ছোটবেলার একটি মজার ঘটনা
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনার সবাই অনেক ভালো আছেন। ছোটবেলার সবারই অনেক মধুর মধুর ঘটনা থাকে কিন্তু আমরা বড় হয়ে যাওয়ার পরে সেই ঘটনাগুলো মাঝে মাঝে ভুলে যাই। এইতো রবিবারের আড্ডা দিন শিফা আপু একটি বিষয়ে কথা বলেছিল সেই আপুর কথার সাথে আমার ছোটবেলার ঘটনার একটি একদম মিলে গেছে। সেই ঘটনাটি আছে আপনাদের সাথে শেয়ার করব।
আমার ছোট ভাই তখন অনেক ছোট, আমিও কিন্তু তখন খুব একটা বড় তা কিন্তু নয়। সবেমাত্র ক্লাস ওয়ানে পড়তাম। এমন অবস্থায় আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম হয়। যাই হোক ছোট ভাই জন্ম হওয়ার পর থেকেই আমার আনন্দে শেষ ছিলো না। আমারও একটা ছোট ভাই আছে ভাবতেই তখন কেমন কেমন লাগতো!! এছাড়াও আমি বড় ভাই হিসেবে নিজেকে অনেক প্রাউড ফিল করতাম হাহাহা।
আমি সবেমাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছি। পড়াশুনা বাসার হোমওয়ার্ক এসব ভালো লাগতো না। কিন্তু আমার ছোট ভাই সারাদিন দোলনায় শুয়ে থাকে আর খাওয়া দাওয়া করে এ ছাড়া তার কোন কাজ নেই। দেখে অনেক হিংসা হতো মাঝে মাঝে, হাহাহা। আমার ছোট ভাইয়ের সাথে অনেক দুষ্টুমি করেছি সেই দিনগুলো যদি আবার ফিরে পেতাম তাহলে কতই না ভালো হতো। আমার ছোট ভাই যখন খুব শান্তি করে ঘুমাতো তখন ওরে আমি কাতুকুতু দিতাম এবং তার ঘুম ভাঙ্গলে চুপ করে পালিয়ে যেতাম পরে। বাবা কিংবা মা এসে ওকে ওর কান্না থামাতো।
তবে আমার ছোট ভাই অনেক কান্দুরে স্বভাবের ছিল। যদি একবার কান্না ধরে তাহলে এক-দুই ঘন্টার আগে তার কান্না কোনোভাবেই থামানো সম্ভব নয়। জোরে জোরে চিৎকার করে কান্না করত হাহাহা। তারপরে কেটে যায় বেশ কয়েকটা মাস যখন সে সুজি এবং অন্যান্য হালকা পাতলা খারাব খেতে পারতো তখন মাঝে মাঝেই আমার মা বলতো যে তোমার ছোট ভাইকে এই খাওয়াটি খাইয়ে দাও।
তখন আমি ক্লাস ওয়ান থেকে পড়তাম খুব একটা বেশি বড় নাই। মাঝে মাঝে আমারও সেসব খাবার খেতে ইচ্ছা করত। সুজি খেতে ইচ্ছা করত। যদিও মা মাঝে মাঝেই আমাকে সেই খাবারগুলো খেতে দিতেন। অনেক মজাই লাগতো। সুজির সাথে মুড়ি মেখে খেতাম অনেক মজা লাগতো। তবে মাঝে মাঝে শিপুকে খাওয়াতে গিয়ে সেই খাবার থেকে আমি নিজেই খাবার খেয়ে নিয়েছিলাম। হাহাহাহা।
এই ঘটনাগুলো কথা মনে পড়লে এখন অনেক হাসি পায়। তারপরও আরও অনেক অনেক ঘটনা রয়েছে আপনাদের সাথে যদি সেই ঘটনাগুলো শেয়ার করার সুযোগ পাই তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে নেব। তবে ছোটবেলার ঘটনার বেশিরভাগ ঘটনাই আমরা ঝাপসা ঝাপসা মনে করতে পারি পুরোটা ঘটনা আমরা মনে করতে পারি না যদি না আপনারা মা-বাবা কিংবা অন্য কারো কাছ থেকে সেই ঘটনাগুলো আবার শুনে থাকেন।
পোস্টটি লিখতে লিখতেই আরও একটি ছোট্ট ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল সেটাও শেয়ার করছি। তখন আমি হয়তো ক্লাস থ্রি কিংবা ফোর এ পড়ি আমার ছোট ভাই তখন কথা বলা শিখেছে। তার জন্য অনেক ধরনের খেলানা সবাই নিয়ে আসতো। একসময় আম্মু একবার গাড়ি কিনে এনেছিলো। আমি চিন্তা করলাম সেই গাড়িকে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি বানাবো তাই সেই গাড়ির সব পার্টস খুলে একেবারে টেবিলের সামনে রেখে দিলাম, কিন্তু সেই গাড়িকে আর কোনোভাবেই আমি জোড়া লাগাতে পারিনি। পরবর্তীতে নতুন গাড়ি কেনার পরে তার কান্না থামানো গেছে।
আসলে ছোটবেলা থেকেই ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রের উপর আমার অনেকটাই আকর্ষণ ছিল। যেগুলো আমার খেলনা ছিলো সবগুলোই আমি নিজে নিজে খুলে আবার লাগানোর চেষ্টা করতাম ছোটবেলা থেকেই মেকারি করার চেষ্টা করতাম। তবে যে শুধুমাত্র সেই মেকারই করার ফলে জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে তা কিন্তু নয়। আমি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করেছি। কারেন্ট গেলে সেই বাসায় সম্পূর্ণ লাইটের ব্যবস্থা করেছিলাম এবং বিভিন্ন ধরনের ফ্যান কিংবা বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক ইভেন্টগুলোতে আমি এ্যটেন্ট করার চেষ্টা করেছিলাম। এই বিষয়গুলো ছোটবেলা থেকেই অনেকটাই একটিভ ছিলাম।
কিন্তু আজ টেক্সটাইল নিয়ে পড়াশোনা করছি ভাবতেই অবাক লাগে! যাই হোক টেক্সটাইল ও আমার অনেক পছন্দের একটি সাবজেক্ট। কারণ কাপড় হচ্ছে আমাদের মৌলিক অধিকার এবং এই মানুষ যতদিন পর্যন্ত থাকবে ততদিন পর্যন্ত কাপড়ের ডিমান্ড থাকবে, হোট সেটা বড় হোক কিংবা ছোট।
যাই হোক আজকের পোস্ট এখানে শেষ করছি। আপনাদের যদি ছোটবেলার কোন ঘটনা মনে পড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই মন্তব্যে লিখতে পারেন, ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: ছোটবেলার একটি মজার ঘটনা
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
ভাইয়া আপনার ছোটবেলার গল্পগুলো পড়ে সত্যিই ভীষণ মজা পেলাম। ছোট্ট বেলায় আমরা কতই যে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছি সেটা এখন মনে করলে সত্যি ভীষণ ভালো লাগে । আপনি আপনার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যে খুবই দুষ্টামি করেছেন তা বেশ বুঝতে পারছি।বেশ ভালো লাগলো পড়ে। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
ভাই আপনার ছোটবেলার কাহিনী গুলো পড়ে খুবই ভালো লাগলো । আসলে ছোটবেলার দিনগুলো খুব স্মৃতিময়। আসলে ছোটদের সাথে দুষ্টামি করা বা ছোটদের খাবার খেয়ে নেওয়া খুবই ভালো লাগে। জানেন কি ভাই আমার একটা ছোট্ট বোন আছে। ও যদি পটেটো চিপস খায় সেটা তার থেকে আমি নিয়ে বলি এটা তোমাকে ডাক্তার খেতে নিষেধ করেছে 🤭 তুমি এখন ছোট এটা তোমার খাওয়া ঠিক হবে না । তারপরে তো তার কান্না শুরু আর এমন দেখে আমার খুব ভালো লাগে। আমি মুচকি মুচকি হাসি হাহা🤭। তবে এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া।
বেশ মজার সময়ই কাটিয়েছেন ছেলেবেলায় দুই ভাই মিলে। বুঝাই যাচেছ যে আপনি ছেলেবেলায় বেশ দুষ্ট প্রকৃতির ছিলেন। তবে আমার কিন্তু ছেলেবেলার ঘটনা শুনতে বা পড়তে বেশ ভালোই লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া আমাদের সাথে সুন্দর ছেলেবেলার কাহিনী শেয়ার করার জন্য।
আমরা দুই ভাই ১৮ মাসের বড় ছোট,তবে আমি বড়। আমরা দুই ভাই ছোট থেকেই অনেক দুষ্টামি করতাম এবং বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলতাম। মারামারিও করতাম অনেক। আপনার পোস্ট পড়ে সেই ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল ভাই। সেই সোনালী দিন গুলো বড্ড বেশি মিস করি। পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো ভাই। শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
হা হা ভাই তাহলে তো ইঞ্জিনিয়ারিং টা আপনার স্বভাব নেশা পেশা সবকিছুই বলা যায়। আপনার মতো আমার কোনো ছোট ভাই ছিল না। সেজন্য এইরকম মূহুর্ত আমি পাইনি। তবে আপনার এই ঘটনা গুলো পড়ে ভালো লাগল। আসলেই দিনগুলো কত সুন্দর ছিল। সবমিলিয়ে চমৎকার লাগল আপনার ছোটবেলার এই মূহুর্ত গুলো।।