"গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকা শহরে আসা"

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ১২ ই মে, শুক্রবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। অনেক দিন হলো ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম ঈদের ছুটিতে। আমার ছুটি শেষ হয়েছিল কিছুদিন আগেই কিন্তু আমার দিদির বিয়ের কারণে একটু লেট করে আসতে হলো ঢাকাতে। বরাবরের মতো এবারও ঢাকাতে আসতে মন টানছিল না ঢাকার আবহাওয়া আমার কাছে একদমই ভালো লাগেনা ‌। গ্রামের প্রকৃতিতে থাকতেই আমার সব থেকে বেশি ভালো লাগে। আজকে আমি গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে আসার অনুভূতি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

কভার ফটো

GridArt_20230512_144855946.jpg

কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।



20230512_112441.jpg

আমার বন্ধুরা রাহুল ল আর আমি আগে থেকেই কথা বলে রেখেছিলাম যে দুজনে একসাথে ঢাকাতে ফিরবো। গত পরশুদিন আমার দিদির বিয়ে হয়েছে তাই গতকালকে একটু রেস্ট নিয়ে আজকে ভোর ছয়টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি ঢাকাতে আসার উদ্দেশ্যে। আমি গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেঁটে একটু এগিয়ে গেলাম পাকা রাস্তার দিকে। গ্রামের এরকম মেঠো পথে হাঁটতে আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।

20230512_112618.jpg

আজকে খুব সকালে বের হলে মোবাইলে পাঁচটার দিকে এলাম দিয়ে রেখেছিলাম। তারপর ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম। আমি রেডি হওয়ার পর এই বন্ধু রাহুলকে ফোন দিলাম যে আমি রেডি হয়ে গেছি তুই বের হয়ে আসেক। আমাদের বাড়ি এবং রাহুল দের বাড়ির দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। হেঁটে এসে পাকা রাস্তাতে বন্ধু রাহুলের সাথে গাড়িতে উঠে দুজনে একসাথে আসতে থাকলাম ঢাকার দিকে।

20230512_060626.jpg

আজকের সকালটা একটু মেঘাচ্ছন্ন ছিল তাই সূর্য উঠতে একটু দেরি হচ্ছিল। আর চারপাশের পরিবেশটা অনেক ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছিল। মোটরসাইকেলে করে আসতে তো আমার আর রাহুলের হালকা শীত লাগছিল। আর খুব সকালে বের হওয়ার কারণে চোখে একটু ঘুম ঘুম পাচ্ছিল তাই মোটরসাইকেল অনেক আসতে চালাতে হচ্ছিল। আর পথে কোথাও চায়ের দোকান দেখলে মোটরসাইকেল থামিয়ে মাঝেমধ্যে চা খাচ্ছিলাম। আমার মোটামুটি ২ ঘণ্টার ভিতরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে গেছিলাম।

20230512_073356.jpg

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসার পরে ১৪০ টাকা দিয়ে ফেরির টিকিট ক্রয় করে উঠে করলাম ফেরিতে। আমরা উঠার সাথে সাথে মোটামুটি ছোট ফেরিটি ভরে গিয়েছিল তাই দেরি না করে তখনই পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ফেরিটি রওনা দিল। আমার উপরের এই ছবিতে যে নদী জল দেখা যাচ্ছে এই নদীর নাম হল যমুনা নদী। যমুনার জল পরিষ্কার টলমল করছিলে। নদীর পরিবেশ আমার কাছে সবসময়ই অনেক সুন্দর লাগে।

20230512_073545.jpg

দৌলতদিয়া থেকে ফেরিতে ওঠার একটু পরেই আশ্চর্য একটি জিনিস দেখতে পেলাম। যদিও এই জিনিসটি আগে দেখেছি তবে ক্লিয়ার ভাবে দেখা হয়েছিলো না। আমি দেখলাম যে পদ্মা এবং যমুনা নদীর জল একই জায়গায় কিভাবে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। আমার উপরের ছবিটি নদীর জল হল পদ্মার। পদ্মা জল দেখতে অনেক ঘোলাটে হয়ে থাকে আর পদ্মা নদী যমুনা নদীর থেকে অনেক বেশি উত্তাল।

20230512_080624.jpg

মোটামুটি ৪০ মিনিটের মধ্যে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছে গেলাম। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর মনে হচ্ছিল যে ঢাকাতে চলে এসেছি। আসলে প্রতিবারই এমনটা মনে হয়।

20230512_090447.jpg

খুব সকালে না খেয়ে বের হওয়াতে পথে একটু ক্ষুধা পাচ্ছিল। তাই মানিকগঞ্জের ভেতরে এসে সুন্দর একটি মনোরম হোটেলে আমি আর আমার বন্ধু রাহুল পরোটা ভাজি, ডিম আর ডাল খেয়ে নিলাম। খাওয়ার পরে যেন মনে আলাদা রকম একটা শান্তি লাগছিল।

20230512_095411.jpg

খাওয়ার পরে আমরা আবার পথ চলা শুরু করলাম। সকালের আবহাওয়াতে আসার সময় বেশ ভালই লাগছিল সবকিছু। তারপর যখন ঢাকার ভিতরে চলে আসলাম তখন খুব খারাপ লাগছিল মনের ভেতর। যেমন গরম গরম কেমন যানজট।

20230512_095809.jpg

মোটামুটি চার ঘণ্টার ভেতরে আমরা মোহাম্মদপুর আমাদের মেসে পৌঁছে গেলাম। মেসে আসার পর রুমের অবস্থা দেখে তো বোর লাগছিলো। ২৫ দিন আগে রুম থেকে গিয়েছি ধুলাবালিতে একদম ভরে গিয়েছিল। আমি আর আমার বন্ধু রাহুল মিলে সুন্দরভাবে রং পরিষ্কার করে নিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। তারপর শরীরের হালকা ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুম পাড়লাম।

গ্রামের বাড়ি ছেড়ে ঢাকাতে আসতে আমার কোন সময়ই মন টানে না। প্রকৃতিক পরিবেশকে ছেড়ে আসতে হয়তো কারোরই আমার মত মন টানবে না। কারণ আমরা সবাই প্রকৃতিকে ভালোবাসি। বর্তমানে ঢাকা শহরে আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে করে বাস করাটা অনেক বিপদজনক আমার কাছে মনে হয়। কিন্তু লেখাপড়ার জন্য ঢাকা শহরে বাধ্য হয়ে আসতে হয়। আমার ইচ্ছা আছে লেখাপড়া শেষ হলে ঢাকা শহরে আর না থাকার।



পোস্টের ছবির বিবরন

ক্যামেরাম্যান@aongkon
ডিভাইসস্যামসাং জে-৭ প্রো
ক্যামেরা১৩ মেগাপিক্সেল
তারিখ১২ ই মে
লোকেশনঢাকা, বাংলাদেশ


প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Sort:  
 3 years ago 

ঠিক বলেছেন ভাইয়া গ্রামের বাড়ি ছেড়ে শহরে আসতে কারোরই ভালো লাগেনা। তবে আমরা অনেক সময় বাধ্য হই শহরে থাকতে। হয়তো প্রয়োজনের তাগিদে কিংবা কর্মের তাগিদে শহরে থাকতে হয়। ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে অনেক ভালো লাগলো। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

 3 years ago 

আমার লেখা পড়ে আপনার কাছে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম।সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

ভাই আমারও গ্রামে গেলে আর ঢাকায় আসতে ভালো লাগে না। এত দূষিত যানজটের শহর আর ভালো লাগে না। যাই হোক আপনার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকা শহরে আসার পোস্ট পড়ে ভালো লেগেছে। রাস্তার দৃশ্য দেখতে ভালো লাগছে। বাইকে করে নিশ্চয়ই অনেক মজা হয়েছে। মাঝে নাশতা খেয়ে নিয়েছেন ভালো করেছেন। ধন্যবাদ ভাইয়া।

 3 years ago 

আমার সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

 3 years ago 

বেশ সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করলেন আপনি অনেক ভালো লাগলো। আপনি ঠিক বলছেন গ্রামের পরিবেশে থাকতে অনেক ভালো লাগে শহরের যানজট পরিবেশ আর ভালো লাগে না এখন। আমি যখন কক্সবাজার থেকে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলাম তখন আসতে মন চাচ্ছিল না। কিন্তু কি আর করার একজনের অফিস ছোটদের স্কুল তাই চলে আসতে হল তাড়াতাড়ি। অনেকক্ষণ মোটরবাইক জার্নি করার পর খিদা লাগলে খেয়ে নিলেন। সকাল সকাল জার্নি করার পরের খাওয়াটা আসলে অনেক শান্তির ব্যাপার। বেশ ভালো লাগলো আপনার অনুভূতি পড়ে।

 3 years ago 

আপনার অনুভূতির কথা ও জানতে পেরে বেশ ভালো লাগলো। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

ভাই আমার তো মনে হয় ঢাকা সবাই বাধ্য হয়ে থাকে। মনের সুখে কেউ ওখানে থাকতে যায় না। সব থেকে অবাক হলাম যে এতটা রাস্তা বাইক নিয়ে এসেছেন। ভালো ভাবে যে পৌঁছেছেন এটাই বড় কথা। আর ছুটি কাটিয়ে আমিও যখন হলে যেতাম, রুমের অবস্থা দেখে একদম কান্না পেত।

 3 years ago 

হুম দাদা।আমারো রুমে এসে কান্না পাচ্ছিলো দাদা। সুন্দর গঠনমূলক মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।

 3 years ago 

বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ শহর মুখী হয়ে যায়। আজ আপনি আমাদের মাঝে গ্রাম থেকে শহরে আসার এক বিশেষ অনুভূতি শেয়ার করেছেন এই পোষ্টের মধ্যে। আর বিশেষ বিশেষ অংশের ফটোগ্রাফি উপস্থাপন করেছেন। খুবই ভালো লাগলো আপনার এই সুন্দর পোস্ট দেখে। আশা করি ঢাকা শহরের বিশেষ কিছু আমাদের মাঝে তুলে ধরবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.101
BTC 66156.91
ETH 1933.06
USDT 1.00
SBD 0.38