গ্রামীন পরিবেশ
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনার সকলেই অনেক ভালো আছেন। আজ আমি একটি নতুন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।গ্রামীন পরিবেশ কার না ভালো লাগে বলুন, গ্রামীণ পরিবেশে কাটানো প্রত্যেকটা মুহূর্ত যেন স্বর্গীয় একটি অনুভূতি দেয়। ঠিক তেমনি কিছু ঘটনা আপনাদের সাথে আজ তুলে ধরবো। তবে চলুন শুরু করি।
ছোটবেলা থেকেই নীলফামারী শহরে বড় হয়েছি। নীলফামারীর গ্রামীণ জনপথ যেন প্রত্যেকটি একটি স্মৃতির পাহাড় হিসেবে বিবেচনা করা হয় আমার জন্য। ছোটবেলায় যেসব জায়গায় খেলাধুলা করতাম সেসব জায়গার অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে, কয়েকটা জায়গা ব্যতীত। বাদ বাকি সব জায়গায় নতুন দালান কোঠা হয়েছে। নতুন মানুষের বসস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে আজ থেকে দশ পনেরো বছর আগেও জায়গাগুলো এরকম ছিল না। অনেকটাই শীতল পরিবেশ ছিল কিন্তু বর্তমানে দিন যত যাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ছোটবেলায় খেলার বিভিন্ন ধরনের মাঠ ছিল। তার মধ্যে নীলফামারী বড় মাঠ অন্যতম এছাড়াও নীলফামারী কলেজ মাঠ। এই দুটো মাঠ এখন পর্যন্ত তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখতে পেরেছে। কিন্তু অন্যান্য যেসব জায়গায় খেলাধুলা করতাম, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতাম সেসব জায়গা গুলো এখন বিলিন হয়ে গেছে। তবে এখন মাঝে মাঝে যখন নীলফামারীতে যাই তখন সে সব জায়গা দেখলে সেই অতীতের স্মৃতি গুলো মনে পড়ে যায়। বর্তমানে নীলফামারী শহরের রূপ ধারণ করেছে কিন্তু তারপরও এর মাঝে গ্রামীণ শীতলতা বেশ মিস করি। এর জন্য নীলফামারী শহর থেকে বাহিরে গিয়ে মাঝে মাঝে সময় কাটাই।
নীলফামারীতে কয়েকটি শাখা নদী রয়েছে এবং সেসব শাখা নদী গুলো প্রায় সবগুলোই তিস্তা নদীর অন্তর্ভুক্ত। এইখানে বিভিন্ন ধরনের ক্যানেল রয়েছে এবং এই ক্যানেলের জায়গাগুলো এখনো তার গ্রামীণ পরিবেশ ধরে রাখতে সক্ষম এবং মাঝে মাঝেই সেখানে শহর থেকে বিভিন্ন পর্যটক সেই স্থান ভিজিট করতে যায়, কারণ সেখানে গেলে একটি আলাদা অনুভূতি অনুভব হয়। যত দূরে চোখ যায় তত দূরে ফসলি জমে নদীর দুই সাইডেই বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালিতে ভর্তি এবং একটি শীতল পরিবেশ। সত্যিই অনেকটাই আরামদায়ক একটি পরিবেশ বলে আমি মনে করি।
আমরা যারা শহরে বসবাস করি, শহরের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে থাকি। তবে আমরা অনেকেই একটি গ্রামের সেটেল হওয়ার কথা চিন্তা করি। এটা আসলেই আমাদের আজ জনজীবন উন্নতি করার লক্ষ্যেই কিন্তু চিন্তা করি। বর্তমানে শহরের জীবনযাপন হয়ে গেছে যান্ত্রিকের মত। এখানে তেমন কোন আলাদা ভাবে চিন্তা করার মত সুযোগ তৈরি হয় না। কিন্তু গ্রামীন পরিবেশে একটি আলাদা পরিবেশ বিরাজ করে যা আমাদের নিজস্ব বোধ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সবুজে ঘেরা পরিবেশ, যতদূর চোখ যায় সবুজ গাছপালা এবং ফসলি জমি মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে একটি আঁকাবাঁকা নদী। এসব দৃশ্য বর্তমানে ক্যালেন্ডারে বেশি দেখতে পাওয়া যায় কারণ এসব দৃশ্য স্বচক্ষে গিয়ে এক্সপ্লোর করার মত সময় কিংবা সুযোগ আমাদের কারণে হয় না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আজ জীবনের ব্যস্ততার মাঝেমাঝে গ্রামীন পরিবেশে সময় কাটানো অনেকটা জরুরী। আমি মাঝে মাঝে যখন নীলফামারী যাই তখন বিভিন্ন ধরনের গ্রাম এক্সপ্লোর করার জন্য চেষ্টা করি এবং গ্রামের সৌন্দর্যগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করি। জীবন তো একটাই, এই জীবনেই ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো পূরণ করতে হবে। আজকের মত এখানে শেষ করছি। আপনার সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: গ্রামীন পরিবেশ
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ.......
বিগত ১০ বছরের মধ্যে সারা পৃথিবীরই যেন ভোল বদলে গেছে। যান্ত্রিকতার এত দ্রুত উন্নয়ন বিশেষ করে ইন্টারনেটের এসে যাওয়া পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবেই আমি মনে করি। তোমার ভাইয়ের পোস্টে আমি নীলফামারী মাঠের অনেক ছবি দেখেছি। আজ তোমার এখানেও দেখে খুব ভালো লাগছে। এই মাঠগুলো দেখতে দেখতে যেন আমারই পরিচিত হয়ে উঠেছে। আকাশে মেঘের খেলার ছবিটা অসাধারণ তুলেছো । তোমার নীলফামারী ভালো থাকুক তোমরাও ভালো থেকো।