আমাদের প্লানিং এর প্রথম ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কাজে লাগে। তারপর হাফ টাইম শেষে আবার খেলা শুরু হয়। আর খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই প্রচন্ড বৃষ্টির সাথে বাতাস হওয়া হতে থাকে। আসলে এমন জোরে বৃষ্টি এই বছরে আমাদের এই দিকে কখনো হয়নি।

প্রচন্ড জোরে বৃষ্টির ভিতর খেলতে বেশ ভালই লাগছিলো। বৃষ্টির ভেতরে আসলে ফুটবলের উপর কন্ট্রোল কেউই ভালোভাবে রাখতে পারছিলো না। কারণ পুরো মাঠ কাঁদা এবং জলে ভরে গিয়েছিলো। ওভাবেই বৃষ্টির ভিতর বেশ মজাই মজাই খেলে যাচ্ছিলাম ফুটবল। তারপর বৃষ্টির সাথে সাথে শুরু হলো প্রচন্ড ঝড়। তখন আমরা সবাই খেলা বন্ধ দিয়ে মাঠ থেকে উঠে আসলাম। তারপর কিছু সময় পর ঝড় কমলে আবার খেলা শুরু করি। বৃষ্টির ভেতরে খেলার যে কি মজা সেটা আর বলে বোঝাতে পারবো না। আমাদের ফুটবল খেলার ৯০ মিনিট পর্যন্ত অর্থাৎ ফুল টাইম পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র থাকে থেকে যায়।

children-1822688_1280.jpg

Source

যেহেতু ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র ছিলো তাই ইচ্ছা করলে খেলাটা ট্রাইবেকার করা যেতো। কিন্তু ড্র নিয়ে দুই দলই অনেক সন্তুষ্ট ছিলৈ তাই আর কি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ বলে ট্রাইবেকারে খেলা হয়নি। আসলে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ কোন দলেই হারে নাই এটাই অনেক। আজকের এই খেলাটা বেশ সুন্দরভাবে আমি উপভোগ করেছিলাম। এরকম বৃষ্টির ভিতর অনেকদিন পরে ফুটবল খেলতে বেশ সুন্দর লাগছিলো।

আর শ্যামপুরের মতো ফুটবল টিমের সাথে ড্র করতে পারাটা আমাদের জন্য অনেক বেশি ছিলো। আজকের এই ফুটবল ম্যাচটি খেলতে গিয়ে আমি একটি ফাউলের শিকার হয়েছিলাম। এই ফাউলে আমি আমার হাতের কুনুইয়ের রগে অনেক ব্যথা পেয়েছিলাম। যদিও হাতে এখন অনেক ব্যথা রয়েছে কোন ভারী কিছু তুলতে পারছি না। তারপরেও অনেক কষ্টে খেলাটা সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে পেরে ভালো লাগছিলো। এখনো বৃষ্টি হয়েই যাচ্ছে রাতে সবাই মিলে পিকনিক করার ইচ্ছা আছে দেখা যাক কি হয়! সবাই মিলে একসাথে পিকনিক করে খাওয়া দাওয়া করতে পারলে বেশ ভালো লাগতো মনের কাছে।



প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 3 years ago 

ভাই মনে পড়ে গেল অনেক বছর আগের কথা। যখন বৃষ্টির সময় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হতো। আর বৃষ্টির মধ্যে আমরা ফুটবল নিয়ে মাঠে খেলতে যেতাম। আমরা অনেকজন ছিলাম যারা একত্রিতে ফুটবল খেলতাম। আসলে ভাই বৃষ্টির সময় ফুটবল খেলার অনুভূতিটা অন্যরকম। সেসব অনুভূতির কথা বলে শেষ করা যাবে না। দুই দলের শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে। আপনার হাতে লেগেছে আশা করি দ্রুত সেরে উঠবেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago (edited)

হ্যাঁ ভাই বৃষ্টির দিনের ফুটবল খেলার অনুভূতি লিখে শেষ করার মতো নয়। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 3 years ago 

ভাই প্রথমে আপনার জন্য দোয়া কামনা করি যেন আপনার হাত দ্রুত সেরে ওঠে। কি বলবো ভাই বৃষ্টির সময় খেলা করার মজাই আলাদা আর আমি ফুটবল খেলতে অনেক ভালোবাসি।বৃষ্টির ভেতরে আমাদের গ্রামের সাথে পাশের গ্রামের ফ্রেন্ডলি ফুটবল ম্যাচ। আপনাদের ম্যাচটি দেওয়া হয়েছে শুনে ভালো লাগলো। ফুটবল খেলার কথা শুনলেই মাথা নষ্ট হয়ে যায় ছোটবেলায় যে কত ভিজে ফুটবল খেলেছি। ধন্যবাদ ভাইয়ের ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।

 3 years ago 

খেলা প্রেমিক মানুষ খেলার কথা শুনলে মাথা তো নষ্ট হবেই। বৃষ্টির দিনে আপনিও খেলাধুলা করতেন জেনে ভালো লাগলো। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 59946.16
ETH 1579.66
USDT 1.00
SBD 0.42