নীলফামারী টু ঢাকা
গতকাল রাতে নীলফামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করেই পোস্টটি লিখছি। যাই হোক অনেকদিন ছুটি কাটিয়েছিলাম বাসার মধ্যে কিন্তু বাসা থেকে আসতে ইচ্ছে করছিল না, মায়া ভালোবাসার বাধন ছেড়ে কে আসতে চায় বলুন তো! এবার অনেক বেশি ছুটি কাটিয়েছিলাম যার জন্য আরো বেশি খারাপ লাগছিল যাই হোক সবকিছুর মাঝেও রয়েছে ভালোবাসা এবং সম্পর্কের আবদ্ধ আরো অনেক কিছু বিষয়। তারপর সবকিছু ছেড়েছুড়ে আসতে হয় নিজের জীবনকে একটু উন্নত করার জন্য, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য।
ঢাকা থেকে যখন নীলফামারীতে গিয়েছিলাম তখন ট্রেনে ভ্রমণ করেছিলাম ট্রেনে ভ্রমণ টা আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে আসার সময় ট্রেনের টিকিট খুঁজেছি কিন্তু ট্রেনের টিকিট পায়নি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা আগে টিকিট কেটে রেখেছিল ৫০০ টাকা টিকিট প্রায় ১৫০০ টাকা দাম চাচ্ছিলো তাই রাগের বসের ট্রেনে ভ্রমন করা হয়নি।
বাসে ভ্রমণ করাও আমার অনেক ভালো লাগে। বাসে উঠে একটু ঘুম দিলেই আবার ঢাকায় চলে আসি এরকমটাই আমার কাছে মনে হয়। কিন্তু এবার একটু ঘুম হয়নি। অনেক দুশ্চিন্তা অনেক চিন্তা মাথার মধ্যে কাজ করছিল। বাসার সবাইকে একা রেখে চলে এসেছি। মা বাবা আমার ছোট ভাই সবারই অনেক খারাপ লাগছিল তাদের চেহারা দেখেই বুঝতে পারছিলাম। আমারও অনেক খারাপ লাগছিল মনে হয় এই বুঝি কান্না করে দেব কিন্তু ছেলে মানুষকে সহজে কান্নাও করতে পারি না।। এতটা কষ্ট হচ্ছিল যা বলে বোঝানোর মত নয়।। তারপরও আমার ভার্সিটিতে অনেক কাজ রয়েছে। এছাড়াও এসাইনমেন্ট, ল্যব রিপোর্ট, প্রেজেন্টেশন এই সবকিছু তৈরি করতে হবে আগামী সাত দিনের মধ্যে। তাই অনেক বেশি চাপের মাঝে থাকবো।
বিশ্বাস করুন বাসা থেকে যত দূরে যাচ্ছিলাম ততটাই খারাপ লাগছিল। ঢাকায় নামার পর থেকেই মনটা কেমন জানি করছিল তারপরে বাবা মাকে ফোন দিয়ে কথা বলি একটু মনটা শান্ত হয় কিন্তু এখানে আমার আর থাকতে ইচ্ছে করে না।
প্রতিবারই যখন নীলফামারী থেকে রওনা হয়ে অনেক কষ্ট হয় তবে এবারের কষ্টটা মনে হয় একটু ভিন্ন ছিল। মা-বাবার অবস্থাও বেশ ভালো না, আমার মায়েরও বেশ কিছুদিন ধরে অনেক সমস্যা হয়ে গেছে, রাস্তাঘাটে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে এমত অবস্থায় আম্মুর পাশে থাকা আমার জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিলে কিন্তু কি আর করবো বলেন! সবকিছুই ভাগ্যের খেলা তাহলেও সেই সুযোগটা আমি পাচ্ছি না।
আমার বাবারও শরীর ইদানিং অনেক খারাপ যাচ্ছে। তাছাড়া আমার বাসায় আর ছোট ভাই রয়েছে । ছোট ভাই এখনো অনেক কিছু বোঝেনা এবং তার বোঝার বয়সও হয়নি আস্তে আস্তে হয়তো সেই বিষয়গুলো বুঝতে পারবে। তবে বাসায় একজন মানুষ থাকা খুব বেশি জরুরী যে আমার মা-বাবার খেয়াল রাখবে।
সত্যি কথা বলতে ঢাকায় অবস্থান করতে আমার অনেক বেশি খারাপ লাগে অনেক বেশি কষ্ট হয়। এছাড়া সব কাজ একা একা করতে হয়, এখানকার খাওয়া-দাওয়ার মান ভালো নয়। কিভাবে ঢাকায় থাকি সেটা আমি একমাত্র ভালো জানি। ঈদের ছুটিতে যখন বাসায় গিয়েছিলাম তখন রুমের সবকিছু গুছিয়ে গিয়েছিলাম তারপরও রুমের অবস্থা একবারই করুন। সবকিছু ধুয়ে দিতে হবে এবং পরিষ্কার করতে হবে এই ঝামেলাগুলো আর ভালো লাগেনা।
আমার মা-বাবার যেন কোন কষ্ট না হয় সেই বিষয়টা লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করছি জানিনা কতটুকু করতে পারছি তবে আমি আমার জায়গা থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করছি।
আজ আর কোন কিছু লিখতে ইচ্ছা করছে না। মন অনেক খারাপ এছাড়াও অনেক কাজ পেন্ডিং পরে আছে। সেসব কাজগুলো করতে হবে এছাড়াও ভার্সিটির অনেক প্রেসার রয়েছে আগামী মাসের প্রথম দিকেই হয়তো আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে। যাই হোক আজকের মত এখানেই শেষ করছি, ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: নীলফামারী টু ঢাকা
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
এবার সবার সাথে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছেন তাই বেশী খারাপ লাগছে।আর মা অসুস্থ হলে সন্তান হিসেবে চিন্তার একটা কারন থেকে খারাপ লাগাটা একটু বেশীই হয়।দোয়া করি সবার সুস্থতা,আমিন।নিজের দিকে খেয়াল করে সবকিছুর দিকে এগিয়ে যান,এতেও মা বাবা শান্তির জায়গা পাবে।অনেক ভালো লাগলো আপনার অনুভূতি গুলো পড়ে। অনেক অভিনন্দন রইলো ভাইয়া আপনার জন্য।
আপনাকে ধন্যবাদ আপু।।
ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে আমার নিজেরও অনেক মন খারাপ লাগছে। আসলে মাঝে মাঝে পরিস্থিতি আমাদেরকে বাধ্য করে পরিবার থেকে দূরে থাকতে। এই সময় বাবা-মার পাশে থাকলে অনেক ভালো হতো। কিন্তু জীবনের বাস্তবতার কাছে আমরা বারবার হেরে যাই। তাইতো অনিচ্ছা সত্ত্বেও দূরে চলে যেতে হয়।😔😔
ঢাকাতে আবারো স্বাগতম জানাই। কিচ্ছু করার নেই, এই মায়ার বাঁধন ছেড়ে এই কষ্টের শহরে আসতেই হবে। পুনরায় নতুন উদ্যমে সবকিছু শুরু করুন, এই কামনা করছি। দোয়া রইল।
আসলে পরিবার ছেড়ে থাকা যে কতোটা কষ্টের, সেটা আমি খুব ভালোভাবেই জানি। সেজন্য আপনার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি ভাই। যাইহোক ধৈর্য ধরুন এবং ফোন করে সব সময় বাবা-মার খোঁজখবর নিবেন। একসময় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আপনার পুরো পরিবারের জন্য অনেক অনেক দোয়া এবং শুভকামনা রইল।
এমনটাই হয় প্রিয়জনরা দূরে চলে গেলে অনেক কষ্ট হয়। অনেক যন্ত্রণা হয়। বুকের ভেতরটা তোলপাড় করে, তারপরেও মুখে হাসি আনতে হয় সন্তানদের মঙ্গলের জন্য।♥♥