ঢাকা যাওয়ার প্রথম দিনের অনুভূতি/ প্রথম পর্ব।

in আমার বাংলা ব্লগ3 years ago

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম

আসসালামু আলাইকুম

শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।

প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, ঢাকা যাওয়ার প্রথম দিনের অনুভূতি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।

1694326657108.jpg

আসুন শুরু করি

IMG20230908105227.jpg

IMG20230908113702.jpg

আমি গত সপ্তাহে ঢাকা গিয়েছিলাম মামা মামিকে দেখতে। আমার মামা মামি ঢাকা ফার্মগেট এলাকায় থাকে। কিছুদিন আগে তারা সপরিবার এবং তাদের কিছু আত্মীয়-স্বজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসছিল। সেই সুবাদে আমাদের বাসায় দুই দিন ছিলো। যাওয়ার সময় আমাকে এবং আম্মাকে তাদের সাথে ঢাকা যেতে অনেক বার বলেছে। তখন আমি প্রচুর ব্যস্ত থাকার কারণে তাদের সাথে ঢাকায় যেতে পারি নি। তাই গত সপ্তাহে তাদের বাসায় বেড়াতে গেলাম। তাদের বাসায় বেড়ানোর পাশাপাশি ঢাকাতে আমার এক আত্মীয়র সাথে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ আছে সেগুলো সেরে নেবো।

IMG20230908120252.jpg

IMG20230908120223.jpg

IMG20230908115429.jpg

আমি ঢাকা যাওয়ার পূর্বে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি মামা মামীকে বললাম আপনাদের জন্য কি নিয়ে আসবো? তখন তারা বললো কিছু নিয়ে আসার দরকার নাই আমি গেলেই চলবে। আসলে গ্রামের মানুষ যখন শহরে আত্মীয় স্বজনের বাসা যায়। তখন গ্রাম থেকে যাওয়ার সময় কিছু তাজা শাকসবজি, মাছ, মোরগ, বিভিন্ন রকম পিঠা, এবং আচার তৈরি করে নিয়ে গেলে তারা বেশ খুশি হয়। বাজার থেকে ফলমূল ক্রয় করে নিয়ে গেলে তারা তেমন একটা খুশি হয় না। আমার মামাদের বাসায় যেহেতু ফার্মগেট এলাকায় তাই কাওরান বাজারে যেতে তাদের বেশি সময় প্রয়োজন হয় না।

IMG20230908122646.jpg

IMG20230908122632.jpg

IMG20230908120427.jpg

কাওরান বাজারে তো সবকিছুই পাওয়া যায়। এ কারণে তারা আমাকে কিছু নিয়ে যেতে বারণ করেছে। তারপরও আমি যাওয়ার সময় একটি দেশি মোরগ এবং কিছু নারকেল পিঠা তৈরি করে নিয়ে গেলাম। আমি ঢাকা যাওয়ার জন্য পূর্বে টিকেট কেটে রেখেছি। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছি। বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার পরে প্রচন্ড বৃষ্টি আরম্ভ হলো তাই গাড়ি কিছুটা দেরি করে ছাড়লো। পূর্বে টিকেট কেটে রেখেছি কারণ যাতে জানালার পাশে সিট পাওয়া যায়। সাধারণত আমি কোথাও যাওয়ার সময় তেমন বেশি খাওয়া-দাওয়া করি না। আমি মনে করি হালকা নাস্তা করে গন্তব্য স্থলে পৌঁছানোর উত্তম।

IMG20230908124126.jpg

IMG20230908123709.jpg

বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমি বাসের জানালা খুলতে পারি নাই আর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারি নাই। প্রায় কুমিল্লা পার হওয়ার পরে বৃষ্টি থামলো। বৃষ্টি থামার পরে জানালার খুলে বাহিরে বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছি। আসলে বাসে বা, ট্রেনের জানালার পাশে বসে বাইরের প্রকৃতির দৃশ্য উপভোগ করার আনন্দটাই অন্যরকম। জানালার পাশে বসে বাহিরের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখলে দীর্ঘক্ষণ বাসে বসে থাকার বিরক্তিকর অনুভূতি অনুভব হয় না।

IMG20230908130032.jpg

কুমিল্লা পার হওয়ার পূর্বেই হোটেল নূরজাহান এর সামনে গাড়ি যাত্রা বিরতি করলো। আমি হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটি কমল পানীয় স্পিড আর নাটি বিস্কুট খেয়েছি। যাত্রা বিরতির পরে আবার গাড়ি
চলতে আরম্ভ করলো। জানালার পাশে বসে বাইরে চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে লাগলাম। মেঘনা এবং গোমতি সেতুর উপর দিয়ে যখন গাড়ি পার হচ্ছে তখন নদীর অপরূপ সৌন্দর্য বেশ চমৎকার উপভোগ করেছি। নদীতে ছোট ছোট নৌকা চলছে। টলারের সাহায্যে বাল উত্তোলন হচ্ছে। নদীর গভীরে বড় বড় জাহাজ এবং টলার দাঁড়িয়ে রয়েছে। সত্যি খুব ভালো লাগলো দৃশ্যগুলো ।

আসলে আমি যখন জানালা দিয়ে বাইরে পরিবেশ দেখছি তখন আমার কাছে মনে হচ্ছে না যে আমি অনেকক্ষণ গাড়িতে বসে রয়েছি। আজ আর নয় আগামী পর্বে আবার আপনাদের সাথে কথা হবে।

পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।

এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য বিষয় আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।

  • অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।

সবাইকে শুভ সকাল
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।

আমার পরিচিতি

G0mIPwfurEJVlbirXIKFAUZVIuK.jpg

আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।


VOTE @bangla.witness as witness

witness_vote.png

OR

SET @rme as your proxy


witness_proxy_vote.png

♥️ আমার ব্লগটি ভিজিট করার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ 🖤

Posted using SteemPro Mobile

Sort:  
 3 years ago 

ভাই আপনি আজকে ঢাকায় যাওয়ার অনুভূতিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। যেহেতু ঢাকাতে আপনার মামা এবং মামি থাকে আপনি সেখানেই যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলাম। মামা এবং মামির জন্য অনেক কিছু নিয়েছেন দেখছি। আর যাওয়ার সময় বেশ সুন্দর সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি করেছেন। এসব ফটোগ্রাফি গুলো কিন্তু ভীষণ ভালো লেগেছে ভাই। ঢাকায় যাওয়ার সময় বেশ কিছু প্রকৃতি আমাদের চোখে পড়ে। সব মিলে খুবই ভালো লেগেছে ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

পুরো পোস্টটি পড়ে, এতো চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

 3 years ago 

ভাইয়া আপনি আপনার মামা - মামির বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা রওনা করলেন। তারা ফার্মগেট থাকে।তাদের জন্য বেশকিছু জিনিস নিলেন।আসলে গ্রামের তাজা শাকসবজি খেতে ভীষণ মজার হয়।কিন্তু তাদের বাসার পাশে যেহেতু কাওরান বাজার। তাই সবকিছু ই এখানে খুব ভালো পাওয়া যায়। তাই আপনি মোরগ আর পিঠা নিয়ে গেলেন।আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন।আপনি চলার পথে বেশকিছু ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। চমৎকার হয়েছে ফটোগ্রাফি গুলো। আশাকরি আপনি খুব সুন্দরভাবে ঢাকা এসে পৌঁছাতে পেরেছেন।অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

 3 years ago 

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আপু। এতো চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

ভাই আপনি ঢাকায় যাওয়ার অনুভূতিটি খুবই সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আসলে ভাইয়া গ্রাম থেকে শহরে গেলে গ্রামের পিঠা মাছ শাকসবজি এগুলো শহরে নিয়ে গেলে শহরে মানুষ অনেক খুশি হয়। তবে একটা বিষয় হচ্ছে আপনি বৃষ্টির কারণে বাসের জানালা খুলতে পারেননি যেখানে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেননি। ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।

 3 years ago 

গ্রাম থেকে তাজা কোন জিনিস নিয়ে গেলে শহরে মানুষ খুবই খুশি হয়‌‌। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই পোস্টটি পড়ে এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করে পাশে থাকার জন্য।

 3 years ago 

অবশেষে তাহলে ঢাকায় মামা মামির বাসায় বেড়াতে চলেই গেলেন। আসলে গ্রাম থেকে যারা ঢাকাতে আসে তারা বরাবরই চায় যে গ্রামের কিছু ঢাকাতে নিয়ে যাই আপনিও তাদের মধ্যে ব্যতিক্রম নন। এখন ঢাকায় এসে দেখবেন যে গ্রাম সুন্দর নাকি ঢাকা শহর সুন্দর..!! ঢাকাতে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে যেখানে আপনি ঘুরাঘুরি করতে পারবেন কিন্তু গ্রামের মতো প্রকৃতি পরিবেশ কখনোই পাবেন না। কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলের নাম অনেক শুনেছি শুনেছি শেখার খাবার নাকি অনেক বেশি সুস্বাদু তবে কখনো খাওয়া হয়নি যদি কখনো কুমিল্লায় যাই অবশ্যই নূরজাহান হোটেলের খাবার খাব। ভালো লাগলো আপনার ঢাকা যাওয়ার প্রথম দিনের অনুভূতি পড়ে। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

জি ভাই নুরজাহান হোটেলের খাবার মান খুবই উন্নত।
আপনি ঠিকই বলেছেন, ইট পাথরের শহরে গ্রামের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় না। চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64085.58
ETH 1844.13
USDT 1.00
SBD 0.38