"🌿 আমার বাংলা ব্লগ 🌾" এ দ্বিতীয় প্রতিযোগিতা : বিষয় - "রচনা প্রতিযোগিতা - আমার প্রিয় শহর"
আসসালামু-আলাইকুম।
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন।
আমি@ Al-Aminইসলাম আছি আপনাদের সাথে।
আল্লাহর অশেষ রহমতে আমিও অনেক ভালো আছি।
আজ আনন্দঘন মুহূর্ত নিয়ে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি আমার প্রিয় শহর রচনা উপস্থাপন করার জন্য। আনন্দঘন মুহূর্ত সময়টি সবারই অনেক ভালো লাগে তেমনি আমার প্রিয় শহর রচনা লিখব এটা ভেবে আমিখুবই আনন্দিত। ব্যক্তি জীবনে প্রতিটি ব্যক্তির কাছের জিনিস গুলো প্রিয় হয়ে ওঠে, তেমনি ভাবে আমার শহর আমার কাছে খুবই প্রিয়।@rme ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই যে, আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটি তে আমার প্রিয় শহর রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আমাকে প্রতিযোগিতায় অংশ করার সুযোগ দান করেছেন।
আমার প্রিয় শহর(কুষ্টিয়া শহর)
লেখক:@Al-amin
ভূমিকা
কুষ্টিয়া শহর
কুষ্টিয়া বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগে অবস্থিত একটি শহর ।এটি একই সাথে কুষ্টিয়া জেলা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সদর । রেল ও নৌপথে বাংলাদেশের অন্যান্য শহরে সাথে সংযুক্ত । কুষ্টিয়া শহর কে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়।
আয়তন ও জনসংখ্যা
আমার শহরের আয়তন ১৪বর্গ কিলোমিটার । শহরে চার লক্ষাধিক জনসংখ্যার বসবাস। আমার শহর কুষ্টিয়া বাংলাদেশের ১৩তম বৃহৎ শহর। আমার শহর কুষ্টিয়ার ভাষা শুদ্ধ ও সাবলীল এবং মিষ্টি ভাষী। আমার শহরটি মিলনের অনন্য নজির আছে এখানে বিভিন্ন ধর্মের লোকই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করে। আমার শহরের পূর্ব নাম নদীয়া।
ঐতিহাসিক স্থান
| ১ নং | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি |
|---|---|
| ২ নং | সাঁইজির লালন শাহের মাজার |
| ৩ নং | সাহিত্যিক মীর মোশারফ হোসেনের বাস্তভিটা |
| ৪ নং | কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাস্তভিটা |
| ৫ নং | কেরু কোম্পানির চিনিকল |
| ৬ নং | বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন জগতি কুষ্টিয়া |
লালন শাহের স্মৃতিস্তম্ভ
সাঁইজি লালন শাহের মাজার
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি
জগতি রেলওয়ে স্টেশন
সাঁইজির লালন শাহের মাজার কথাটি মনে পড়াতেই বাংলাদেশের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের কথা মনে পড়ে। কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে লালন শাহের মাজার অবস্থিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লালন শাহের মাজার পরিদর্শন করতে প্রতিবছর অনেক লোক সমাগম হয়। তাই লালন শাহের মাজার কে বাংলাদেশের পর্যটক কেন্দ্র বলা হয়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা বলতে গেলেই বাংলাদেশের কুষ্টিয়া শহরে কথা মনে পড়ে যায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করতে বিভিন্ন পর্যটকরা প্রতিবছর ভিড় জমায়।
সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন কে বাংলাদেশের সকল মানুষই পরিচিত একজন সাহিত্যিক। সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের কথা বলতে গেলেও বাংলাদেশে কুষ্টিয়া শহরের নাম ভেসে ওঠে এবং তারই নামে কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
জগতি রেল স্টেশন কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত। আপনারা জেনে অবাক হবেন কুষ্টিয়া শহরে জগতি রেল স্টেশন বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেল স্টেশন।
সড়ক ও পরিবহন
বাংলাদেশের মধ্যে কুষ্টিয়া শহরের সড়ক ও পরিবহন এর কথা বলতে গেলে খুব গর্বের সহিত বলতে হয় কুষ্টিয়া শহরের সড়ক বা হাইরোড অথবা শহরের ভিতর রাস্তা গুলো খুবই সুন্দর পিচ ঢালাই করা রাস্তা। শহরের প্রতিটা অলিতে গলিতে পিচঢালা পাকা রাস্তা আছে। কুষ্টিয়া শহর দিন দিন আরও উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
কুষ্টিয়া শহর থেকে বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তের পরিবহন পাওয়া সম্ভব। পরিবহনগুলোর সুযোগ-সুবিধা অতুলনীয়, কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে অনেক নামিদামি পরিবহন চলাচল করে। তারই মধ্যে: হানিফ, শ্যামলী, জে আর পরিবহন, এফ কে, ফাতেমা পরিবহন, এস বি পরিবহন, নিউ এস বি পরিবহন, শামীম পরিবহন, তুহিন পরিবহন ইত্যাদি।
শিক্ষাব্যবস্থা
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | সরকারি স্কুল ও কলেজের নাম | বিশ্ববিদ্যালয় |
|---|---|---|
| ০১ | সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় | ০ |
| ০২ | কুষ্টিয়া হাই স্কুল | ০ |
| ০৩ | পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ কুষ্টিয়া | ০ |
| ০৪ | চাঁদ সুলতানা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় | ০ |
| ০৫ | কুষ্টিয়া জিলা স্কুল | ০ |
| ০৬ | কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ | ০ |
| ০৭ | কুষ্টিয়া সরকারি সিটি কলেজ | ০ |
| ০৮ | কুষ্টিয়া সরকারি সেন্ট্রাল কলেজ | ০ |
| ০৯ | কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজ | ০ |
| ১০ | কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, কুষ্টিয়া | ০ |
| ১১ | ০ | কুষ্টিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় |
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ
এসব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও কুষ্টিয়া মহিলা সরকারি কলেজ থেকে প্রতিবছর ঢাবি, বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট,চুয়েট, রাবি ও মেডিকেল কলেজ সহ স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীদারিত্ব অর্জন করে থাকে।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
কুষ্টিয়ার চিকিৎসাব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা দিন দিন অগ্রসর হচ্ছে। কুষ্টিয়াতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল আছে। এখানে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অসুস্থ ব্যক্তি বর্গ রা চিকিৎসা পেয়ে থাকে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আছে। এছাড়াও বেসরকারি নামকরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যেমন: সনো টাওয়ার ১, সনো টাওয়ার ২, আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইত্যাদি। কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বেসরকারি হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে বিআরবি হাসপাতাল। বিআরবি ক্যাবলস এর মালিক বিআরবি হাসপাতাল তৈরি করছেন। এই হাসপাতলে বাংলাদেশ নয় বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য ডাক্তারগণ রোগী দেখবেন, এটা আমাদের শহরের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়।
শপিং মল ও কল কারখানা
কুষ্টিয়া শহরের শপিংমল অথবা কেনাকাটার কথা বলতে গেলে গর্বে আমার বুক টা ভরে যায়। কুষ্টিয়া শহরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নামক রোড আছে,
ওই রোড টি এন এস রোড নামে পরিচিত। এনএস রোড এর দুই পাশ দিয়ে সারি সারি ভাবে অনেকগুলো শপিং কমপ্লেক্স আছে, কুষ্টিয়া পৌরসভা থেকে শুরু করে বড় বাজার পর্যন্ত প্রায় এক হাজারের ওপর দোকান আছে। নামকরা শপিং কমপ্লেক্স গুলো : লাভলী টাওয়ার, পরিমল থিয়েটার, বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেট, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া মার্কেট, কুষ্টিয়া বড়বাজার মার্কেট, পরিমল টাওয়ার, কুষ্টিয়া উপজেলা পরিষদ টাওয়ার। কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিআরবি ক্যাবলস ফ্যাক্টরি যা শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বব্যাপী পরিচিত। কুষ্টিয়া শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে খাজানগর চাউলের কারখানা। বাংলাদেশের চাউলের রাজা বলা হয় খাজানগর কারখানা কে। বাংলাদেশের ৩০% চাউলের যোগান দেয় খাজানগর কারখানা থেকে।
শহরের মানুষের জীবন যাপন জীবিকা
কুষ্টিয়া শহরের মানুষ বেশিরভাগই অফিস-আদালত ,কল কারখানা ,ব্যবসা ও বাণিজ্য করে থাকেন। শহরের অধিকাংশ মানুষই চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী। শহরে উচ্চবিত্ত ,মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ সবাই মিলেমিশে বসবাস করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন গ্রাম বা দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শহরে আগমন করে। কুষ্টিয়া শহর কে সাংস্কৃতিক শহর বলা হয়, এখানে সব ধরনের আচার অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে পালিত হয়ে থাকে। কুষ্টিয়া শহরে যার যার ধর্ম সে সে পালন করে কেউ কারো ধর্ম নিয়ে হস্তক্ষেপ করে না।
কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে বেড়ানোর স্থান
কুষ্টিয়া শহর গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত। গড়াই নদীর ওপর দিয়ে হরিপুর ব্রিজ, হরিপুর ব্রিজ কুষ্টিয়া শহরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্রিজ, ছুটির দিনে হরিপুর ব্রিজ ও ও গড়াই নদীতে অনেক মানুষের সমাগম হয়। এছাড়াও বেড়ানোর স্থান রেনউইক বাধ, কামরুজ্জামান শিশু পার্ক, জিয়া পার্ক, মন পড়া বাধ, কাজী লালন শাহের মাজার, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তভিটা।
উপসংহার
সময়ের সাথে পাল্লা দিতে দিতে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন চরিত্রে অসংখ্য পরিবর্তন এসেছে। দিনদিন কুষ্টিয়া শহর উন্নতর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কুষ্টিয়ার মানুষ তার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে লালন ও সমাদর করে। একইভাবে নিজের ইতিহাসকে উদযাপন করতে শহরবাসী মেতে ওঠে।
উপরোক্ত রচনাটি আমার কুষ্টিয়া শহর ভালোলাগার ও ভালভাসার কারণগুলি যথাযথভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আমার প্রিয় কুষ্টিয়া শহর রচনা টি আপনাদের ভাল লেগেছে। আমার রচনা সম্পর্কে আপনাদের মতামত কমেন্ট এর মাধ্যমে আমাকে জানাবেন। আপনাদের মতামত আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার রচনা লেখা শেষ করলাম।
| Camera | canon Eos 70D |
|---|---|
| Camera Lens | Canon EF 50mm f/1.4 |
| Camera Settings | Diaphragm f/1.3 |
| Photo by | Al-Amin |
অনেক বৃহৎ ব্যাখ্যা। এই পোস্ট কেউ পড়লে কুষ্টিয়া জেলা সম্পর্কে তার ধারণা অনেক বেড়ে যাবে।
ধন্যবাদ আপনাকে
ধন্যবাদ কুষ্টিয়া শহরেকে নতুন করে আমাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। যদিও আমার কুষ্টিয়া সম্পর্কে মোটামুটি বেশ ভালোই ধারণা আছে।
ভাই অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার পোস্টটি.আশা করি আপনি এই প্রতিযোগিতায় প্রথম হবেন.♥♥
আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া
আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া