এই পৃথিবীতে কেউ ব্যস্ত নয় যার যতোটা প্রয়োজন, সে ততটুকুই ব্যবহার করে।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন। আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি।
প্রিয়, আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, এই পৃথিবীতে কেউ ব্যস্ত নয় যার যতোটা প্রয়োজন, সে ততটুকুই ব্যবহার করে এই বিষয় সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
এই পৃথিবীতে সবাই কম বেশি ব্যস্ত থাকে এটি প্রকৃতির বাস্তবতা। বড়লোক কিংবা গরিব লোক সবাই ব্যস্ত থাকে হয়। কারণ সবাই কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। কেউ ব্যস্ত খুব কম থাকে, হয়তো ব্যস্ত কেউ বেশি থাকে। কারো কাজ হালকা হয় কম সময় করে থাকে। আবার কেউ ভারি কাজ খুবই কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে বেশি সময় ধরে করে থাকে। কিন্তু এই পৃথিবীতে কেউ তার জীবনে প্রতিটি মুহূর্ত ব্যস্ততা থাকে না। হয়তো সেই ১২ ঘন্টা, একদিন, এক সপ্তাহ, একমাস বা, ছমাস পর নিশ্চয়ই ফ্রি থাকে। এটি প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু আমরা বাস্তবতায় দেখি অনেকেই ব্যস্ততার অজুহাত দেখায়। সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ব্যস্ত থাকে।
সেই বারো ঘন্টা, একদিন, এক সপ্তাহ বা, এক মাস পরও সময় পাই না। এমন ভাবে কথা বলে এবং এমন ভাবে ব্যর্থতার অজুহাত দেখায়। মনে হয় সেই রোবট, ২৪ ঘন্টা, টানা ৩০ দিন সে কাজ করে । সে একটি মুহূর্তের জন্য অবসরে যায় না। সেই খাওয়া দাওয়া করে না ফ্রি থাকে না। বাস্তবতা আসলে কেউ প্রতিটি মুহূর্ত ব্যস্ত থাকে না। ব্যস্ত থাকে সত্যি। তবে মোবাইলে পাঁচ মিনিট কথা বলবে হয়তো সেই বিশ মিনিট গিয়ে দেখা করবে ঐ সময় সে পাই না কখনো তা আসলে সত্যিকার অর্থে মেনে নেওয়া যায় না। হয়তো সে অন্যের থেকে দূরে থাকার জন্যই ব্যস্ততাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
বর্তমানে দেখা যায় যখন তার নিজের কোন প্রয়োজন থাকে। তখন সে তার শত ব্যস্ততা মাঝেও অন্যের কাছে গিয়ে থাকে। অন্যকে সময় দেয় অন্য কাছে আসে। যখন তার সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় কাজ শেষ হয়। তখন সে সম্পর্ক খুব দূরে রাখে। তখন সে হাজার রকম ব্যস্ততার অজুহাত দেখায়। তখনই সে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দুজনের ভালো সম্পর্ক এবং হৃদয়ের আন্তরিকতা থাকলে কখনো ব্যস্ততা বাধা হতে পারে না। শত ব্যস্ততার মাঝেও কথা বলা যায় দেখা করা যায়। হয়তো বেশি ব্যস্ত থাকলে কথা কম বলা হয় দেখা কম করা হয়। কিন্তু একেবারে কথা বলা যায় না বা, একেবারে দেখা করা যায় না তা কোন ভাবে কাম্য নয়।
এই বিষয়টা মনের মধ্যে সন্দেহ এবং সম্পর্কের অবনতি সৃষ্টি করে। যে ব্যস্ততা সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে এবং আন্তরিকতা কমিয়ে দেয় তা আসলে ব্যস্ততা নয় তা হচ্ছে ইচ্ছে করে অন্যের থেকে দূরে সরে আসার পন্থা। বলতে গেলে, এই পৃথিবীতে কেউ ব্যস্ত নয় যার যতোটা প্রয়োজন, সে ততটুকুই সময় ব্যবহার করে অন্যের জন্য এটি বাস্তবতা। শুধু ব্যস্ততাকে অন্য থেকে আড়াল করার জন্য পর্দা হিসেবে ব্যবহার করে। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সে সময় পাই না এটাই সত্য। ব্যস্ততা অজুহাত ছাড়া আর কোন কিছুই নয় । কারণ দেখা যায় সে অন্য লোককে ততোক্ষণ সময় দেয় যতোক্ষণ তার প্রয়োজন রয়েছে।
যতোক্ষণ তার সমস্যা সমাধান হয় না সেই ততোক্ষণ পর্যন্ত অন্য লোকের পিছু ছাড়ে না। যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় তখনই সে অচিন পাখির মতোন হারিয়ে যায়। তখন সেই আর খোঁজ খবর রাখে না যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমাদের প্রত্যেকের আশেপাশে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এমন ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা। আমাদের মনে রাখা উচিত ব্যস্ততা কখনো মানুষের সম্পর্কের মাঝে আসতে পারে না। ব্যস্ততা কখনো মনে আন্তরিকতা কমিয়ে দিতে পারে না। যে ব্যস্ততা সম্পর্কের অবনতি করে এবং হৃদয়ের আন্তরিকতা কমিয়ে দেয় তা আসলে ব্যস্ততা নয় শুধু নিজেকে আড়াল রাখা।
আমাদের সমাজে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা মৌমাছি মতোন ফুলের মধু আহরণ করে উড়িয়ে যায় আর কখনো ফিরে আসে না। আমাদের মনে রাখতে হবে এই পৃথিবীতে কেউ ব্যস্ত নয় যার যতোটা প্রয়োজন, সে ততটুকুই ব্যবহার করে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি অন্য কোন বিষয় উপস্থাপন করবো, ইনশাআল্লাহ।
অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন । এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে পেরে আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলায় প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানিত ফাউন্ডার, এডমিন, মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করে থাকি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে। বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy





https://x.com/MdAgim17/status/1890795369283322063?t=32viuYy3RwK_QpYVHoUx3w&s=19
আপনি ঠিক বলেছেন ভাইয়া ব্যস্ততা আমাদের জীবনের অংশ। তাই বলে আমরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকি না। নিজের প্রয়োজনের সময় শত ব্যস্ততা রেখেও চলে যায়। আর অন্যের সময় আর দেখা যায় না। ধন্যবাদ ভাইয়া অনেক ভালো লিখেছেন।
ধন্যবাদ আপনাকে আপু সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
আপনার এই মন্তব্যটি অত্যন্ত সত্যি এবং গভীর। আসলে, সবাই তার প্রয়োজন অনুযায়ীই সময় এবং শক্তি ব্যয় করে। আর যারা অতিরিক্ত ব্যস্ততার মধ্যে থাকে, তারা হয়তো কখনোই পুরোপুরি নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারে না। আমরা যতটুকু প্রয়োজনীয়, ততটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকলে জীবন অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হতে পারে। ধন্যবাদ সুন্দর একটি টপিক নিয়ে পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
পোস্ট পড়ে দারুন অনুভূতি শেয়ার করেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।
আজকে আপনি খুব সুন্দর একটি পোস্ট করেছেন। এই পৃথিবীতে কেউ ব্যস্ত নয় যার যতটুকু প্রয়োজন সেই ততটুক ব্যবহার করে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রয়োজন হলে মানুষের পিছে ছুটে মানুষ নিজের সুবিধার জন্য। আর সুবিধা যখন হাসিল করে তখন তাকে আর দেখাই যায় না। এবং মানুষ অনেক সময় ব্যস্ততার মাঝেও ফ্রি হয়। ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।
জি আপু, প্রয়োজন হলে মানুষের পিছে ছুটে মানুষ নিজের সুবিধার জন্য। ধন্যবাদ আপনাকে আপু।