জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা বা জ্বর হলে আমাদের কি করনীয়। টিপস : ১ //10% বেনিফিশিয়ারি লাজুক খ্যাক- কে
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগের সহযোদ্ধারা,
আসসালামুয়ালাইকুম, আমার বাংলা ব্লগে আপনাদেরকে স্বাগতম। আমি আলাউদ্দিন পাবেল। আমার প্রথম পোস্ট আমার পরিচিতি এর মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে অবগত করেছিলাম যে আমি একজন ফার্মাসিস্ট তাই সেই সুবাদে আজকে আমি আমার দ্বিতীয় পোস্টটি কিভাবে "জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা বা জ্বর হলে আমাদের কি করনীয়" সে সম্বন্ধে আপনাদের সামনে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান এর ভিত্তিতউপস্থাপন করছি এবং সেইসাথে আমি আশা করছি আমার এই ইনফরমেশন এর মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন এটাই আমার বিশ্বাস।
প্রথমে আমি এই জ্বর নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। আসলে জ্বর বলতে কি বুঝায় আর জ্বর হলে আমাদের কি কি করনীয়?
জ্বর হচ্ছে কোন একটি অজানা রোগের লক্ষণ। জ্বর কিন্তু কোনো রোগ নয়। আমাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে অনেকগুলো রোগের কারণ এই জ্বর হয়ে থাকে যেমন শরীরের যে কোনো ইনফেকশন, ক্যান্সার বা বাত জাতীয় রোগের কারণেও জ্বর হতে পারে। এজন্যই আমাদের এটা মনে রাখতে হবে জ্বর কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয় যে কোন অজানা একটি রোগের লক্ষণ মাত্র। তাহলে চলুন জেনে নেই জ্বর হলে আমরা কি করব?
আমাদের সবারই জীবনে কোন না কোন সময়ে জ্বর হয় তবে জ্বর হলে আমাদের ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের জ্বর গুলো সাধারণত ভাইরাসজনিত জ্বর হয়ে থাকে। এবং এই ক্ষেত্রে সাধারণত তিন চার দিনের বেশি জ্বর থাকেনা। এ বিষয়ে আপনাদের জেনে রাখা ভালো ম্যাক্সিমাম ভাইরাসজনিত জ্বরই ৭ দিনের মধ্যে চলে যায়। তাই এক্ষেত্রে আমাদের যা করার সেটি হল ভাইরাস জ্বর গুলো আমাদের প্রথম দিকে খুব ভীতিকর থাকে এবং প্রথম দিনেই ১০৩/১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠে যেতে পারে এক্ষেত্রে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার অভিভাবকগণ ঘাবড়ে যেতে পারে কিন্তু আমরা যদি সাধারণ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলি তাহলে আমরা খুব তাড়াতাড়ি এই জ্বর থেকে প্রশান্তি পেতে পারি বলতে গেলে সেরে উঠতে পারি।
source
এক্ষেত্রে আমাদের যা করতে হবে প্রথমে আমাদেরকে অবশ্যই থার্মোমিটার দিয়ে জিব্বা বাঁ হাতের বগলের নিচে এক মিনিট পর্যন্ত রেখে আমাদের জ্বরের তাপমাত্রা টা মেপে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা যখন দেখব আমাদের থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি অতিক্রম করে গিয়েছে তাহলে আমরা মনে করব আমাদের গায়ে জ্বর আছে। এরপর আমরা যখন দেখব জ্বর ৯৮ থেকে ১০৪ ডিগ্রি বা অধিক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে তখন আমাদের যা করণীয় তা হল আমাদেরকে প্রথমে রোগীকে শোয়া অবস্থায় মাথায় পানি দিতে হবে এবং সেই সাথে রোগীর পুরো শরীর একটা সুতির কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে সেটা দিয়ে পুরো শরীর মুছে দিতে হবে এবং কপালে সেই সুতির কাপড় পানিতে ভেজানো হালকা পানি সরিয়ে কপালে পট্টি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে একটা জিনিস লক্ষ্য রাখতে হবে মাথায় কিন্তু পানি বেশি দেওয়া যাবে না এতে করে রোগীর ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। সেই সাথে রোগীর এই জ্বরের সাথে আরো একটি উপসর্গের জন্ম হবে তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে মাথায় পানি বেশি দেওয়া যাবে না। তবে জ্বর না কমলে কিছুক্ষণ পরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ভিজানো সুতির কাপড় দিয়ে পুরো শরীর মুছে দিতে হবে এতে করে রোগীর সবচেয়ে বেশি শান্তি পাবে এবং ধীরে ধীরে তার জ্বর কমে যাবে। এতেও যদি জ্বর না কমে তাহলে আমাদেরকে আমরা প্যারাসিটামল খাব যেমন নাপা এইচ টামেন টার্বো রিসেট ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আমরা প্যারাসিটামল 6 ঘন্টা পরপর খেতে পারব তবে আমাদের যদি জ্বরের তাপমাত্রা কম থাকে তাহলে আমরা দিনে একটি প্যারাসিটামল অথবা তাপমাত্রা বেঁধে দুইটি প্যারাসিটামল খেতে পারব আর যদি ১০৩/১০৪ ডিগ্রী এর উপর চলে যায় তাহলে 6 ঘন্টা পর পর তার মানে 24 ঘন্টায় আমরা সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারব। এটা হচ্ছে আমাদের কমন ট্রিটমেন্ট। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আমাদের যখন জ্বর হয় এ জ্বরের সাথে বিশেষ করে যখন ছেড়ে যায় তখন আমাদের প্রচুর ঘাম হয় এতে করে আমাদের শরীরের অনেক লবণাক্ত পানি বের হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমাদের যদি বেশি জ্বর হয় এবং এক্ষেত্রে যদি বেশি ঘাম ঝরে যায় তাহলে আমাদের ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তার মানে আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে এজন্যই আমরা বলি ঠিক ওই মুহূর্তে আপনি বেশি বেশি লবণাক্ত পানি পান করুন অথবা ওরস্যালাইন পান করতে পারেন এক্ষেত্রে আপনার শরীরে পানিশূন্যতা রোধ হবে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যখন আমাদের অনেক ঘাম ঝরে যায় তখন আমাদের পিউর ওয়াটার খেলে আমাদের কিন্তু শরীরের পানি শূন্যতা পূরণ হবে না এই জন্যই আমাদেরকে লবণযুক্ত পানি অথবা ওর স্যালাইন খেতে হবে। আমাদের শরীরের শক্তি থাকবে আমরা দুর্বল হয়ে পড়বো না। আমাদের আরেকটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে জ্বর অবস্থায় প্রতিটি মানুষেরই আড়াই থেকে 5 লিটার পর্যন্ত প্রতিদিন পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে।
আমরা যদি উপরের নিয়ম কানুন গুলো সঠিক ভাবে পালন করি তাহলে আমরা জ্বর থেকে খুব সহজে মুক্তি পাব এবং জ্বর থেকে আমরা ভালো থাকতে পারবো। পরবর্তীতে যদি আমাদের এই জ্বর সাত দিন পর ও না যায় তাহলে অবশ্যই আমাদের এই জ্বর কেন হলো, এটি কি ভাইরাসজনিত জ্বর না ব্যাকটেরিয়া জনিত জ্বর না অন্য কোন কারণে হয়েছে সেজন্য আমাদেরকে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমাদেরকে জ্বরের আসল কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যেতে হবে যাতে করে আমরা সুস্থ হতে পারি।
আমার পোস্টটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।
বলতে গেলে সঠিক সময়ে সঠিক পোস্ট হয়েছে এটা কেননা বর্তমান সময় যে পরিমাণ জ্বরের প্রকোপ করেছে। তাতে এই পোস্টটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।অনেক ধন্যবাদ ভাই পোস্টটি শেয়ার করার জন্যে।
ধন্যবাদ ভাই, আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।
আপনি যে ছবিগুলো ব্যবহার করেছেন সেটি কপিরাইট ফ্রি নয়। আপনি যে তথ্য সম্বলিত ছবি ব্যবহার করছেন উইকিপিডিয়াতে হয়তো এধরনের ছবি পেতে পারেন এখান থেকে নিলে ভাল হতো। এছাড়া প্রথম ছবিটি কপিরাইট ফ্রী ছবি ডাউনলোডের অনেক ওয়েবসাইট আছে (যেমনঃpixabay, freepic) সেখান থেকে নিয়ে ব্যবহার করতে পারতেন। পরবর্তীতে আপনি পোস্ট এ ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো সর্তকতা অবলম্বন করবেন।
ধন্যবাদ ভাই আপনাকে আপনি আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন এরপর থেকে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব আরও ভালো করে দেখে শুনে বুঝে কঁপিরাইট ফ্রী ছবি গুলো ব্যবহার করার জন্য।
Hi, @alauddinpabel,
Thank you for your contribution to the Steem ecosystem.
Please consider voting for our witness, setting us as a proxy,
or delegate to @ecosynthesizer to earn 100% of the curation rewards!
3000SP | 4000SP | 5000SP | 10000SP | 100000SP