মাত্রা অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সবাই অনেক ভালো আছেন। আজকে একটি মোটিভেশনাল উক্তি নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করব, তবে চলুন শুরু করি।
জীবনে চলার পথে অনেক কিছুরই দরকার পরে, কোনগুলো ভালো জিনিস আবার কোনগুলো খারাপ জিনিস। ভালো জিনিস গুলো কে গ্রহণ করতে হয় আবার খারাপ জিনিস কে বর্জন করতে হয়। এভাবে করেই আমাদের জীবনে এগিয়ে যেতে হয়। তবে কিছু কিছু জিনিস আমরা মাত্র করে ফেলি যার কারণে পরবর্তী জীবনে আমাদের অনেক ভোগান্ত পোহাতে হয়।
আপনারা হয়তো কোন না কোন সময় গুরুজনদের কাছ থেকেই শুনেছেন। কোন কিছুই বেশি করা ঠিক নয়। আসলে কিন্তু ঠিক নয়। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে ও প্রমাণিত হয়েছে। ধরুন আপনার একটি বই এর চ্যাপ্টার শেষ করতে তিন ঘন্টা সময় লাগবে কিন্তু আপনি যদি একটানা ৩ ঘন্টা পড়াশোনা করে চ্যাপ্টারটি শেষ করেন পরবর্তীতে দেখা যাবে অনেক কিছুই আপনি ঠিক ভাবে মনে করতে পারছেন না, তবে আপনি যদি সেই তিন ঘন্টাকে আলাদা আলাদা ভাবে ভাগ করে পড়াশোনা করতেন অর্থাৎ পড়াশোনার মাঝে মাঝে ৫-১০ মিনিটের ব্রেক নিয়ে পড়াটি পড়তেন তাহলে দেখা যেত সেই পড়াটি আরো ভালোভাবে আপনি সম্পন্ন করতে পারতেন।
এই বিষয়টি যে শুধুমাত্র আমি বলছি তা কিন্তু নয়। এটা কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের জীবনে আমরা যত কাজ করি না কেন কোনটাই মাত্রা অতিরিক্ত ঠিক নয়। ধরুন আপনি খুব গান শুনতে ভালোবাসেন কিন্তু প্রতিনিয়ত যদি আপনি বেশিভাগ সময় গান শোনার পিছনে ব্যয় করেন তাহলে আপনার জীবনে খারাপ সময় আসতে চলেছে এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে হ্যাঁ কাজের ফাঁকে ফাঁকে গান শোনা যায়। মাঝে মাঝে গান শুনলে মন ভালো হয়ে যায় তবে সেটা যদি মাত্র অতিরিক্ত হয়ে যায় তাহলেই হবে সমস্যা।
অনেকেই রয়েছেন ঘন্টার পর ঘন্টা বসে ফেসবুক চালায়, ইউটিউব চালায় সেই বিষয়টি কিন্তু আসলে খারাপ। এই বিষয়গুলো আমরা সকলেই বুঝি কিন্তু অনেকেই মানতে চাই না। শুধুমাত্র কাজ করা এবং কোয়ালিটি ফুল কাজ করার মধ্যে কিন্তু অনেক বড় একটি পার্থক্য রয়েছে। আপনাকে কোন একটি কাজ দেওয়া হল। সেই কাজটি আপনি ভালোভাবে সম্পন্ন করলেন সেটি হবে ইফেক্টিভ কাজ কিন্তু আপনাকে একটি কাজ দেওয়া হলো কিন্তু আপনি বেশি সময় ধরে সেই কাজটি করে ফেলেন কিন্তু সেই কাজটি কোয়ালিটি ফুল হলো না, তাহলে কিন্তু ফলাফল শুন্য।
একটি বিষয় আমি ব্যক্তিগতভাবে মেনে চলার চেষ্টা করি, আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে ততটুকুই চাপ দেন যতটুকু আমরা কিংবা আমাদের শরীর সহ্য করতে পারে। এর থেকে বেশি কিন্তু চাপ সৃষ্টি কর্তা আমাদের দেন না। তাই যাই করুন না কেন বেশি অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কোন কিছু করার চেষ্টা করবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। সেই কাজটিও নষ্ট হবে সেই সাথে আপনার মূল্যবান সময় গুলো।
কোন কিছু যদি অতিরিক্ত করে থাকেন সেক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা হলো সময় নষ্ট। আসলে এই সময় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কতটা মূল্যবান সেই বিষয়গুলো হয়তো আমরা এখন বুঝতে পারছি না কিন্তু আজ থেকে ৫-১০ বছর পরে এই সময়ের মূল্য গুলো আমরা ঠিক বুঝতে পারব।
বিষয়গুলো আগে আমার বাবা-মা আমাকে বলত কিন্তু তখন বুঝতে পারতাম না তখন আর শুধুমাত্র বিরক্ত লাগতো কিন্তু এখন বুঝতে পারছি সেই সময়ের মূল্য কতখানি। তাই গুরুজন যেসব বিষয়ে আমাদের উপদেশ দেন সেগুলো অবশ্যই আমাদের মেনে চলা উচিত। আমরা সেই সব বিষয়গুলোই উপদেশ পাই যেগুলো আমরা বুঝতে পারি না, কিংবা যেগুলোর অভিজ্ঞতা এখনও আমরা গ্রহণ করতে পারেনি।
যাইহোক আজ বেশি কিছু লিখছি না, সবার প্রতি একটাই অনুরোধ মাত্র অতিরিক্ত কোন কিছুই করবেন না, মাত্রা অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না, ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR

আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: মাত্রা অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
কোনো কিছুই মাত্রা অতিরিক্ত করা ঠিক নয়,এই কথাটি একেবারে সঠিক বলেছেন ভাই। অনেকে দেখা যায় যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করতে থাকে সবসময়। এতে করে প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের জীবনটা খুব ছোট। খুব হিসাব নিকাশ করে চালাতে হয় জীবনটা। সবকিছুর ব্যালেন্স না থাকলে জীবন এলোমেলো হয়ে যায়। তাই আমরা মাত্রা অতিরিক্ত কিছু করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবো এবং জীবনটাকে সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলবো। যাইহোক এতো চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
পবিত্র হাদিস গ্রন্থেও কিন্তু আমাদের কে মধ্যম প্রন্থা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কি তা করি? আজকাল সবকিছুইতেই যেন আমাদের বাড়াবাড়ি বেড়েই গেছে। আমরা অতিরঞ্জিত কাজ করতে যেয়ে নিজেদের ক্ষতিই বয়ে আনছি। আচ্ছা এই যে আমরা সব কিছুতে বেশী বাড়াবাড়ি করে সময়ের অপচয় করছি তাতে কি আমাদের লাভ হচেছ নাকি ক্ষতি? এই বিষয়টা ভেবে তারপর আমাদের এগোনো উচিত।
জীবনে এটা সবসময়ই মেনে চলা উচিত। ভালো খারাপ কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো না। সবকিছুই একটা নির্দিষ্ট মাএায় থাকা ভালো। আর সময় সেটা বড়ই নিষ্ঠুর জিনিস। এখন সময় নষ্ট করলে একসময় সময় আমাদের নষ্ট করবে হা হা।। দারুণ লিখেছেন ভাই।।
একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া মাত্রা অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়।আপনি এই বিষয় টা এতো সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন এবং তিন ঘন্টা পড়াশুনার বই যদি এক ঘন্টায় শেষ করা হয় তার কুফল কি হবে তা তুলে ধরেছেন খুব ভালো লাগলো আপনার পোস্ট টি পরে।পুরাই শিক্ষানীয় পোস্ট টি আপনার।
হ্যাঁ ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন মাত্রা বেশি কোন কিছুই ভালো নয়। আসলে কথা বলতে বোঝায় কোন কিছুই বেশি ভালো নয়। একটা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকায় ভালো। তবে আমাদের গুরুজন তারা কখনোই আমাদের খারাপ চায়না আমাদের অনেক রকম উপদেশ দিয়ে থাকেন। আপনার পোস্টটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো এবং সক্ষম একটা জ্ঞান ধারণা পেলাম। আপনাকে ধন্যবাদ ভাইয়া।