স্পেশাল রেসিপি // তরমুজের পুডিং রেসিপি (১০% পে-আউট 'লাজুক-খ্যাক' এর জন্য)
স্টিমিটের সহযোদ্ধারা,
"আসসালামু আলাইকুম", ঈদ মোবারক। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমি ও আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় বেশ ভালো আছি। আজকে আমি আপনাদের মাঝে "তরমুজের পুডিং রেসিপি" নিয়ে হাজির হয়েছি। আশা করি আপনাদের কাছে এটি খুবই ভালো লাগবে।
আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন বেশ কিছুদিন আগে প্রচন্ড গরম মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। একে তো ছিল রমজান মাস তার উপরে ছিল প্রচন্ড গরম দুটো মিলে আমরা এতটাই ক্লান্ত ছিলাম এটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে ফল-ফ্রুট আমার খুবই প্রিয় সেইসাথে আমার বাচ্চাদেরও। আমি প্রায় সময়ই বিভিন্ন রকম ফল ফ্রুট কিনে থাকি। গরমের সময় ফলের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে তরমুজ। আমি তরমুজ কিনে এনে প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ ফ্রিজে ঠান্ডা করে নি। তারপর এই তরমুজ কেটে খাওয়ার মজাই আলাদা। এরপর তরমুজ দিয়ে বিভিন্ন রকম বা বিভিন্ন উপায়ে রোজা ইফতারের জন্য শরবত বানিয়ে রাখি। তো বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের মাঝে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম একটি তরমুজের রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আশা করি আমার আজকের এই রেসিপিটি আপনার কাছে অনেক ভালো লাগবে। আসলে তরমুজ দিয়ে অনেকে অনেক ভাবে অনেক কিছু তৈরি করার চেষ্টা করে, আমিও তাই ছোট্ট পরিসরে অল্প উপকরণ দিয়ে আজকের এই রেসিপিটি তৈরি করে আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে যাচ্ছি।
তো বন্ধুরা চলুন আর দেরি না করে আমার রেসিপিটি কিভাবে ধাপে ধাপে তৈরি করেছি তা আপনাদের মাঝে শেয়ার করি।
উপকরণ ও পরিমাণঃ
- তরমুজঃ এক পিস
- চিনিঃ দুই থেকে তিন চামচ (আপনারা যারা মিষ্টি পছন্দ করেন তারা আরো বেশি ব্যবহার করতে পারেন)
- বেকিং পাউডারঃ এক চামচ।
প্রথম ধাপঃ
- প্রথমে আমি এক পিস তরমুজ নিয়ে একটা ছুরির সাহায্যে ছোট ছোট পিচ করে কেটে নিলাম।
দ্বিতীয় ধাপঃ
- এবার আমি একটি ব্লেন্ডার নিয়ে ছোট করে পিচ করা তরমুজ গুলো ব্লেন্ডারের মধ্যে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিলাম।
তৃতীয় ধাপঃ
- তারপর চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে কড়াই এর মধ্যে ব্লেন্ড করা তরমুজ গুলো দিয়ে বসিয়ে দিলাম।
চতুর্থ ধাপঃ
- এবার আমি এরমধ্যে পরিমাণমতো চিনি গুলো দিয়ে দিলাম। দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকলাম।
পঞ্চম ধাপঃ
- এবার আমি বেকিং পাউডার গুলো একটি পেয়ালার মধ্যে নিয়ে এরমধ্যে পরিমাণমতো পানি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করে নিলাম। এবং এই মিশ্রণটি তরমুজের মিশ্রণের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিলাম।
ষষ্ঠ ধাপঃ
- এরপর আমি চামচ দিয়ে এই মিশ্রনটিকে আস্তে আস্তে নাড়তে থাকলাম। এখানে আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে চুলার আছের পরিমাণটা খুবই সামান্য রাখতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে এই মিশ্রণটি পুড়ে না যায়।
- এখানে আপনারা লক্ষ্য করুন আস্তে আস্তে কিন্তু মিশ্রণটি অনেকটা ঘন হয়ে এসেছে এরপর আমি এটিকে চুলা থেকে নামিয়ে নিলাম।
সপ্তম ধাপঃ
- এবার আমি একটি ছোট বক্স নিয়ে বক্সের মধ্যে সামান্য পরিমাণ তেল মেখে নিলাম। এরপর আমি যে মিশ্রণটি তৈরি করেছিলাম সেই মিশ্রণটি এই বক্সের মধ্যে ঢেলে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করে নিলাম।
- মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হয়ে আসলে আমি বক্সের ঢাকনা লাগিয়ে দিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা ফ্রিজের নরমালে রেখে দিলাম।
চূড়ান্ত ধাপঃ
- ফ্রিজের নরমাল রাখার পর এটি অনেকটা বসে যাবে এবং কিছুটা শক্ত হয়ে আসবে এরপর আমি ফ্রিজ থেকে বের করে একটি প্লেটে পরিবেশনের জন্য নিয়ে নিলাম।
- বন্ধুরা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমার তরমুজের পুডিংটি পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে।
- বন্ধুরা এভাবেই তৈরি হয়ে গেল আমার আজকের তরমুজের পুডিং। রেসিপিটি পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। আশা করি আপনাদের আমার আজকে রেসিপিটি দেখে ভালো লাগবে।
আমার এই পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সেই সাথে এই পোষ্টে যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং এই পোস্টটি কেমন লেগেছে আপনারা আপনাদের মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
শুভেচ্ছান্তে,@alauddinpabel
| বিভাগ | রেসিপি |
|---|---|
| ডিভাইস | রেডমি নোট ১০এস |
| লোকেশন | গাজীপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ 🇧🇩 |
| রেসিপি মেড বাই | @alauddinpabel |
| তারিখ | ০৪-০৫-২০২২ ইং |
আমি অনেক ধরনের পুডিং খেয়েছি তবে এখনো পর্যন্ত তরমুজের পুডিং খাওয়া হয়নি। তবে আপনার রেসিপিটি দেখে বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে তরমুজের পুডিং খেতে খুবই সুস্বাদু এবং লোভনীয় হয়েছে। বিশেষ করে তরমুজের পুডিং এর কালার টা দেখে লোভ লেগে যাচ্ছে খাওয়ার জন্য। আপনি তরমুজের পুডিং তৈরির খুবই সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ভাইয়া। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।
আপনার জন্য শুভকামনা রইল। আসলে আমি নিজেও এই পুডিং তৈরি করে অবাক হয়ে গেছি, আমার কাছে এত চমৎকার লেগেছে বলে বোঝাতে পারবো না। অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই অসাধারণ মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপনার এত সুন্দর তরমুজের পুডিং দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি অবশ্য কোনদিনই এই রেসিপি তৈরি করিনি, তবে আপনার দেখাদেখি একটি উৎসাহ জাগলো মনে। চেষ্টা করে দেখব তৈরি করার জন্য। আর চেষ্টা করব এর জন্যই যে আপনার ধাপ গুলো খুবই সহজ, একবার দেখলেই সহজে তৈরি করা সম্ভব।
অবশ্যই চেষ্টা করবেন আশা করি ভালো লাগবে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে খুবই অসাধারণ ও গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
সহজ এবং খুব সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করেছেন ভাই। আমিও তরমুজ কিনে এনে প্রথমে ফ্রিজে রেখে তারপর খায় কেননা ঠান্ডা ঠান্ডা তরমুজ খেতে খুবই ভালো লাগে। এবার ফ্রিজে রাখার ফলে তরমুজের মিষ্টতা বেড়ে যায়।
আপনি একদম ঠিক বলেছেন ভাই আমার সাথে একমত হওয়াতে আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞ। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
ভাইয়া আপনি সব সময় এমন লোভনীয় লোভনীয় রেসিপি গুলো আমাদের মাঝে শেয়ার করেন। যা দেখে সবসময় খুব খেতে ইচ্ছে করে। সারাদিন এত গরম পড়ে তখন খুব ঠাণ্ডা খেতে ইচ্ছে করে আর সেটা যদি নিজের হাতে বানানো কোন কিছু হয় তাহলে তো কথাই নেই। এমন এক টুকরো পুডিং হলে সত্যি প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। অনেক ধরনের পুডিং খেয়েছি কিন্তু তরমুজের পুডিং কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার কাছ থেকে তরমুজের পুডিং টি শিখে নিয়েছে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া তরমুজের পুডিং রেসিপি টা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।
আসলে চেষ্টা করি ইউনিক কিছু শেয়ার করার জন্য সব সময়। অসংখ্য ধন্যবাদ অবশ্যই পুডিং বাসায় তৈরি করে খেয়ে নিবেন আশাকরি খেতে ভালো লাগবে।
আপনি তরমুজের পুডিং রেসিপিটা অসাধারণ ভাবে তৈরি করেছেন।দেখে আমার লোভ লেগে গেল। আপনি চমৎকার ভাবে এটা উপস্থাপন করেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই ধরনের রেসিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।
ভাই আপনি কি বলবেন আমি নিজেই তো লোভ সামলাতে পারেনি। অবশ্যই বাসায় তৈরি করে খেয়ে দেখবেন আশা করি ভালো লাগবে খেতে।
তরমুজ এর রেসিপিটি একটি ইউনিক রেসিপি।
দেখতে খুবই সুস্বাদু মনে হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ আপনি অনেক সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছেন। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
জ্বী আপু আপনি ঠিকই বলেছেন অনেক সুস্বাদু হয়েছে খেতে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
জীবনে বিভিন্ন পুডিং খেয়েছি। তরমুজের পুডিং কখনো খাওয়া হয়নি। আপনার কল্যানে ব্যতিক্রমধর্মী একটি পুডিং দেখলাম এবং শিখলাম। ধন্যবাদ এত চমৎকার একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আমার মাধ্যমে আপনি তরমুজের পুডিং দেখেছেন এবং শিখতে পেরেছেন এজন্য নিজেকে অনেক ধন্য মনে হচ্ছে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে আপনার জন্য শুভকামনা অবিরাম।
জাস্ট অসাধারণ ভাইয়া, তরমুজ দিয়ে এভাবে পুডিং তৈরি করা যায় তা কখনোই জানতাম না। ডিমের পুডিং অনেক খেয়েছি তবে তরমুজ কল্পনার মধ্যে আসেনি। আপনার তরমুজের পুডিং রেসিপি দেখে মনে হচ্ছে খেতে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। ধন্যবাদ ভাইয়া তরমুজের পুডিং তৈরির রেসিপি এত সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
এজন্যই তো এটা ইউনিক একটি রেসিপি, নিজেকে অনেক ধন্য মনে হচ্ছে যে আপনাদেরকে দেখাতে পেরেছে এবং শেখাতে পেরেছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে শুভকামনা অবিরাম।
প্রথমে আপনাকে ঈদ মোবারক জানাই, আসলে ভাই আপনার চিন্তাধারার সত্যিই অসাধারণ।আপনি তরমুজের পুডিং রেসিপি তৈরি করলেন। সত্যিই এটা আমি কখনো ভাবিনি। আপনার রেসিপি ভালোভাবে দেখে শিখে নিলাম। আমি অবশ্যই পরবর্তীতে তৈরি করবে ইনশাল্লাহ।
আপনাকেও ঈদ মোবারক। সেই সাথে আমার রেসিপিটি দেখে আপনার ইউনিক মতামত দিয়ে পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।
তরমুজের পুডিং রেসিপি খুবই লোভনীয় হয়েছে ভাইয়া। অনেক মজার একটি রেসিপি তৈরি করেছেন। ফল খেতে যেমন ভালো লাগে। তেমনি ফলের মজার রেসিপি তৈরি করতেও ভালো লাগে। আপনি অনেক সুন্দর ভাবে এই রেসিপি তৈরি করে আমাদের মধ্যে উপস্থাপন করেছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আপনার জন্য শুভকামনা রইল ভাইয়া।
আপনি ঠিকই বলেছেন মজাই মজা। অসংখ্য ধন্যবাদ গঠনমূলক মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।