কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নেওয়া অনুভূতি।
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।
আজ আমি আপনাদের, কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নেওয়া অনুভূতি সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
এখনো মনে পড়ে কোভিড এর বিভীষিকাময় দিন গুলোর কথা। করোনা মহামারী আমাদের জীবনকে একেবারে থমকে দিয়েছে তখন। করোনা একটি আতঙ্কের নাম। করোনা মানবদেহের সরাসরি ফুসফুসে আক্রমণ করে থাকে। করোনার উচ্চ সংক্রামকে মানুষ দিশেহারা। জীবন এবং জীবিকা খুবই খারাপ অবস্থা । লোকডাউনে মানুষ খুবই কষ্ট করছে। চারদিকে কঠিন পরিস্থিতিতে কোথায় যাওয়ার অনুমতি নেই। সব দিকে মৃত্যুর মিছিল বিশেষ করে বয়স্ক লোকদের এবং গর্ভবতী মায়েদের কোভিড আক্রান্ত হওয়ার হওয়ার তথ্য ছিল ভয়াবহ। বয়স্ক লোকদের কোভিড আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিলো।
আধুনিক যুগে এসে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে মানুষ কখনো কল্পনা করে নি। কোভিড প্রথম পর্যায়ে এতটা ভয়াবহ ভীতিকর ছিলো যে ব্যক্তি আক্রান্ত হতো তার আশেপাশে যাওয়াটাই মানুষ খুব ভয় পেতো। এখনো মনে পড়ে সে কঠিন পরিস্থিতির কথা সে হৃদয়বিদারক দৃশ্য গুলো এখনো বিশ্বাস করা কঠিন। ছেলে তার বাবার লাশের পাশে যেতে পারে নি। মায়ের লাশ ছুঁয়ে দেখতে পারে নি ছেলে মেয়ে। কোভিড এর ভয়ে মানুষ কত কিনা করেছে? কোভিড এর কারণে কত শত প্রাণ চলে গেল। কত প্রিয় মানুষ আত্মীয়-স্বজন চলে গেল এই করোনার ধাবায়। করোনা যে একবার আক্রান্ত হয়েছে সেই বুঝে এর যন্ত্রণা ভয়াবহতা কেমন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের পর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলো। তখন কোভিড এর মহামারী এতটা ভয়াবহ ছিল চারদিকে টিকে খুবই সংকট। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে লাগলো। প্রথম বয়স্ক লোকদের জন্য টিকে অনুমতি দেয়া হলো ধীরে ধীরে সবার জন্য টিকে বাধ্যতামূলক করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হতে বাংলাদেশ অনেক গুলো টিকে দেওয়ার অনুমতি পায় তার মধ্যে সিনোফার্মা, ফাইজার, মর্ডানা এবং জনসন ভ্যাকসিন অন্যতম। প্রথম পর্যায়ে ফাইজার এবং জনসন দিলেও পরবর্তীতে সবাইকে আমাদের দেশে সিনোফার্মা ভ্যাকসিন গণহারে দিয়েছে । সাধারণত কোভিড-১৯ তিনটি টিকা দেওয়া লাগে। প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরে বুস্টার ডোজ নেওয়া খুবই প্রয়োজন। ১২ বছরের তার ঊর্ধ্বে সবারই বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।
বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যের সকল সুখের মূল। স্বাস্থ্য যদি ভালো না থাকে তাহলে পৃথিবীর কোন কিছু ভালো লাগে না। স্বাস্থ্যই আমাদের আসল সম্পদ। আমরা অসুস্থ হয়ে গেলে আমাদের টাকা পয়সা অর্থ সম্পদ ভোগ বিলাস সবকিছু তুচ্ছ হয়ে পড়ে। তাই আমাদের মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। যে কোন ধরনের মহামারী সংক্রামক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া খুবই প্রয়োজন।
আমি কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজের প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছি অনেক আগে । প্রায় দুই মাস আগে আমার কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ দেওয়ার জন্য এসএমএস এসেছে। কিন্তু আমি ব্যস্ততার কারণে এতদিন বুস্টার ডোজ দিতে পারি নি। তাই আজ সকালে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ দিয়েছি। কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নিতে ভয় কাজ করছিল। কারণ অনেকের কাছেই শুনেছি বুস্টার ডোজ নিলে নাকি জ্বর এবং হাতে ব্যথা হয়ে থাকে। কয়দিন পর্যন্ত শোয়া থেকে উঠে যায় না। তাই আমি এতো দিন পর্যন্ত পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্ম শেষ করে ফ্রি হয়ে বুস্টার ডোজ নিয়েছি। তবে আমারও একটু একটু জ্বর এবং হাতে ব্যথা লাগতেছে।
জ্বর এবং হাতে ব্যথা সাময়িক হইতো এক দুদিন পরে সেরে যাবে। যাই হোক বুস্টার ডোজ নিতে পেরে এখন ভালোই লাগছে। এতো দিন পর্যন্ত অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অবশেষ বুস্টার ডোজ নেওয়া হলো। এখন আমি চিন্তা মুক্ত হলাম।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি আরো বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করবো , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন । এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।



এত পূর্বে আমার তিনটি ডোজ নেওয়া হয়ে গেছে। আপনি এই রোজ নিয়েছেন এবং তা আমাদের মাঝে তুলে ধরেছেন দেখে বেশ ভালো লাগলো। আমাদের সকলেরই উচিত করোনা টিকা দেওয়া। তবে এ পোস্ট অনেকের জন্য সাহসতা যোগাবে আশা করি।
পোস্টটি দেখে সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
অনেক আগেই করোনার ডোজগুলো আমার কমপ্লিট হয়ে গেছে। যদিও প্রথম দুইবার দেওয়ার পর কোন কিছু কষ্ট বুঝি নাই কিন্তু তৃতীয় ডোজ দেওয়ার সময় আমি অনেকটাই কষ্ট পেয়েছি এবং কয়েকদিন ধরে আমি সে কষ্ট ভোগ করেছি। হাত তুলতে পারিনি। আপনার বুস্টার ডোজ দেওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য।
যাক অবশেষে কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নিয়েছো সেটি অনেক ভালো লাগলো। তবে আমি এখনো পর্যন্ত নেই নাই। দেখি সময় করে গিয়ে কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নিয়ে নেব।
আশা করি তাড়াতাড়ি বুস্টার ডোজ নিয়ে নিবেন ধন্যবাদ ভাইয়া।
আসলে রকির কাছে মেসেজ আসার কথা, কিন্তু এসেছে কিনা সেও জানে না, আমিও জানিনা। তাই বুস্টার ডোজ দেওয়া হলো না।
ভাইয়া, কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার চার মাস পরে বুস্টার নেওয়া যায়। মেসেজ আসুক বা, না আসুক তাতে কোন সমস্যা নাই।
দেখি এখনো সময় করতে পারছি না, যদি সময় করতে পারি রকি সহ গিয়ে দিয়ে আসবো। ধন্যবাদ সাজেস্ট করার জন্য।
আপনি কোভিড ১৯ বুস্টার দিয়েছেন। আমাদের অনেকেই বলল ডোজ গুলো দিলে শরীরের মধ্যে ব্যথা ও জ্বর আসে। এখনো মনে পড়লে করুনার কথা অনেক ভয় লাগে। চারদিকে হইচই এবং লকডাউন এ ও খবর দেখতে পেতাম অনেকগুলো মানুষ মারা গেছে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের উপরের বয়স্ক লোক গুলো আক্রান্ত হলে মারা যাচ্ছে। এবং অনেক গর্ভবতী মহিলাও আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। আপনি বুস্টার দিয়েছেন সুনে ভালই লাগলো। এবং ভ্যাকসিনগুলো দেওয়ার জন্য সবাইকে উৎসাহিত করা অনেক দরকার।
পোস্টটি দেখে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
কোভিড ১৯ বুস্টার ডোজ দিয়েছেন শুনে ভালই লাগলো। আসলে এই ভ্যাকসিনগুলো সবাই দেওয়া অনেক জরুরী। কোভিড ১৯ সময় প্রথমে আমি বিদেশ ছিলাম। ওই সময় আমাদের কোম্পানিতে সবাই আক্রান্ত হয়েছে। আমি আর অন্য একজন লোক আক্রান্ত হয়নি। তবে ১৪ দিনের কোয়ারেনটিং ছিলাম। সেই কথাগুলো মনে পড়লে এখন অনেক ভয় লাগে। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি সচেতন মূলক পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
আমার পোস্টটি পড়ে এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
কোভিডের সেই বিভীষিকা ময় দিন গুলোর কথা মনে করতে চাইনা।সবাই মানসিক ভাবে অনেক আতঙ্কে ছিল।আর রোগীরা শারিরীক ভাবে যতটা না আক্রান্ত হত তার থেকে বেশি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ত।আপনি তৃতীয় ডোজ নিয়ে শরীরকে কোভিড১৯ এর বিরুদ্ধে আরো শক্তিশালী করে নিলেন। আমি অনেক আগেই দিয়ে ফেলেছি।আশা করি জলদি জ্বর কাটিয়ে উঠবেন।ধন্যবাদ আপনার টিকার মুহুর্ত গুলো শেয়ার করার জন্য।
সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
তখনকার সময় এই ঘটনাটা বেশ মর্মান্তিক ছিল। আমার চোখের সামনে দিয়ে এরকম অনেক ব্যাপার ঘটে গেছে তখন।
আপনি যখন বুস্টার ডোজ নিয়েছেন তাহলে একটু জ্বর বা গায়ে ব্যথা হতে পারে। আমার ক্ষেত্রেও এরকমই হয়েছিল।
জি ভাই, আজ দুই দিন জ্বর বা গায়ে ব্যথা হচ্ছে । সুন্দর মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ভাইয়া আপনি কোভিড-১৯ বুস্টার ডোজ নেওয়া অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিস্তারিত তথ্যই উপস্থাপন করলেন। এক পোষ্টেই কোভিড-১৯ এর অনেক তথ্য জেনে গেলাম। আর বুস্টার ডোজ নিলে হালকা জ্বর আর ব্যথা থাকে। ঘাবড়াবেন না। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই, সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।