অহংকার পতনের মূল
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনার সবাই অনেক ভালো আছেন। আসলে জ্ঞানী গুণী মানুষরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো কিন্তু এমনি এমনি বলে যান নি। অবশ্যই সেই কথাগুলোর পিছনে কিছু বাস্তবতা রয়েছে, কিছু কারণ রয়েছে। তাইতো তারা আমাদেরকে সবসময় উপদেশ দিয়ে আমাদের সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঠিক এমনি একটি বিষয় নিয়ে আজ কথা বলবো।
ছোটবেলা থেকেই আমরা বিভিন্ন ধরনের উক্তি পড়ে এসেছি, তার মধ্যে একটি হচ্ছে অহংকার পতনের মূল এবং এটা নিয়ে আমরা মাধ্যমিকে অনেকগুলো রচনা কিংবা সারসংক্ষেপ এ ধরনের কিছু একটা লিখেছিলাম এবং অনেকগুলো পড়াশুনা করেছিলাম। আশা করছি এই উক্তিটি আপনাদের সকলের মনে আছে। উক্তিটি কিন্তু এমনি এমনি হয়নি এই উক্তির পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
সর্বোপরি আমরা মানুষ আমাদের ভুল হবে এই বিষয়টি স্বাভাবিক। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের বিভিন্ন ধরনের গল্প রয়েছে। কারো গল্প উপন্যাস হিসেবে বেরিয়ে আসে কারো গল্প দীর্ঘশ্বাসের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়। এই ভাবেই চলছে আমাদের সকলের জীবন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবেই বিশ্বাস করি আমরা সকলেই সফল হতে পারব। আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে ব্যর্থ হওয়ার জন্য এই পৃথিবীতে পাঠাননি, সব কিছুই হবে শুধুমাত্র সময়ের ব্যবধান মাত্র।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি বর্তমানে যারা সফল হয়েছেন তারা প্রচুর পরিশ্রম করে সফল হয়েছেন। আসলে আমরা যখন বাহ্যিক দিক থেকে বিষয়গুলো দেখতে পাই তখন অনেকের কাছেই মনে হয় সে তার ভাগ্যের জোরে সফল হয়েছে আসলে কিন্তু তা নয়। যে ব্যক্তিটি দিন রাত পরিশ্রম করছে সেই পরিশ্রমগুলো কিন্তু আমাদের চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র সফলতা কিংবা ব্যর্থতা আমাদের চোখে পরে। তবে আমাদের দেশের কথা ভিন্ন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনুযায়ী যদি আমরা কথা বলি তাহলে দেখা যাচ্ছে আপনি কিছু টাকার বিনিময়ে চাকরি নিতে পারবেন এবং আমাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন যার কাছে একটি সরকারি চাকরি কিংবা ভালো চাকরি রয়েছে তাকেই সফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রথমত ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কোন ব্যক্তি যদি ঘুষ দিয়ে কোন চাকরি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করায় তাহলে সে তার সবকিছুই হারাম হয়ে যাবে, অন্যান্য ধর্মের কথা বলতে পারছি না তবে আমি যতটুকু জানি অন্য কোন ধর্ম এই বিষয়টা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়তঃ এসব মানুষের ব্যবহার এবং আচার-আচরণ দেখলেই বুঝা যায় কে তার যোগ্যতায় সেই স্থানে এসেছে এবং কে ঘুষ দিয়ে সেই স্থানে এসেছে। আসলে আমাদের ব্যবহারের মাধ্যমেই অনেক কিছু আমরা বুঝতে পারি এবং অনেক কিছু অনুধাবন করতে পারি। যার ব্যবহার অনেক সুন্দর মার্জিত এবং তিনি অনেক বড় হওয়ার সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করেন, সেই হচ্ছে প্রকৃত মানুষ।
যারা দুর্নীতি করে ঘুষ দিয়ে চাকরি কিংবা বড় কোন পজিশনে গিয়েছেন তাদের মধ্যে অহংকার টা অনেক বেশি দেখা যায় যার কারণে সেই অহংকার এই তাদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমরা বিশ্বাস করি কোন ব্যক্তি অহংকার করলে তার পতন নিশ্চিত হবে, এটা শতভাগ নিশ্চিত। হয়তো একটু দেরিতে হলেও তার পতন নিশ্চিত, এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। পৃথিবীতে এমন হাজারো উদাহরণ রয়েছে যেগুলো দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন যারা দুর্নীতি করে কিংবা বিভিন্ন ছলচাতুরি করে বিভিন্ন বড় পজিশনে গিয়েছেন সেই পজিশনটা তারা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি। নিয়তি এবং সৃষ্টিকর্তা তাকে তার আসল রূপে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই অহংকার এমন একটি জিনিস যা আপনাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিবে। আপনি যাই করেন না কেন সব সময় একটি সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করার চেষ্টা করবেন। অহংকার করতে গেলেই আপনার পতন নিশ্চিত, এটা আমি বলছি না এটা প্রত্যেকটি ধর্মের বলা রয়েছে।
তাই আমাদের নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষা করে যতটুকু সাধারণ ভাবে বেঁচে থাকা যায় এবং সবার সাথে মেলামেশা করা যায় ততটুকুই করা উচিত। আজকের মত এখানে শেষ করছি সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: অহংকার পতনের মূল
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
একেবারে যথার্থ বলেছেন ভাই, আমাদের ইসলাম ধর্মে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া একেবারে হারাম। যদি কেউ এমনটা করে, তাহলে তার সকল উপার্জন হারাম বলে গণ্য করা হবে। যাইহোক অহংকারী ব্যক্তির অবশ্যই পতন হয়। সেটা দুইদিন আগে নয়তো পরে। তাই কখনো কোনো কিছু নিয়ে অহংকার করা উচিত না। সৃষ্টিকর্তা চাইলে এক নিমিষেই ধনীকে পথের ভিখারি করে দিতে পারে। তাহলে এতো অহংকার কিসের, সেটাই বুঝি না। যাইহোক চমৎকার লিখেছেন ভাই। সেজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকে ও ধন্যবাদ ভাই, আমি শুধুমাত্র বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছি।
একটা প্রবাদ আছে উচুতে উঠতে গেলে আপনাকে নিচু হতেই হবে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।আর আমিও এটা দেখেছি সত্যিকারের সফল পরিশ্রমী ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো অহংকার নেই। কিন্তু যারা এইরকম দূর্নীতিগ্রস্ত তাদের মধ্যে রয়েছে অনেক অহংকার। আর সর্বদাই এটা সত্য কথা অহংকার পতনের মূল। চমৎকার লিখেছেন ভাই।।
হ্যাঁ ভাইয়া আমি নিজেও বিশ্বাস করি যে বড় পজিশনে যেতে গেলে নিজেকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঘটনাটি ঘটে যে অনেক টাকা ঘুষ দিয়ে বড় পোস্টে যাওয়ার পরে নিজেকে এত বড় ভাবে আর এত অহংকারী ভাবে সেটা আসলে বলে বোঝানো যায় না। বাস্তবতার সাথে মিল রেখে সুন্দর একটি টপিক লিখেছেন বেশ ভালো লাগলো।
পৃথিবীর সব ধর্মই মানুষকে সত্যের পথে চলতে বলে। কিন্তু মানুষ অর্থের লোভে অন্ধ হয়ে যায়। আর মানুষের যখন প্রচুর অর্থ হয়ে যায় তখন মানুষের অহংকার ও বৃদ্ধি পায়। আর সৃষ্টিকর্তার নিয়মে অহংকার বৃদ্ধি পেলে তার পতন নিশ্চিত। খুবই সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।