নাটক রিভিউ : " ঝামেলা আনলিমিটেড" ( ১৯ থেকে ২১ পর্ব )
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম। আজ আমি আপনাদের, নাটক রিভিউ ঝামেলা আনলিমিটেড ১৯ থেকে ২১ পর্ব সম্পর্কে বলতে চাই। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
আসুন শুরু করি
নাটক সসম্পর্কে কিছু তথ্য :-
| নাটকের নাম | "ঝামেলা আনলিমিটেড " |
|---|---|
| পর্ব | ১৯ থেকে ২১ |
| রচনা | আহসান আলমগীর |
| চিত্রনাট্য পরিচালনা | শামীম জামান |
| নির্বাহী প্রযোজক | মোঃ রফিকুল ইসলাম |
| টাইটেল ও সম্পাদনা | মনির সরকার |
| অভিনয়ে | মোশারফ করিম ছদ্মনাম (সোবাহান) , ফজলুর রহমান বাবু (বাতেন), আ.খ.ম হাসান (সবুজ) , ফারুক আহমেদ (মিজান), ওয়াহিদা মল্লিক জলি, সাদিয়া জাহান প্রভা (গোধূলি), সোনিয়া হোসেন, কল্যাণ কুরাইশী, তারেক স্বপন (কপিল), নূরে আলম নয়ন, আমানুর হক হেলার (সেলিম), আকাশ রঞ্জন, ইফফাত তৃষা, শৈলি, এবং মামুনুর রশীদ। |
| গানের কথা | রেজা শানূ |
| সুর এবং সংগীত | যে.কে মজলিস |
| কন্ঠ | সমরজিৎ রায় |
| চিত্রগ্রহণ | মশিউর রহমান, কাউসার রাজিব |
মূল কাহিনী
আজ আপনাদের মাঝে আমি নাটকের ১৯ থেকে ২১ পর্ব উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। নাটকটি হুট করে কয়েকটি পর্ব দেখলে তেমন কিছু বুঝা যাবে না। ধারাবাহিক ভাবে দেখলে বেশ ভালো লাগবে। যারা গত পর্ব গুলো দেখেছেন তারা আজকের পর্ব দেখে বেশ আনন্দ উপভোগ করবেন নিশ্চয়। ১৯ তম প্রথমে দেখা যাচ্ছে সোবাহান কে তার যমজ ভাই অন্যায় পথ থেকে সরে আসার জন্য আহবান করছে। সোবাহান গোধূলিকে মোবাইল ফোন দেওয়ার জন্য তার এক সহযোগীকে বললো। তার সহযোগী চুরি করে একটি মোবাইল ফোন তাকে দিতে । ঐ মোবাইল ফোনটি গোধূলিকে গিফট করবে। কিন্তু সোবাহানের যমজ ভাই সোবাহান কে অন্যায় ভাবে মোবাইল ফোন চুরি করে এনে গোধূলিকে দিতে নিষেধ করেছে।
কারণ তার ভাই বলছে, যেহেতু ভালোবাসা হচ্ছে পবিত্র সম্পর্ক তাই পবিত্র কাজ সৎ ভাবে করাই উত্তম। সোবাহান কে যেন তার সমস্ত অপকর্মের কথা গিয়ে গোধূলিকে বলে দেয় । এই নির্দেশ দিচ্ছে তার যমজ ভাই। সোবাহান গোধূলিকে গিয়ে তার অপকর্ম কথা বলবে কিন্তু সোবহান তার সামনে গিয়ে বলবে বলে বলে নি সেই কথা গোপন করছে। সোবাহান গোধূলি কাছে তার অসৎ কাজের কথা না বলার কারণে তার যমজ ভাই রাগ করে চলে গিয়েছে। যাওয়ার সময় সোবাহান কে বলছে এই পাপ কাজের জন্য তার জীবন বেশ অশান্তিতে থাকবে।
নাটকের তারপরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কফিল বাসা থেকে বের হয়েছে। বাতেন এর চোর দলের সদস্যের মেয়েটি কফিলের সাথে প্রেমের অভিনয় করছে।
মেয়ে টি প্রথমে তাকে নাটকে অভিনয় করতে দেখেছে বলে। টিভিতে দেখে তার বড় ভক্ত হয়েছে বলে তার সাথে কথা বলা আরম্ভ করলো। মেয়েটির নানা ভাবে কপিলকে কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। কফিল প্রথমে তার সাথে কথা বলতে চাই নি। পরে তার কথার ফাঁদে পা দিয়ে তার সাথে কথা বলতে আরম্ভ করলো ।মেয়েটি কফিল কে কৌশলে একটি পার্কে নিয়ে গেলো। সেখানে তাকে নানা ভাবে বুঝিয়ে তার সাথে প্রেম করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছে। কফিল মেয়েটির কথা শুনে তার সাথে প্রেম করতে রাজি হয়ে গেলো।
তারপরে দেখা যাচ্ছে সোবাহান গোধূলির সাথে একটি রুমের মধ্যে কথা বলছে। হঠাৎ করে কফিল এসে তাদের মাঝখানে কথা বলার বিঘ্ন ঘটায়। কফিলকে দেখে সুবাহান খুবই বিরক্ত করলো। সুবাহান তাকে প্রথমে সুন্দর ভাবে এখান থেকে চলে যেতে বলেছে। কিন্তু কফির সোবাহান কে নানা ভাবে উল্টোপাল্টা কথা বলতে লাগলো। যার কারণে সোবাহান এক পর্যায়ে মেজাজ হারিয়ে কফিল কে মারতে লাগলো। কফিল কে যখন সোবাহান মারলো তখন গোধূলি তাকে মারার জন্য নিষেধ করলো। এবং সুবাহান কেন কফিল কে মেরেছে এজন্য সে রাগ করে রুম থেকে চলে গিয়েছে। গোধূলি সোবহানের সামনে থেকে চলে যাওয়ায় সোবাহান বেশ নিরাশ হলো।
তারপর দৃশ্যে দেখা যায় সোনিয়া হোসেনের প্রেমিকা একটি মেয়ের সাথে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে প্রেম করতেছে। মেয়ে টি তাকে একটি গিফট বক্স দিলো। এমন সময় সোনিয়া হোসেন এসে পড়লো তার প্রেমিকের কাছে। প্রেমিকাকে অন্য একটি মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখে সোনিয়া হোসেন খুবই রেগে গেলো। সোনিয়া হোসেন তার প্রেমিকাকে বলতেছে এই মেয়েটিকে কে? কেন তাকে গিফট বক্স দিয়েছে? তখন নানা কৌশলে তার প্রেমিক মিথ্যা কথা বলে তার থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। কিন্তু সোনিয়া হোসেন তার কথা বলার কৌশল শুনে বুঝতে পারলো তার প্রেমিকা তার সাথে মিথ্যা কথা বলতেছে। এই নিয়ে সোনিয়া হোসেন রাগ করে তার প্রেমিকার কাছ থেকে আলাদা হয়ে গেলো।
নাটকের পরের অংশে দেখা যাচ্ছে মিজান, কফিল, হাসান এবং সোবাহান যে বাসায় থাকে অর্থাৎ তাদের খালুদের বাসায় একজন মেয়ে নববধু সেজে এসেছে। প্রথমে মিজান ঐ মেয়েকে জিজ্ঞেস করছে আপনি কে কার বউ? তখন ঐ নববধূ বলে আমি আপনার বউ । এই নিয়ে মিজান এবং ওই মেয়েটির সাথে বেশ ঝামেলার সৃষ্টি হলো। মিজান ঐ মেয়েটির সাথে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে তার খালুকে ডেকে আনতে বাসার দ্বিতীয় তালায় গিয়েছে।
ব্যক্তিগত মতামত
আসলে এই নাটকের প্রতিটি পর্ব বেশ সুন্দর। নাটকের মাঝে বাস্তব কিছু বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকটি বেশ হাসির। আসলে যে নাটকে মোশারফ করিম, আ.খ.ম হাসান, ফারুক আহমেদ অভিনয় করবে সেই নাটকে হাসি থাকবে। নাটকের এই পর্ব দেখে উপলব্ধি করা যায়। অসৎ পথ অবলম্বন করে নিজেকে যে বড় চালাক এবং গুণী লোক মনে করলেও দিন শেষে সেই পরাজয় বরণ করে। যতো বেশি কম কথা বলা যায় ততো বেশি উত্তম। অন্যজনের কথা না বুঝে কথা বললে বিপদে সম্মুখীন হতে হয় তাই এ নাটক দেখলে বুঝা যায়।
সকল ঝামেলার মূল কারণ হলো না বুঝে বেশি কথা বলা। নাটকের প্রতিটি চরিত্র বেশ অসাধারণ।
ব্যক্তিগত রেটিং
৯/১০
নাটকের ভিডিও লিংক
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



https://twitter.com/MdAgim17/status/1699832293895073988?t=dzaZWtpSBzquOvFv0rYrug&s=19
আমার প্রিয় অভিনেতা গুলোর নাটক। মোশারফ করিম এবং ফজলুর রহমান বাবু ও আ.খ.ম হাসান নাটক আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। যদিও আমি এই নাটকটি এখনো দেখিনি। সব প্রিয় শিল্পী গুলোর নাটক একসাথে দেখতে পারলে অনেক ভালো লাগতো। মোটামুটি নাটকের কাহিনী পড়ে বুঝতে পারলাম খুব সুন্দর নাটক। ধন্যবাদ আপনাকে নাটকটি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
মোশারফ করিম আ.খ.ম হাসানের নাটক গুলি সত্যি বেশ দুর্দান্ত হয়ে থাকে। নাটক টি দেখে এত সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ভাই আপনি আজকে খুব চমৎকার একটি নাটক করেছেন। ঝামেলা আনলিমিটেড এই নাটকটি চরম হাসির। নাটকের প্রত্যেকটা অভিনয় গুলো ছিল চমৎকার বিশেষ করে মোশারফ করিম এবং আখম হাসানের। আর বাংলাদেশের নাটকের শিক্ষনীয় বিষয় থাকবে এটা স্বাভাবিক। এই নাটকে বেশ সুন্দর একটি শিক্ষনীয় বিষয় তুলে ধরেছে। ধন্যবাদ ভাই সুন্দর একটি নাটক আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
আপনি ঠিকই বলেছেন, নাটকটি বেশ হাসির নাটকের দৃশ্য গুলোর মাঝে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় অনুভব করা যায়। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যে শেয়ার করার জন্য।
আপনার নাটকের পোস্ট অনেক ভালো লাগলো। মোশারফ করিম এবং আ.খ.ম হাসান হাসান আমার প্রিয় অভিনেতা। যদিও এই নাটক আমি এখনো দেখি নাই। তবে নাটকটির গল্প পড়ে বুঝতে পারতেছি নাটকের কাহিনী অসাধারণ। সত্যি সময় পেলে এই নাটক দেখার চেষ্টা করব। সুন্দর করে নাটকটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
সময় পেলে নিশ্চয় নাটকটি দেখে নেবেন ভাই। সুন্দর অনুভূতি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ভালো লাগার মত একটি নাটক আজকে আপনি আমাদের মাঝে রিভিউ করে শেয়ার করেছেন ভাইজান। আপনার এই চমৎকার নাটক রিভিউ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। খুবই সুন্দর ছিল আপনার নাটক রিভিউ এর ধরন। এত সুন্দরভাবে নাটক রিভিউ করার জন্য ধন্যবাদ।
এত চমৎকার মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
ভাই আপনি আজকে আমাদের মাঝে দারুন একটি নাটক রিভিউ এর মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। আপনার শেয়ার করা নাটকটি দেখতে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।ঝামেলা আনলিমিটেড নাটকটি এখনো আমার দেখা হয়নি তবে চেষ্টা করব খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেখার জন্য। তবে আপনি যদি নাটকটির মুক্তির তারিখ দিতেন তাহলে হয়তো আর একটু বেশি ভালো হতো। ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
নাটক রিভিউ দেখে এত চমৎকার অনুভূতি শেয়ার করে পাশে থাকার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ভাই।
যে নাটকে মোশাররফ করিম আছে সে নাটক অবশ্যই হাসির হতে হবে। অসাধারণ একটি নাটকের রিভিউ দিয়েছেন ভাইয়া। নাটক খুব একটা দেখা হয় না। কিন্তু আপনাদের থেকে মাঝে মাঝে নাটকের সুন্দর সুন্দর রিভিউ দেখে খুব ভালো লাগে। ধন্যবাদ ভাইয়া।
আপনি ঠিকই বলেছেন, মোশারফ করিম মানেই হাসির উৎস। নাটক দেখে এত চমৎকার মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
যে নাটকে মোশাররফ করিম অভিনয় করে সে নাটকে হাসিঁও আসে আনলিমিটেড ভাবে। তার কথার বাচনভঙ্গিই অন্যরকম। নাটকে আরেটি বিষয় ফুটিয়ে তুলা হয়েছে যে কাউকে ঠকিয়ে প্রথম দিকে বেচেঁ গেলেও শেষে গিয়ে ধরা পড়তে হয়। ধন্যবাদ।
আপনি ঠিকই বলেছেন ভাই, কাউকে ঠকিয়ে কখনো নিজে লাভবান হওয়া যায় না। মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।