"ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার পদে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১০ ই জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজকে আমার পোস্টটি হল ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে ফায়ার ফাইটার পদে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কোন চাকরির জন্য এটাই আমার জীবনের প্রথম লিখিত পরীক্ষা ছিল। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে তিনটি ধাপে পরীক্ষা হয়ে থাকে প্রথমটি শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা আর এই পরীক্ষাতে আমি পাশ করেই দ্বিতীয়তে লিখিত পরীক্ষা দেয়ার জন্য মেসেজ পেয়েছিলাম এবং সর্বশেষ ধাপটি হলো মৌখিক পরীক্ষা যেটা আমাকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দিতে হবে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সে লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমি উদ্ভুদ্ধ হয়েছিলাম, আরো সাথে ছিল কৌতুহল, কারণ এটা আমার জীবনে চাকরির প্রথম লিখিত পরীক্ষা ছিল।
শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় পাশ করার পরে আমার আমার ফোনে একটি ম্যাসেজ আসে লিখিত পরীক্ষার এডমিট কার্ড ডাউনলোড দেওয়ার জন্য। তারপর আমি যে মেসেজ থেকে নিজেই এডমিট কার্ডটি ডাউনলোড দিয়ে কম্পিউটারের দোকান থেকে একটি কপি বের করে নিই। লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার আগের দিনই আমি বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। খোকসা থেকে ডাইরেক্ট বাসে করে ঢাকায় এসে আমার মামার মেসে উঠি পরীক্ষা দেয়ার জন্য।
শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা দেওয়ার সময় ঢাকা এসেছিলাম সেটা ছিল আমার প্রথম ঢাকা আসা আর লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সময় ঢাকা আসলাম এটা হল আমার দ্বিতীয় ঢাকা আসা। ঢাকাতে আসার পর খুব ভয়ে যাচ্ছিল সময়টা কারণ ঢাকার কিছুই চিনতাম না আমি কোথায় পরীক্ষা দিব কিভাবে পরীক্ষা দিব সময় ছিল মামার উপর নির্ভরশীল। পরীক্ষার আগের দিন মামার মেসে রাত কাটালাম তারপর পরীক্ষার দিনে পরীক্ষার সময় যত কাছে আগা ছিল তত টেনশন বেড়ে যাচ্ছিল।
আমার লিখিত পরীক্ষার্থী ছিল বিকাল তিনটায় শান্তিনগর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে। আমি তো কিছুই চিনি না তাই মামাকে বললাম যে যাতে পরীক্ষার কেন্দ্রে আমাকে যেভাবেই হোক সময় করে দিয়ে আসে। তারপর পরীক্ষার দিনে দুপুর ১ঃ০০ টার দিকে দুজনে বাসে করে চলে গেলাম হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সামনে গিয়ে দেখলাম অনেক লোক যেটা দেখে আরও বেশি ভয় লাগছিল যে এত লোকের ভিতরে পরীক্ষা দিয়ে মৌখিক পরীক্ষার জন্য লাভ হওয়াটা অনেক বেশি কঠিন। যাইহোক লিখিত পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমার নিজের কনফিডেন্স ছিল যে আমি ভালো কিছু করব কারণ আমি প্রস্তুতিটা মোটামুটি বেশ ভালোই নিয়েছিলাম পরীক্ষার আগে।
তারপর মামা আমাকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে মামা তার কাজে চলে গেল। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকানোর সময় এডমিট কার্ড চেক করে একজন একজন করে ভেতরে নিচ্ছে এভাবে অনেকটা সময় পার হয়ে গেল তারপর ভেতরে ঢুকলাম। তারপর বাইরের নোটিশ দেখে রুম নাম্বার খুঁজে বের করে নিলাম। আমি ভুল করে মামার কাছে মোবাইল না দিয়ে খুব বেশি ভয় হচ্ছিল কারণ পরীক্ষার হলে মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষেধ ছিল। কিন্তু মামা চলে যাওয়াতে তখন আর আমার কোন উপায় ছিল না, মোবাইল কাছে রাখতেই হতো।
তারপর হঠাৎ স্যাররা এসে বলল যাদের কাছে মোবাইল আছে তারা মোবাইলে এসে সামনে রেখে দাও এই কথাটা শোনার পরে অনেক বেশি শান্তি লাগছিল যে নিশ্চিন্তায় পরীক্ষাটা দেওয়া যাবে। তারপর কাছে ফোন ছিল সেটা সামনে টেবিলের উপর রেখে আসলাম। তারপর বসে থাকার একটু পরেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চলে এলো।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটারের লিখিত পরীক্ষা হয় এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে। লিখিত পরীক্ষায় মোট ৭০ এমসিকিউ প্রশ্ন থাকে, এখানে ভুল উত্তর দেয়ার জন্য কোন নেগেটিভ মার্ক নেই এটা একটা ভালো দিক। প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ১ করে অর্থাৎ ৭০ টি প্রশ্নের পূর্ণমান ৭০। এই পরীক্ষার প্রশ্ন খুবই সহজ মানের হয়ে থাকে নবম-দশম শ্রেণীর বই পড়লেই মোটামুটি সবাই কমন পাওয়া যায়। আর আমার আগে থেকেই এই পরীক্ষার প্রশ্ন প্যাটার্ন সম্বন্ধে জানতাম তাই প্রস্তুতিটাও বেশ ভালো মতোই নিয়েছিলাম।
যাইহোক পরীক্ষাটা বেশ ভালোই দিলাম নিজের কাছে মনে হল কারন আমার ৬০ টি মত এমসিকিউ কমন এসেছিল এবং আর যে ১০ টি ছিল সেগুলো কনফিউশনের সাথে বৃওগুলো ভরাট করে দিয়ে আসলাম, কারণ এখানে নেগেটিভ মার্ক নাই তাই সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায় লাভজনক। পরীক্ষা শেষ করে একা একাই মামার মেসে চলে আসলাম আবার তারপর সেদিনে সন্ধ্যার দিকে মামার সাথে ঘোরাঘুরি করে মামার মসে থেকে তারপরের দিন আবার বাড়ি চলে আসলাম।
আর বাড়ি এসে ওয়েট করতে থাকলাম পরীক্ষার রেজাল্ট টা কবে দেয়। যদিও পরীক্ষা কেন্দ্রে সবাই বলাবলি করছিল ১০ দিনের ভিতর রেজাল্ট দিয়ে দেবে তাই রেজাল্টটা পাওয়ার জন্য আরো মনটা বেশি উতলা হয়ে ছিল। যাইহোক সপ্তাহখানেক যাওয়ার পরেই একদিন রাত বারোটার দিকে সুখবরটা পেয়ে গেলাম।
তখন আমার খুশি দেখে কে আমি এতটাই খুশি হয়েছিলাম যে নিজের কাছে অন্যরকম লাগছিল। তখন ঐ বাবাকে ডেকে বললাম যে আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছি সামনে মৌখিক পরীক্ষায় দেব, আমার কথা শুনে বাবাও অনেক খুশি। তারপর আমি মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকলাম।
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
@aongkon

আপনার সাফল্যের সংবাদ শুনে ভাল লাগল।আমিও অনেকবার বাহিনীর পরীক্ষা দিয়েছি।তাই আপনার অনুভূতিটা বুঝতে পারছি। আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা রইল।আশা করি আপনার চাকুরী হয়ে যাবে।ধন্যবাদ শুভ সংবাদ টি সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
সুন্দর মতামত প্রদান করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
প্রথমবার চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়ে দুটোই পাস করেছেন। আর এখন বাকি রইল মৌখিক পরীক্ষা। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল যাতে আপনার চাকরি হয়ে যায়। কষ্টটা প্রথম দিকেই সফল হোক তাহলে দ্বিতীয় বার আপনি আরো ভালো কিছু করতে পারবেন। তবে অপেক্ষায় থাকবো চাকরি পেলে অবশ্যই জানাবেন।
সুন্দর মতামত প্রদানের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। যাই হোক না কেন অবশ্যই জানাবো সবার।