"ভ্রমণ: "সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান-অন্তিম পর্ব"

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago


হ্যালো..!!
আমার সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আমি @aongkon বাংলাদেশের নাগরিক

আজ- ২৯ শে নভেম্বর, বুধবার, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ

আমি আশা করি, আপনারা সবাই সুস্থ এবং সুন্দর আছেন। আমার মাতৃভাষা বাংলার একমাত্র ব্লগিং কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ফাউন্ডার, এডমিন প্যানেল, মডারেটর প্যানেল এবং সকল সদস্যসদস্যাদের আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন রইল।



কভার ফটো

কয়েকটি ছবিকে একত্রিত করে সুন্দর একটি কভার ফটো তৈরি করে নিয়েছি।



আজকে আমি আপনাদের সামনে নতুন একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। প্রতিনিয়ত আপনাদের সামনে নতুন নতুন পোস্ট শেয়ার করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। আপনারা অনেকে জানেন যে, আমি কিছুদিন আগে আগস্ট মাসের শেষের দিকে সিলেটে ভ্রমণে বেরিয়েছিলাম। এই ভ্রমণটা আমার জীবনের সবথেকে বড় একটি ভ্রমণ ছিলো। আর এই ভ্রমণ থেকে আমি অনেক জ্ঞানলাভ করতে পেরেছি। আসলে মানুষের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার ও প্রয়োজন হয় আর মানসিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজন বেশি বেশি ভ্রমণ করা আর জ্ঞান লাভ করা। এর আগে আমি সুনামগঞ্জ মিনি কক্সবাজার ভ্রমণ, পদ্মবিল ভ্রমণ, সুনামগঞ্জের হাওর বিলাস ও সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে ১ম, ২য় পর্ব ও ৩য় এবং সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান-১ম পর্ব" শেয়ার করেছিলাম। আর আজকে আমি "সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান- অন্তিম পর্ব" আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

..... আমরা শিমুল বাগানের ভিতর ঘুরছিলাম আর যার যার মত ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত ছিলাম। এত সুন্দর জায়গা দেখলে সবারই ইচ্ছা করবে ফটোগ্রাফি করতে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। এমন সুন্দর সবুজে ভরা শিমুল বাগানে আসার পরে মনটা বেশ ভালো হয়ে গেছিলো। সবুজে ভরা শিমুল বাগানের ভেতরে বেশ কয়েকটি ঘোড়া ঘাস খাচ্ছিল আমি এই সুন্দর মুহূর্তের ফটোগ্রাফি করে রেখেছিলাম। এইসব ঘোড়াগুলো দিয়ে এখানকার মানুষেরা বেশ ভালই ব্যবসা করে থাকে।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

আমরা আশেপাশে ঘুরে বেড়ানোর সময় বেশ ঘরা ব্যবসায়ীরা বারবার এসে ঘোড়াতে চড়ার জন্য অনুরোধ করছিলো। তাই প্রথমের দিকে কয়েকজনকে ফেরত জানালেও একটি বাচ্চা ঘোড়া নিয়ে আমাদের কাছে আসে এবং আমাদেরকে ঘোড়াতে চলার জন্য অনুরোধ জানাই। তারপর আমি আমাদের গ্রুপের সবার সাথে কথা বলে বাচ্চার সাথে ঘোরাতে চড়ার জন্য দাম দর করে নিই। এত অল্প বয়সে বাচ্চাটি ঘোড়া নিয়ে ব্যবসা করছে এটা বেশ অবাক করার মতো একটা বিষয়।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

তারপর শুরু হয়ে গেল ঘোড়াতে উঠে যার যার মত ছবি তোলা। আমার বন্ধু রাহুল তো সবার ছবি তুলতে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমি সব সময় ফোন দিয়ে ছবি তুলতে এই সব থেকে বেশি পছন্দ করি। তারপরেও সবার ছবি তুলে দেয়ার খাতিরে ডিএসএলআর দিয়েও ছবি তুলে দিতে হয়েছে। আমার বন্ধু রাহুল বেশ ভালো মানের একজন ফটোগ্রাফার। আর আমার বন্ধু রাহুলের থেকেই ফটোগ্রাফির অনেক বিষয় শিখতে পেরেছি।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

সবাই বিভিন্ন স্টাইলে ঘোড়া নিয়ে ছবি উঠার পরে বন্ধু রাহুল আমাকে বলল যে, এবার তুই যা আমি ছবি তুলে দেই। তখন আমি বললাম যা আছে ঠিক আছে কিন্তু আমি বেশি ছবি উঠবো না। তাই যে কয়টাই ছবি তুলবি বেশ ভালো করে তুলবি। আসলে আমি ছবি নিজে উঠার থেকে ছবি অন্য কাউকে তুলে দিতেই বেশি পছন্দ করি। কারণ ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

তারপর আমার ছবি তুলে দেয়ার পর বন্ধু রাহুলকে বললাম যে, তুই তো ছবি উঠলি না এবার তুই যা আমি কয়েকটা ছবি তুলে দেই তোর। তারপর বন্ধু‌ রাহুল বেশ কয়েকটি স্টাইল দিতে থাকলো আর আমি ছবি তুলতে থাকলাম। এভাবে সবার ছবি তুলে দিতেই অনেকটা সময় আমরা শিমুল বাগানে পার করে ফেলেছিলাম। তারপর আমাদের ঘোড়া নিয়ে ছবি তোলা শেষ হলে ওই বাচ্চার সাথে মিটানো টাকার সাথে আরো ২০ টাকা বেশি দিয়ে দেই।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

আমরা বাগানের ভেতরের দিকে খুব একটা দেরি না করে আবার জাদুকাটা নদীর পাশে চলে আসি যে, পাশ দিয়ে আমরা বাগানের ভেতরে প্রবেশ করেছিলাম। কারণ এখানে যতো দেরি করা যাবে ততই বেশি সমস্যা আমাদের আরো কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র আজকের দিনের ভেতরেই ঘুরে শেষ করতে হবে।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

শিমুল বাগানের ভেতর থেকে সবার সাথে কয়েকটি সেলফি উঠে ছিলাম। এই সেলফিতে ডান দিক থেকে পর্যায়ক্রমে বন্ধু রাহুল, কনক আর পলাশ কাকা রয়েছে। এই সেলফিটা ওঠার সময় আমার বড়দা কাকন একটু সাইডে ছিল বলে ওর সাথে সেলফি তুলতে পারি নাই শিমুল বাগান থেকে।


ডিভাইস: স্যামসাং গ্যালাক্সি এফ-৫৪
লোকেশন: শিমুল বাগান, সুনামগঞ্জ
তারিখ: ৩০ শে আগস্ট ২০২৩

শিমুল বাগানের ভেতরে ঘুরে ঘুরে বেশ ভালো এই হাপিয়ে গিয়েছিলাম। আর আমরা যেটুকু জল নিয়েছিলাম সেটুকু জল ফুরিয়ে গিয়েছিলো। আমরা শিমুল বাগান থেকে বের হওয়ার সময় দেখি যে একজন আইসক্রিম বিক্রি করছে। তারপর আইসক্রিম বিক্রি করে তার থেকে সবাই একটি করে আইসক্রিম কিনে খেলাম। যদিও আইসক্রিমটা স্বাদ খুব একটা ভালো পেলাম না তবে জলের পিপাসাটা মিটেছিলো।

আমি এই পর্বে ভ্রমণ পোস্ট "সুনামগঞ্জে শিমুল বাগান- অন্তিম পর্ব" আপনাদের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ শিমুল বাগান ভ্রমণের সকল পর্বগুলো এখানেই শেষ করলাম।



প্রিয় বন্ধুরা,

আমি স্টিমিট প্ল্যাটফর্মে আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে প্রতিনিয়ত আমার সৃজনশীলতা দিয়ে ভালো কনটেন্ট শেয়ার করে এই কমিউনিটিকে সমৃদ্ধ করতে চাই এবং উচ্চতার শিখরে নিয়ে যেতে চাই। আমার ব্লগটি কেমন হয়েছে আপনারা সবাই কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই মন্তব্য করবেন, সামান্য ভুল ত্রুটি অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সুপরামর্শ দিয়ে পাশে থাকবেন। আবার দেখা হবে নতুন কোনো পোস্ট নিয়ে শীঘ্রই, ততক্ষণে সবাই নিজের খেয়াল রাখবেন সুস্থ এবং সুন্দর থাকবেন এটাই কাম্য করি।



আমি কে !

20230826_112155.jpg

আমি অংকন বিশ্বাস, আমার ইউজার নেম @aongkon। আমি মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমিকে সব থেকে বেশি ভালোবাসি। আমি হৃদয় থেকে ভালবাসি সৃষ্টিকর্তা ও তার সকল সৃষ্টিকে। আমি বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে সিভিল টেকনোলজিতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে লেখাপড়া করছি। আমি ভ্রমণ করতে, গান গাইতে ও শুনতে, কবিতা লিখতে ও পড়তে, আর্ট করতে, রান্না করতে ও ফটোগ্রাফি করতে খুবই পছন্দ করি। "আমার বাংলা ব্লগ" আমার গর্ব "আমার বাংলা ব্লগ" আমার ভালোবাসা। আমার নিজের ভেতরে লুকায়িত সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে "আমার বাংলা ব্লগে" আমার আগমন। এই স্বল্প মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষণ আমার কাছে উপভোগ্য। আমি মনে করি, ধৈর্যই সফলতার চাবিকাঠি।



সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ
@aongkon



VOTE@bangla.witness as witness witness_proxy_vote.png
OR
SET @rme as your proxy
witness_vote.png

standard_Discord_Zip.gif

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  
 3 years ago 

সুনামগঞ্জের শিমুল বাগান ভ্রমণের খুবই সুন্দর একটি পোস্ট আপনি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। শিমুলবাগান ভ্রমণের ক্ষেত্রে ঘোড়ায় চড়ার বিষয়টি আমার কাছে সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর একটি ভ্রমণের পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

 3 years ago 

হ্যাঁ ভাই শিমুল বাগানে গিয়ে ঘোড়াতে উঠতে পেরে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। শিমুল বাগানে ভ্রমণে সুন্দর মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলাম। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই সুন্দর মন্তব্য করে সবসময় পাশে থাকার জন্য।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.088
BTC 60204.47
ETH 1615.58
USDT 1.00
SBD 0.41