"গোধূলি বিকেলের স্মৃতিময় সুন্দর মুহূর্ত"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ২৪ ই আগস্ট, বৃহস্পতিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য সুস্থ এবং সুন্দর মনের প্রয়োজন হয়। আর শরীরের পাশাপাশি মনকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনোদনের। আমি ছোটবেলা থেকেই যে, কোনো জায়গায় ঘোরাফেরা করতে খুবই বেশি পছন্দ করি। আর সবার সাথে মিশতে কথা বলতে বেশ ভালো লাগে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় হোক কিংবা ঢাকাতে থাকা অবস্থায় সময় ও সুযোগ পেলে বাইরে ঘোরাফেরার চেষ্টা করি। আসলে নিজের শরীর ও মনকে সব সময় ঘরবন্দি রাখার থেকে বাইরের প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে কিছুটা সময় রাখাই উত্তম।
গত বছরের শেষের দিকে বাড়িতে থাকা অবস্থায় সবার সাথেই বাইরে বেশ ঘোরাঘুরি করতাম। কারণটা বাড়িতে গেলে গ্রামীন পরিবেশে ঘুরতে আমার খুবই বেশি ভালো লাগে। আমাদের বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার মতো দূর দিয়ে পদ্মা নদীর একটি শাখা নদীর বয়ে গেছে। আর এই নদীটি গোপগ্রাম এবং আমলাবাড়ী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। আর এটাকে অনেকেই নদী বলে আবার কেউ কেউ কোল বলে। আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে মূলত এটাই মেইন পদ্মা নদী ছিল আস্তে আস্তে সময়ের কাল ক্রমে পদ্মা নদী ২-৩ কিলোমিটার মতো দূরে সরে গেছে।
যদিও এই নদীতে গ্রীষ্মকালে কোন পানি থাকে না, তবে বর্ষাকালের দিকে এই নদী পুরোপুরি ভরে যায়। আর নদীতে যখন জল আসে নদী তখন প্রাণ ফিরে পায়। বর্ষাকালে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ থাকে। এই নদীটির ওই পারেই চরের উপরে আবার মানুষের জনবসতি রয়েছে। নদীর ওই পাড়ের সব মানুষজন নদী পাড়ি দিয়ে এপারে এসে বাজার থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিয়ে যায়।
এই নদী যখন ভরা থাকে আমি যতবারই বাড়িতে যাই, আমলাবাড়ী বাজারের মন্দিরের কাছে নদীর পাড়ের বটতলাতে এসে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করি। এই অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা জায়গাটি আমাদের বাড়ি থেকে ঠিক পাঁচ কিলোমিটার মত দূর হবে। গতবছরে আমি আমার বন্ধু ও ছোটভাই মিলে গিয়েছিলাম এই জায়গাটিতে।
বিকালের দিকে এই জায়গাটি অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। আসলে আমরা গিয়েছিলাম বিকালের দিকে এই নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। নদীর পাড়ে বটগাছের তলায় অনেকখানি জায়গা জুড়ে বসার ব্যবস্থা রয়েছে। আমাদের মত অনেকেই এসে বিকালের দিকে এই জায়গাটিতে বসে নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে।
এই নদীতে প্রতিবছরেই নৌকা বাইচ হয়। আর নৌকা বাইচের সময় প্রচুর লোকজন হয় আর মেলা বসে। আমরা এই জায়গাটিতে বসে থাকা অবস্থায় আমরা দেখতে পেলাম একটি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার জন্য নদীর ভেতরে এমনিতেই অনুশীলন করছে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা এই নৌকাগুলো নদীর ভিতর দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।
এই নদীর ধারের বটতলাতে বসেই চা, সিঙ্গারা, চটপটি অনেক কিছুই খেলাম সবাই মিলে। আমরা যখন চলে আসবো তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। তখন দেখলাম যে, যেসব জেলেরা নদীতে মাছ ধরে তারা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য সবাই মিলে নৌকাতে উঠছে। নদীতে দিনের বেলা তুলনায় রাত্রিবেলায় বেশি মাছ পাওয়া যায়। তাই জেলেরা সাধারণত সারারাত মাছ ধরে সেটা সকালের দিকে বাজারে এসে বিক্রি করে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। আমার কাছে মনে হয় জেলেদের জীবন আসলেই অনেক কষ্টের হয়। কারণ মাছ ধরতে অনেক সময়, ধৈর্য ও একাগ্রতার প্রয়োজন হয়।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে সুন্দর একটি বিকাল কাটানোটা সত্যিই চমৎকার। প্রকৃতি যেনো হাত বাড়িয়ে ডাকে আমাকে তার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করানোর জন্য। জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে প্রকৃতির ছোঁয়া লাগে জীবন আরো সুন্দর হয়ে
পোস্টের ছবির বিবরন
| ক্যামেরাম্যান | @aongkon |
|---|---|
| ডিভাইস | স্যামসাং জে-৭ প্রো |
| ক্যামেরা | ১৩ মেগাপিক্সেল |
| তারিখ | ৪ ই অক্টোবর ২০২২ |
| লোকেশন | কুষ্টিয়া |
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon
