বিশ্বাস
বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম
আসসালামু আলাইকুম
শ্রদ্ধেয় প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন ? সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আশা করি ভালো আছেন । আমিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে ভালো আছি ।
প্রিয় , আমার বাংলা ব্লগ কমিটির সদস্যরা
আপনাদের মাঝে আবার এসে হাজির হলাম।
আজ আমি আপনাদের, বিশ্বাস নিয়ে কিছু কথা বলব আপনাদের মাঝে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে পুরো পোস্টটি দেখবেন আশা করি।
পৃথিবীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ বিশ্বাস। বিশ্বাস এমন একটি শব্দ যে শব্দটিকে মানুষ বুকে লালন করে। আর সে বিশ্বাস মানুষ মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি থাকে। মা বাবা যেমন করে সন্তানকে বিশ্বাস করে। ভাই বোনকে বিশ্বাস করে, স্বামী স্ত্রী একজন অপরজনকে বিশ্বাস করে, বন্ধুবান্ধব একজন অপরজনকে বিশ্বাস করে। এ বিশ্বাস নিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। আর কারো প্রতি যদি বিশ্বাস ক্ষুন্ন হয় তাহলে তাকে পুনরায় বিশ্বাস করতে অনেক কষ্ট হয়। এজন্য বিশ্বাস ভাঙ্গা একদমই ঠিক নয়।
এজন্য আমি আমার রিলেটিভ সবার সাথে বিশ্বাস বজায় রাখার চেষ্টা করি। যেকোনো পরিস্থিতিতে আমি সবাইকে বিশ্বাস করি। যেভাবে আমি বিশ্বাস করি সবাইকে তেমনি সবাই আমাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে। বর্তমান পৃথিবীতে বিশ্বস্ত মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন। যেকোনো সময় মানুষ একজন অপরজনকে ধোঁকা দিয়ে থাকে। আর প্রতিনিয়ত বিশ্বাস হারায়। মানুষ এই বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে চায় না। খুব সহজেই বিশ্বাস ভেঙে ফেলে। যেমন করে মা-বাবা সন্তানকে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে জীবনের সবটুকু সন্তানের জন্য উজাড় করে দেয়।
আর বড় হওয়ার পর সন্তান যখন স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে মা বাবার বিশ্বাস ভঙ্গ করে চলে যায়, তখন মা বাবা কি নিয়ে বাচা উচিত। সন্তান মা বাবার বিশ্বাসটাকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু কোনভাবেই মা বাবার মর্যাদা দিতে পারে না। তেমনি একটি সময় সন্তানের সন্তানরা ও একইভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। এভাবে প্রতিটা ক্ষেত্রে বিশ্বাস রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস ভাঙ্গা খুবই সহজ। কিন্তু সারা জীবন বিশ্বাস করা এবং নিজেকে বিশ্বস্ততা রাখা খুবই কঠিন।
ছোট একটি বাস্তব গল্প শেয়ার করি আপনাদের সাথে। আসলে বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গা হয় বন্ধু-বান্ধবের ক্ষেত্রে। আমার দেখা মতো দুজন বন্ধু ছিল। একজন অপরজনকে অনেক বেশি বিশ্বাস করত। এমনভাবে বিশ্বাস করত একজন অপরজনের জন্য জীবনটা দিয়ে দেওয়ার মত। যে কোন পরিস্থিতিতে একজন অপরজনের বিপদে এগিয়ে আসতো। একজনের টাকা অপরজনের কাছে থাকতো। দীর্ঘদিন এভাবে থাকার পর যে কোন সময় ছোট্ট একটি ব্যাপার নিয়ে সম্পর্কটা যেভাবে নষ্ট হয় তেমনি একজনের প্রতি একজনের বিশ্বাস তাও নষ্ট হয়।
বিশ্বাস ধরে রাখা খুবই কষ্টকর। অনেক সময় বিশ্বাসের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকে। মাঝে মাঝে একজন অপরজনকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে। কিন্তু তৃতীয় ব্যক্তি এসে মাঝখানে ঝামেলা সৃষ্টি করে। আর সে ঝামেলার জন্য সম্পর্কটাও অবিশ্বাসে পরিণত হয়। কিন্তু আমাদের জীবনে যদি আমরা তৃতীয় ব্যক্তিকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের বন্ধু বান্ধবের প্রতি বিশ্বাস অটুট থাকি তাহলে আমাদের বিশ্বাস কেউ কখনো নষ্ট করতে পারবেনা। আমার দেখা মতে অনেক সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে তৃতীয় ব্যক্তির কারণে।
পোস্টটির কোথায় ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন।
এতক্ষণ আপনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমার পোস্টটি শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।আপনাদের উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা পেলে আমি এই ধরনের ছোট গল্প আরো উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ।
- অন্য সময়ে আবার অন্য কোন বিষয় নিয়ে কথা হবে।সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন, নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিবেন ।এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি।
সবাইকে শুভ রাত্রি
আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।
আপনাদের সকলকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা 💜💙 এবং অভিনন্দন রইলো ।
আমার পরিচিতি
আমি আওলাদ হোসেন আজিম ।আর আমার ইউজার নাম @ah-agim আমি একজন বাংলাদেশী। মাতৃভাষা বাংলায় বলে - আমি খুব গর্বিত। আমার মনে ভাষা বাংলা এর প্রকাশ করতে খুব ভালো লাগে। আমি আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিকে ভালোবাসি। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটির সন্মানীত এডমিন মডারেটর সহ সকল সদস্যদের প্রতি আমার অফুরন্ত ভালোবাসা বিরাজমান। আমি বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে ভালোবাসি। সৃষ্টিকর্তার দেওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আমার কাছে খুব বেশি ভালো লাগে। তাছাড়া আমি বিভিন্ন ধরনের কাগজের ( কারুকাজ ) এবং বিভিন্ন রকমের রান্না ( রেসিপি ) করতে পছন্দ করি। আমি ফটোগ্রাফি করে থাকি। ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে অনেক অনেক বেশি ভালো লাগে।বিশেষ করে সৃষ্টিকর্তার দেওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহ ফটোগ্রাফি করতে আমার কাছে ভালো লাগে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



আপনি একদমই ঠিক বলেছেন। বর্তমানে বিশ্বাস ধরে রাখা একদম কঠিন। মা-বাবা ও সন্তানকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। আর আমাদের সবার মাঝে যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে আমাদের জীবনটা খুবই সুন্দর হতো। কোন সন্তান যদি তার মা বাবার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করে, তাহলে তার সন্তান ও তার সাথে বিশ্বাস রাখবে না, এই কথাটা একদমই সত্য। আপনার লেখাটি পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে।
ঠিক বলেছেন বিশ্বাসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ
বিশ্বাস একবার ভেঙ্গে গেলে আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। দুই বন্ধুর সম্পর্ক একসময় হয়তো অনেক ভালো ছিল। কিন্তু কোন একটি কারণে যখন তাদের মাঝে ঝামেলা হয়েছে তখন দুজনের দুজনার প্রতি বিশ্বাস উঠে গেছে। বিশ্বাস ধরে রাখা সত্যিই অনেক কঠিন। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই হয়তো এই কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। ভাইয়া আপনি দারুন লিখেছেন। অনেক ভালো লাগলো পড়ে।
বিশেষ ভেঙে গেলে তা কাচের গ্লাস এর মত জোড়া রাখতে অনেক কষ্ট হয়। এরপরেও দাগ থেকে যায়। মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।
আমি মনে করি একটা সম্পর্ক সুন্দরভাবে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বাস হচ্ছে যথেষ্ট। যে সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্বাস না থাকে সে সম্পর্ক কখনো সুন্দর হয় না কোন পর্যায়ে। তবে সেই দিকটা দুই পক্ষের মধ্যে যথেষ্ট সচেতনতা থাকতে হবে। আপনি ঠিক বলছেন সম্পর্কই হচ্ছে অনেক ছোট একটা শব্দ হলে ও এর ব্যাপকতা অনেক বড়। অনেক সুন্দর একটি টপিকস নিয়ে আলোচনা করেছেন বেশ ভালো লেগেছে।
একদম ঠিক বলেছেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বাস হচ্ছে যথেষ্ট। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্য করার জন্য।
সত্যি ভাইয়া বিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা শব্দ। আর বিশ্বাস ধরে রাখাও খুব কঠিন। একবার যদি কেউ বিশ্বাস ভেঙে ফেলে তাকে কেন তখন কাউকে আর বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না।খুবই ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার আজকের পোস্টটি।
একদম ঠিক বিশেষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করে পাশে থাকার জন্য।
আপনি ঠিক বলেছেন বিশ্বাস এমন একটি জিনিস ক্ষুদ্র কিছুর কারণে বিশ্বাস ভেঙে গেলে তা আর সহজে ঠিক হয় না। আপনি নিজেই বলেছেন দুইজন বন্ধু একজনকে একজন বিশ্বাস করতেন। সামান্য কিছুর কারণে তাদের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেল। অনেক সময় অনেকে অনেকজনকে বিশ্বাস করে। তবে এই বিশ্বাস অনেকে রাখতে পারেনা। আপনার পোষ্টটি পড়ে সত্যিই অনেক ভালো লাগলো।
বিশ্বাস হারিয়ে গেলে কোনদিনও সামনের দিকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না
বিশ্বাস শব্দটা ছোট কিন্তু এটার উদাহরণ অনেক। আপনি কাউকে বিশ্বাস করেন যদি সে আপনার বিশ্বাস রাখতে পারলে ভালো। আর নষ্ট করে ফেললে সহজে তা আর ঠিক হয় না। যেমন আপনি বললেন দুইজন বন্ধুর কথা। তারা কোনো না কোনো কারণে তাদের বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলেছে। আবার মা বাবা যেমন ছেলে মেয়েকে বিশ্বাস করে। আবার প্রেমিক প্রেমিকাকে যেমন বিশ্বাস করে। বিশ্বাস ধরে রাখা অনেক কষ্টকর কিন্তু নষ্ট করা খুব সহজ। আপনার পোষ্টটি পড়ে সত্যিই অনেক ভালো লাগলো।
আপনার মন্তব্যটি পড়ে অনেক ভালো লেগেছে জামাল ভাই। এভাবে পাশে থাকবেন ধন্যবাদ