"সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শুরু"
হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ- ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, রবিবার,২০২৪ খ্রিঃ।
আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্য ও সদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।
আমরা লাকমাছঢড়া ভ্রমণ শেষ করে সোজা চলে আসি টাঙ্গুয়ার হাওরের টেকেরঘাটের নৌকা ঘাটে। আমরা যখন লাকমাছড়া থেকে টেকেরঘাটে পৌঁছায় তখন দুপুর তিনটা বাজে। আমরা টেকেরঘাটে এসে প্রথমেই নৌকা ঘাটের দিকে যায়। কারণ আমাদেরকে এখন একটি নৌকা ভাড়া করে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণ শুরু করতে হবে। যত সময় যাচ্ছিল ততই দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে আসছিলো।
আমাদের প্ল্যানিং মত টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে হলে বেশ দ্রুত নৌকা ভাড়া করে এখান থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের যাত্রা শুরু করতে হবে। আমরা নৌকা ঘাটে এসে দুপুরে তুলনায় কয়েকটা বেশি নৌকা দেখতে পেলাম। তারপর আমরা নৌকার মাঝিদের সাথে দাম দরের বিষয় নিয়ে কথা বললাম। এখানে নৌকার মাঝিরা দুপুরের টাইমে নৌকার ভাড়া একটু বেশি চায়। সেজন্যই আমরা লাকমাছড়া ভ্রমণ শেষ করে আবার এখানে এসেছিলাম।
নৌকার ঘাটে বেশ কয়েকটা নৌকা ছিল কিন্তু দুঃখের বিষয় ছিল বড় নৌকা একটাও ছিল না। আর আমাদের যেহেতু দুইটা বাইক রয়েছে তাই আমাদের একটু বড় নৌকা হলে সবথেকে বেশি ভালো হতো। কারণ এতটা দূর পথ জাবো বেশি ছোট নৌকাতে দুটো বাইক নিয়ে আরো ছয় জন মানুষ মাঝি সহ যাওয়াটা কষ্টকর। তারপরেও উপায় না দেখে আমরা ছোট নৌকার মাঝিদের সাথে নৌকা ভাড়া আর বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করলাম।
কয়েকটা মাঝির সাথে কথা বলে শেষ পর্যন্ত আমরা পনেরশো টাকা দিয়ে নৌকা ভাড়া করলাম। যদিও আমাদের কাছে এমাউন্টটা ২০০ টাকা মতো বেশি হয়েছে কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না আমাদেরকে তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের হয়ে পড়তে হবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি এখান থেকে ভ্রমণ শুরু করব ততই টাঙ্গুয়ার হাওরের বিকালের সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করতে পারব।
যদিও ছোট নৌকাটি ভাড়া করেছিলাম তারপরেও আমাদের মনের ভিতর একটু ভয় ভয় কাজ করছিলো। আরে ভয়ের কারণ ছিলো এখানকার একজন স্থানীয় ভাই আমাদেরকে বলেছিল কয়েকদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরের ভেতরে হঠাৎ ঝড় ওঠার জন্য নৌকা ডুবে দুই জন মানুষ মারা গিয়েছে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় একটু বড় নৌকা নিলেই আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো রিস্ক কম থাকতো।
ওই স্থানীয় ব্যক্তির কথা শোনার পরে একটু ভয় ভয় কাজ করছিলো। তবে আমরা যেহেতু আমাদের এলাকায় পদ্মা নদীতে ভালোই নৌকা বিলাস করি তাই আমাদের কাছে এসব ট্রাভেল এডভেঞ্চারের মত। আমি আর আমার বন্ধু রাহুল বিশেষ করে এরকম অ্যাডভেঞ্চার ট্রাভেলই অনেক বেশি পছন্দ করি। তাছাড়াও আমরা সারাদিন বাইক নিয়ে যেসব জায়গায় ভ্রমণ করেছিলাম বেশিরভাগ জায়গাগুলোই ছিল এডভেঞ্চার ভ্রমণ।
আমাদের বাইক দুটো প্রথমে নৌকাতে উঠিয়ে বেশ শক্ত ভাবে বেঁধে নিলাম। ছোট নৌকা হওয়ার কারণে অবশ্য দুইটি বাইক তুলতে আমাদের বেশ ভালই ঝামেলা পোহাতে হয়েছিলো। তারপরে আমরা সবাই মিলে নৌকায় উঠে টেকেরঘাট থেকে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের যাত্রা শুরু করলাম।
ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: সুনামগঞ্জ, সিলেট
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩
প্রিয় বন্ধুরা,
আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।
আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।
@aongkon

বাহ আপনি বেশ ভ্রমন প্রিয় মানুষ তা বোঝাই যাচ্ছে। যদিও সবগুলো পর্ব আমার দেখা হয়নি। কিভাবে যে বাইক নৌকায় করে পার করেছেন। ঝামেলা পোহাতেই হয়েছিল।
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর সম্পর্কে বিভিন্ন বই পুস্তুকে পড়েছি। কখনো নিজ চোখে গিয়ে দেখা হয়নি। আপনার মাধ্যমে সুনামগঞ্জের অনেক কিছু দেখেছি। স্টিমিট প্লাটফর্ম আমার কাছে ফেসবুকের মত কাজ করে। অনেক কিছু জানতে পারি। দারুন অনুভূতি ছিল। ধন্যবাদ।