ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ে ও পদ্মা সেতু ভ্রমণ - ৩য় পর্ব।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ২৪ ই সেপ্টেম্বর, রবিবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



কভার ফটো

20230924_142631.jpg

কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আমার বাংলা ব্লগে প্রতিদিন নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার খুব ভালো লাগে। আমি আর আমার বন্ধু রাহুল বেশ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর গত পরশু ঢাকাতে এসেছি। ঢাকাতে আসার পরে বাড়িতে কাটানোর সময় গুলো আসলে খুবই মিস করি। গ্রামীন পরিবেশের ভিতর থাকতে সব সময় আমি অনেক পছন্দ করি। আমি অনেকবারই বলেছি যে, ঢাকা শহর আমার কিছুতেই পছন্দ হয় না।

কংক্রিটের শহর ধুলোবালি, দূষিত আবহাওয়া সবকিছু বিবেচনা করলে ঢাকা শহরটা মোটেই ভালো লাগে না আমার কাছে। আসলে বাড়িতে গেলে পরে ঢাকাতে আসতেই মন চায় না। প্রতিবারই যখন আমরা বাড়িতে যাই বাড়ি থেকে থাকাতে আসার সময় দৌলতদিয়া পাটুরিয়া ঘাট পার হয়ে ঢাকাতে আসি। কিন্তু এবারের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আর ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দেখার জন্য ফরিদপুর হয়ে মাওয়া দিয়ে ঢাকাতে এসেছিলাম। আমি এ গত সপ্তাহের একটি পোস্টে ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ে ও পদ্মা সেতু ভ্রমণের-১ম ও ২য় পর্ব শেয়ার করেছিলাম। আর আজকে আমি ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ও পদ্মা সেতু ভ্রমণের - ৩য় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

20230918_133249.jpg

... আমরা পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তে এসে ফেরি ঘাটের দিকে যায়। যেহেতু আমরা আর সকালে বের হয়েছি আর আসতে আসতে প্রায় দুপুর হয়ে গেছে তাই বেশ ভালই ক্ষুধা লেগে গেছিলো। সবকিছুই সহ্য করতে পারে কিন্তু ক্ষুধাটা সহ্য হয় না। মাওয়া ফেরি ঘাটের দিকে অনেক রেস্টুরেন্ট আছে যেগুলোতে দুপুরের খাবারটা খাওয়া যাবে। মাওয়া ফেরিঘাটে এই জায়গাতে আমি আগে কখনো আসিনি তবে আমার বন্ধু রাহুল কয়েকবার এখানে এসেছিলো। রাহুলের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে এখানে দিনের বেলা থেকে রাত্রে বেলা থেকে প্রচুর পরিমাণে লোক হয় এবং এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিড় থাকে।

20230918_132854.jpg

আমার বন্ধু রাহুল এর আগে কয়েকবার মে, রেস্টুরেন্টে গিয়েছে সেই রেস্টুরেন্টেই আমরা যাই এবং সেখানে গিয়ে ৩০০ টাকা দিয়ে মোটামুটি সাইজের একটি ইলিশ মাছ ক্রয় করি। আর এখানে যে রেস্টুরেন্ট থেকে ইলিশ মাছ কেনা হয় সেই রেস্টুরেন্ট থেকে সুন্দর মত ইলিশ মাছ ভাজি করে দেয়।

20230918_135126.jpg

তারপর আমরা কিছু সময় রেস্টুরেন্টে বসে রেস্ট করতে থাকলাম যতক্ষণ না পর্যন্ত ইলিশ মাছ ভাজি হয়। আমরা যে ইলিশ মাছ করায় করেছিলাম সেটা মাথাসহ পাঁচ পিচ মাছ হয়েছিলো। এমন সুন্দর ইলিশ মাছ ভাজি দেখে তো আমার আর খাওয়ার জন্য তর সইছিলো না। আপনারা হয়তো বুঝতেই পারছেন সরিষার তেল দিয়ে ইলিশ মাছ ভাজি করলে কতটা সুস্বাদু হয়।

20230918_135153.jpg

20230918_135141.jpg

আর ইলিশ মাছের লেজের অংশ দিয়ে সুন্দর একটি ভর্তা বানিয়ে দিয়েছিলো। আর এই ভর্তা ইলিশ মাছ ভাজির থেকেও বেশি সুস্বাদু হয়েছিলো। আমরা ১০০ টাকার ভাত, ডাল, সালাত আর একটি জলের বোতল নিলাম। আমরা ৪০০ টাকার ভেতরে বেশ ভালো খাবার পেলাম। আমার কাছে মনে হয় ৪০০ টাকা দিয়ে দুইজনের এমন খাবার হয়তো খুব কম জায়গায় পাওয়া যাবে।

20230918_135202.jpg

তারপর সব খাবার আমাদের টেবিলে রেডি করে দিয়ে গেলে আমরা একজন পেট পুরে খেয়ে নিলাম। এমন সুন্দর খাবার খাইতে পেরে তো আমি ভীষণ খুশি। তবে আমার ইচ্ছা আছে রাতের বেলায় এই জায়গাটিতে আবার যাওয়ার। কারণ বন্ধু রাহুল বলেছিল যে, ফেরিঘাটে রাতের বেলাতে প্রচুর পরিমাণে মানুষজনের সমাগম ঘটে। কারণটা পদ্মা নদীর স্নিগ্ধ বাতাস এই জায়গাটি দিয়ে প্রবাহিত হয়। আর সবাই নদীর পাড়ে এসে রাতের বেলায় সময় কাটায়।

20230918_142121.jpg

আমরা এখান থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে পদ্মা নদীর পাড়ের যে জায়গাটিতে মানুষজন এসে সমাগম ঘটায় সেখানে গেলাম। তবে দুপুরের দিকে মানুষ নেই বললেই চলে কারণ সেখানে প্রচন্ড সূর্যের তাপ। এই জায়গাটি থেকে পদ্মা সেতুর মোটামুটি সম্পূর্ণ অংশ দেখা যায়। আমরা এই জায়গাটিতে বাইক থামিয়ে কয়েকটি ছবি তুলেই দুই বন্ধু ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। তারপর মাওয়া থেকে মেসে আসতে আসতে আমাদের প্রায় দুই ঘন্টা মতো সময় লেগেছিলো।

আজকে আমি ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু ভ্রমণের - ৩য় পর্ব আপনাদের সাথে শেয়ারের মাধ্যমে সকল পর্ব গুলো শেষ করলাম।



পোস্টের বিবরন

পোস্ট ধরনভ্রমণ
ডিভাইসস্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
ক্যামেরা১০৮ মেগাপিক্সেল
তারিখ১৮ই সেপ্টেম্বর
লোকেশনঢাকা, বাংলাদেশ


প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



আমি কে !

20230826_112155.jpg

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে, ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  
 3 years ago 

আপনার পোস্ট পড়ে বেশ ভালোই লাগলো।আসলে ৩০০ টাকা দিয়ে ইলিশ কিনে তারপর আবার সুন্দর করে ভাজি করে দুয়েছে। মাছ ভাজি গুলো দেখে অনেক ভালো লেগেছে। এমন খাবার হলো সত্যি অনেক ভালো লাগে। ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর কাটানো মূহুর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

আমরাও এমন সুন্দর খাবার পেয়ে পেট পুরে খেয়েছিলাম। আমার পোস্টটি পড়ে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

বন্ধু আসলে দিনটা অনেক মজার ছিল। বিশেষ করে যখন দুপুরে খিদা পেটে ইলিশের লেজ ভর্তা দিয়ে ভাত খাচ্ছিলাম তখন অসম্ভব ভালো লাগছিল। তাছাড়া পুরা রাস্তাটা আমরা অনেক বেশি ইনজয় করেছি

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আসলেই ক্ষুধা লাগলে খাবারের স্বাদ এমনিতেই বেড়ে যায়। তবে স্বাদ কিন্তু আসলেই অনেক ভাল ছিলো। পুরো রাস্তা ইউরোপের মতো।

 3 years ago 

আসলে এই বন্ধুবান্ধব অথবা পরিবারের মানুষদের সাথে কোথাও ঘুরতে গেলে অনেক আনন্দ হয়। ইলিশ মাছ কিনে সেটা ভাজি করেছেন আবার ইলিশ মাছের নিজের ভর্তা তৈরি করেছেন দেখে ভালোই লাগলো। আমি তো ইলিশ মাছ ভাজি দেখেই ভেবেছি হয়তো অনেক ঝাল ঝাল হবে। যেভাবে শুকনো লঙ্কা দিয়েছে ওটা দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। খুব মজা করলেন দেখে আমার ভালো লাগলো। পোস্টটি সুন্দরভাবে আমাদের মাঝে তুলে ধরলেন।

 3 years ago 

হ্যাঁ ঝাল ঝাল হবে এটাই তো স্বাভাবিক তবে খেয়ে কিন্তু অনেক মজা পেয়েছি। আপনি নিশ্চয়ই ঝাল পছন্দ করেন না। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 3 years ago 

পদ্মা সেতু ভ্রমণ করতে গিয়ে বেশ সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন। যেহেতু সকালে বের হয়েছেন দীর্ঘ যাননি দুপুর টাইমে বেশ ক্ষুধা তো হয়ে গিয়েছিলেন তাই খাওয়ার জন্য সুন্দর একটি রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হয়েছেন এবং খাওয়া-দাওয়ার কার্যক্রম করেছেন দেখে ভালো লাগলো। পদ্মা সেতু ভ্রমণের অভিজ্ঞতার বেশ অসাধারণ অনুভূতি আমাদের মাঝে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে শেয়ার করছেন দেখে অনেক অনেক খুশি হলাম।

 3 years ago 

হ্যাঁ ভাই সকালে বেরিয়েছিলাম দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে দুপুরের বেশ ভালই ক্ষুধা লেগে গিয়েছিলো। তবে হোটেল থেকে খাবার খাওয়ার পরে খুব শান্তি লাগছিলো। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

বেশ সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করছেন ভাই। ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ে ও পদ্মা সেতু ভ্রমণের তৃতীয় পর্ব দেখে খুব ভালো লাগলো। খাওয়া-দাওয়ার মুহূর্ত গুলো খুব সুন্দর ভাবে অতিবাহিত করছেন। আসলে ইলিশ মাছ ভাজি করে খাওয়ার মজাটাই আলাদা। আপনাদের সময় বেশ চমৎকার কাটছে। ভ্রমণের এত চমৎকার মুহূর্তের অনুভূতি আমাদের মাঝে ভাগ করে নেওয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

আসলেই ভাই ইলিশ মাছ ভাজি আর ভাত খাওয়ার মজাই আলাদা। ক্ষুধা লেগেছিলো তাই খাওয়া-দাওয়ার মুহূর্তগুলো বেশ সুন্দরভাবে উপভোগ করেছি। সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64236.74
ETH 1844.25
USDT 1.00
SBD 0.38