জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আজ আমি বেশি কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব যেমন জ্ঞান অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা। আমাদের জীবনে এই সবকিছুর গুরুত্ব কতটুকু রয়েছে সেই বিষয়ে নিজস্ব মতামত ব্যাখ্যা করব, তবে চলুন শুরু করি।
জ্ঞান আমরা অনেকভাবেই আহরণ করতে পারি। এই জ্ঞান শুধুমাত্র বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবনে চলার পথে বেশ কিছু বিষয় নলেজ থাকা আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন জীবনে চলার পথে কিভাবে কথা বলতে হবে, কিভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এই সব কিছু জ্ঞানের মধ্যেই পরে। বরংচ আপনি আপনার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাও কিন্তু এই জ্ঞানের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। বর্তমানে আপনি যাই করেন না কেন সেই বিষয়ে আপনার জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কথায় রয়েছে অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী।
তাই যাই করুন না কেন সেই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অল্প জ্ঞান নিয়ে যদি কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন সে ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আমাদের এই জীবনে জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের যাই দৈনন্দিন কাজ রয়েছে না কেন সেই বিষয়ে আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে।
আমরা চাইলেই যে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারি যে কোন মাধ্যমে। ইউটিউব থেকে কিংবা পাঠ্যপুস্তক থেকে আমরা জ্ঞান অর্জন করতে পারি। কিন্তু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হলে সেটা আপনাকে হাতে-কলমে শিখতে হবে। আপনাকে প্রতিনিয়ত কাজের প্র্যাকটিস করতে হবে তাহলে সেই বিষয়ে আপনার অভিজ্ঞতা অর্জন হবে এবং এই বিষয়টি কখনোই পড়াশুনা করে অর্জন করতে পারবেন না।
এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে জ্ঞান কিংবা অভিজ্ঞতা কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আমি বলব দুটোই খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যার কাছে এই দুই বিষয় রয়েছে সে যেকোনো কাজ অনেক চমৎকারভাবে পারদর্শিতার সাথে করতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ আমি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির কথা বলি, টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে যখন কেউ জব করে তাকে বলা হয় না আর তুমি কতদূর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছ শুধুমাত্র এটা জিজ্ঞাসা করে আপনার কত বছরের কোন ডিপার্টমেন্টের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অর্থাৎ যার বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তার কাজের মান অবশ্যই ভালো হবে। যদি আমরা কম্পেয়ার করি আমরা বর্তমানে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে পড়াশোনা করছি এবং জ্ঞান অর্জন করছি। কিন্তু আমাদের হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। সে ক্ষেত্রে কিন্তু প্রথম অবস্থাতে আমাদের বেতন কিংবা চাকরির মান অতটা ভালো হবে না। তাই যার কাছে অভিজ্ঞতা বেশি রয়েছে তার কাজের মান এবং কাজের ফিনিশিং অনেক ভালো হবে, তাই তার বেতন বেশি হবে।
তবে এখানে আরো একটি বিষয় রয়েছে, যারা টেক্সটাইল নিয়েই পড়াশোনা করছেন তারা অভ্যন্তরীণ অনেকগুলো বিষয় বস্তু সম্পর্কে জানতে পারে। কোন মেশিনে কি কি কাজ হয় সেই বিষয়টি তার আগে থেকেই জানা থাকে। সেক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার পরে খুব সহজেই অল্পদিনেই বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে পারবে। সেদিকেও একটা প্লাস পয়েন্ট রয়েছে অর্থাৎ জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা দুটোই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এখন কথা বলি সৃজনশীলতাকে নিয়ে। সৃজনশীলতা বলতে কি বুঝায়? সেটা আমরা সবাই জেনে আসছি তবে একেকজনের বিষয়বস্তুর চিন্তা ভাবনা করার ধরন অন্যান্যদের তুলনায় আলাদা হবে। সৃজনশীলতাকে যদি এক কথায় প্রকাশ করি তাহলে সৃজনশীলতা অর্থই হচ্ছে আবিষ্কার করা। আপনি কোন বিষয়কে কিভাবে নিজের মতো করে তৈরি করবেন সেই হল সৃজনশীলতা।
প্রত্যেকটি Textile ইন্ডাস্ট্রিতে বিভিন্ন ধরনের ল্যাব থাকে এবং সেইসব ল্যাবের নতুন নতুন কিছু তৈরি করার গবেষণার কাজ চলতেই থাকে। এছাড়াও টেস্টিং এর বিষয় রয়েছে। আমরা যে কাপড় তৈরি করছি সেই কাপড়টি কতটুকু স্থায়ী থাকবে, তার শক্তি কতটুকু হবে এবং সেই কাপড়ের গুণগত মান কেমন এই সব কিছু কিন্তু ল্যাব এই পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন পদ্ধতি প্রতিনিয়তই বের করে যাচ্ছেন। যাতে করে তাদের সময় কম লাগে এবং টাকাও কম লাগে।
আমি শুধুমাত্র টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি দিয়ে একটি উদাহরণ দেওয়ার চেষ্টা করলাম। এখন আসি ব্লগিং এর ক্ষেত্রে। আমরা সকলেই মার্কডাউন ব্যবহার করি এবং মার্কডাউন ব্যবহার করার সময় আমরা নিজেদের মতো করে আমাদের পোস্ট কিংবা ব্লক কে সাজিয়ে তুলি, এটাও কিন্তু এক প্রকার সৃজনশীলতা।
কোন বিষয়ের উপর যদি কোন ব্যক্তির পর্যাপ্ত পরিমাণে সঠিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি সেই সেক্টরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রযন্ত যেতে পারে বলে আমি মনে করি। তাই আপনি যেই কাজ করেন না কেন সেই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখার চেষ্টা করবেন এবং সেই কাজগুলোকে বারবার করে আপনার অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করবেন। মাঝে মাঝে সেই কাজগুলোকে অন্য কোন উপায়ে করা যেতে পারে সেইসব উপায়গুলো খুঁজে বের করবেন আপনার নিজস্ব সৃজনশীলতার মাধ্যমে। তাহলেই দেখবেন আপনি যেখানেই থাকেন না কেন ভালো কিছু করতে পারবেন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি ধন্যবাদ।।
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.........
যেখান থেকেই প্রথমে আমরা জ্ঞান অর্জন করব, তারপর হাতে কলমে প্র্যাকটিস করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পরবর্তীতে আমরা সৃজনশীল কিছু সৃষ্টি করতে পারবো। যেকোনো কিছুর ক্ষেত্রেই আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জন কর তে হবে। এবং তা সঠিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে।
জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনে সত্যি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর নিজের দক্ষতাকে এবং সৃজনশীলতাকে উপস্থাপন করা সবচেয়ে বড় একটি গুণ। আমরা আমাদের কর্মজীবন থেকে শুরু করে জীবনের প্রত্যেকটি সেক্টরে যদি নিজের সৃজনশীলতা প্রদর্শন করি তাহলে সবকিছুতেই সফলতা অর্জন করব। একটি মার্কডাউন ব্যবহারের মাধ্যম যেমন পোষ্টের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় তেমনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সৃজনশীলতা সেই কাজটির প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করে। ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার লেখাগুলো পড়ে।
অবশ্যই অল্পবিদ্যা ভয়ংকর। বাস্তবে আমি এমন ঘটনা অনেক দেখেছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তবে একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে। যদি জ্ঞান অর্জন করার ইচ্ছে থাকে। জ্ঞান অর্জন করার পর সেটার বাস্তব প্রয়োগ করলে অবশ্যই অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। তারপর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিত্য নতুন অনেক কিছুই করা যায়। আর এটাই হচ্ছে সৃজনশীলতা। সৃজনশীল মানুষ সবসময় টপ প্রায়োরিটি পায়। মোটকথা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা একে অপরের পরিপূরক। যাইহোক এতো চমৎকার একটি টপিক নিয়ে পোস্ট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
ভাইয়া আপনি আজ খুব সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট শেয়ার করলেন। পড়েছি খুব ভালো লেগেছে।এটা খুব সত্যি কথা একজন মানুষের ভেতরে জ্ঞান,অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা থাকলে সে যেকোনো কাজে সফল হবেই।কারন একজন মানুষের মধ্যে জ্ঞান থাকলেই সে সেই কাজটি করতে করতে তার মধ্যে অভিজ্ঞতার সঞ্চার হয়।আর কোন কাজে যখন খুব অভিজ্ঞতা সঞ্চার হয় তখন সেই কাজটিতে সে যথেষ্ঠ সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পারেন।একটির সাথে আর একটি সম্পৃক্ত। সুন্দর কিছু উদাহরণ দিয়ে বিষয়টিকে বুঝানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সৃজনশীলতা নিয়ে বেশ গুছিয়ে একটি পোস্ট উপস্থাপন করেছেন ভাই। জ্ঞান জিনিসটা হয়তো বই পড়ে অর্জন করা যায় কিন্তু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গেলে দরকার একটু সুযোগ, যেটা নতুন পাশ করা অনেকেই পায় না। প্রথম অবস্থায় বেশ কষ্ট করেই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়, এরপর সে হয়তো কিছুটা মূল্যয়ন পায়। আর সৃজনশীলতা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস যা ভেতরের সত্তা থেকে সৃষ্টি যা হয়তো তাকে কোটি মানুষের মধ্যে অনন্য করে তোলে। যাইহোক আপনার লিখনী অসাধারণ ছিল 👌