আজ বিকেলের আয়োজন
নমস্কার সবাইকে,
আমার বাংলা ব্লগ এর সকল সদস্যদের আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ভালবাসা এবং সবাইকে শ্রমিক দিবসের শুভেচ্ছা।আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি ঈশ্বরের কৃপায়।
বউ এর আজ বিকেলের নাস্তার আয়োজন নিয়ে কিছু লিখতে যাচ্ছি।
বিকেলের নাস্তার আয়োজন
আজ ছিলো ১লা মে (শ্রমিক দিবস) যে কারণে অফিস ছুটি ছিলো। অনেক দিন পর আজ আমি দুপুর ১২.৩০ টা পর্যন্ত ঘুমিয়েছি। সকালে আমাদের আজ অবশ্য একটু বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমার ঘুম আর আজ একাদশি হওয়ার কারণে বাহিরে আর যাওয়া হলো না।
যেহেতু আজ একাদশি ছিলো যার জন্য বাসাই তেমন রান্নাও হয় নাই। অবশ্য আমি একাদশি করতে পারি নি ভুল করে খেয়ে ফেলার জন্য। তবে আমার সহধর্মিণী একাদশির উপশ করছে।
প্রিয়ার সন্ধায় উপশ খুলে খাওয়ার জন্য বাজারে যেয়ে কিছু ফ্রুইটস কিনে আনলাম। অফিস এর কিছু কাজ ছিলো সেগুলো শেষ করে প্রিয়ার জন্য বেলের সরবত বানালাম।
বেলের সরবত
বেল এবং গুড় দিয়ে বানিয়ে ফেললাম সরবত এবং সরবত ফ্রিজ এ রেখে দেই ঠান্ডা হওয়ার জন্য। বেলের সরবত কিন্তু অনেক উপকারি শরীরের জন্য। বিশেষ করে গরমের ক্লান্তি দূর করার জন্য এবং শরীরের জলের ঘাড়তি পুরন করার জন্য বিশেষ অবদান আছে এই বেলের সরবত এর।
এরপর হঠাৎ মনে হলো ঘরে কাচা আম আছে, কাচা আমের জুস করা যায়। তারপর ফ্রিজ থেকে আম বের করে প্রসেসিং শুরু করলাম।
কাচা আমের জুস
আর এভাবেই তৈরি করে ফেললাম কাঁচা আমের জুস। কাঁচা আম, কাঁচা মরিচ, আদা, পুদিনার পাতা, বিট লবণ, কালো গোলমরিচের গুড়া, একটু শরিষার তেল এবং ভাজা জিরার গুড়া দিয়ে প্রস্তুত হয়ে গেলো মজাদার কাচা আমের জুস। গরমের দিনে এই জুস অনেক ভালো লাগে খেতে।
ওই দিকে প্রিয়া ফালুদা বানাচ্ছিল। ফালুদা আবার আমার অনেক পছন্দের।
ফালুদা
সাবুদানা, চিনি, দুধ, আপেল, ডালিম, আঙ্গুর, কলা, আইসক্রিম দিয়ে তৈরি করে ফেললো মজাদার ফালুদা। কিছু সময়ের জন্য এটাও ফ্রিজ এ রেখে দেয়া হলো ঠান্ডা হওয়ার জন্য।
এইদিকে আমি ফ্রুটস গুলো কাটতে প্রিয়াকে সাহায্য করলাম। ফ্রুটসগুলো কেটে তা প্লেটে গুছিয়ে নিলো সে।
ফ্রুটসে ভরা প্লেট
কলা, আপেন, আঙ্গুর, ডালিম, শষা, গাজর এবং সংগে একটা (মিষ্টি) বগুড়ার কালো জাম দিয়ে সাজানো প্লেট।
এই সব কিছু নিয়ে ছিলো আমাদের আজকের বিকেলেরি নাস্তার আয়োজন। ছুটির দিন অনেক ভালো একটা নাস্তা হয়ে গেলো। সবকিছুই ছিলো অনেক স্বাস্থ্যসম্মত।
আজ এই পর্যন্তই থাক। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। আর বেশি বেশি ফল আর জল খাবেন।
| বিষয় | আজ বিকেলের আয়োজন। |
|---|---|
| ফটো ক্রেডিট | @amitroy |
| ডিভাইস | রেডমি নোট ৮প্রো |
| লোকেশন | মিরপুর-১২, ঢাকা |
দাদা আপনাকেও শ্রমিক দিবস ও একাদশীর অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই।বৌদি উপোস করেছে জন্য বাজার থেকে ফল কিনে এনে তার জন্য বেলের শরবত,কাঁচা আমের শরবত এবং ফল কেটে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছেন।এটা একদম একজন আদর্শ স্বামীর দায়িত্ব পালন করেছেন দাদা দেখে খুবই লাগলো।আমার হাসবেন্ডও আপনার মতো আমি উপোস করলে আমার জন্য কি করবে না করবে তার ঠিক নেই।আমি না খেয়ে থাকি আর কষ্ট মনে হয় সে পায় এরকম অবস্থা।😁আপনাদের মতো স্বামী প্রতিটি মেয়ের কাম্য।দাদা আপনার প্রিয়া কে নিয়ে এরকম সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন সেই প্রার্থনা করি ঈশ্বরের কাছে।🙏🙏🙏🙏❤️❤️
অনেক ধন্যবাদ দিদিভাই আপনাকে এতো সুন্দর মন্তব্য করার জন্য। আসলে আমাদের সবারই উচিত একে অপরের কাজে সাহায্য করা। এই কর্মব্যস্ততার জীবনে সবাই সমান ভাবে ব্যস্ত থাকে। এর মধ্যেই আমাদের সুখ খুজে নিতে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন। শুনে খুব ভালো লাগলো যে দাদাভাই আপনাকে অনেক সহযোগিতা এবং কেয়ার করেন। আপনারাও অনেক ভালো থাকেন আশীর্বাদ করি।
🙏🙏❤️
কালকে শ্রমিক দিবস গিয়েছে। আমি কিন্তু সেই উপলক্ষে একটি আর্ট করেছিলাম। যাইহোক আপনার সহধর্মিনী নেই উপোস করেছে। আর তাকে তো ভালো মন্দ কিছু খাওয়াতে হবে তাই না। বিকেলের নাস্তা এতকিছু সাজিয়েছেন দেখেন সামলাতে পারছি না।
চলে আসেন দাওয়াত রইলো। ধন্যবাদ আপু আপনাকে সুন্দর করে গুছিয়ে মন্তব্য করার জন্য।
আসলে আপনার মত আমারও ছুটির দিনে ঘুমের পরিমাণটা একটু বেশি হয়ে যায়।।
বিকেলের খাবারে দারুন আয়োজন করেছেন প্রত্যেকটা খাবারই লোভনীয় ছিল বিশেষ করে বেলের শরবত ফালুদা।।
সব থেকে বেশি লোভনীয় দেখাচ্ছে বিভিন্ন রকমের ফল দিয়ে সাজানো প্লেট ইচ্ছে করছে তুলে খেতে শুরু করি।।
যেকোনো সময় চলে আসবেন। আসলে ছুটির দিন আমার ঘুম হয় না বললেই চলে।কিন্তু এইদিন কেন এতো ঘুম হলো আমি নিজেই বুঝি নাই। ধন্যবাদ ভাই আপনাকে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
কাল যেহেতু শ্রমিক দিবস ছিল তাই ছুটি ছিল আপনাদের। আপনাদের বিকেলের নাস্তার আয়োজন দেখছি বেশ ভালোই ছিল। নাস্তার আয়োজনটা খুবই ভালোভাবে করেছিলেন আপনারা। যেহেতু আপনাদের একাদশী ছিল তাই তেমন রান্নাবান্না হয়নি বাড়িতে। আপনি ভুল করে খেয়ে ফেলার জন্য একাদশী পালন করতে পারেননি। কিন্তু আপনার সহধর্মিনী একাদশীর উপোস করেছিল। যাইহোক ভালোই লাগলো আপনার আজকের এই সম্পূর্ণ পোস্টটি।
ধন্যবাদ আপনার মুল্যবান মন্তব্যের জন্য। হ্যা যেহেতু বাসাই ছিলাম তাই একটু বউ এর কাজে একটু সাহায্য করলাম আর কি। তবে দিনটা অনেক ভালো কেটেছে।
আপনার থেকে এটাই আশা করি আমি 😅😅।হিহিহিহি,, যাই হোক বৌদির জন্য বাজারটা করতে যে ভুল করেননি সেটা ভেবে ভালো লাগছে। আচ্ছা দাদা কয়দিন পর তো যাচ্ছি, আমাকে কি এরকম ফলের জুস বানিয়ে খাওয়াবেন আর তার সাথে ফালুদা? 🤪। আয়োজন দেখিয়ে তো লোভ লাগিয়ে দিলেন।
হুম তুই আই খাওয়াবো। তবে কি খাওয়াবো শিউর নাই। এমনিতেই আমার জ্বর অনেক। পারলে তুই আসার সময় কিছু ফল কিনে আনিশ। বাজার তো করেছি পাশাপাশি তাকে সাহায্যও করেছি।
বিকেলে বারে বারে দারুন একটি আয়োজন আপনি আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন দেখে আমার অনেক ভালো লাগলো সম্পূর্ণ দিয়ে সাজানো এই রেসিপি সংগ্রহশালা। এত সুন্দর একটি ভালোলাগার মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ আপনাকে অনেক সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য এবং আমার বিকেলের আয়োজন এর প্রশংসা করার জন্য।