আংশিক বাস্তব (পর্ব ৪)

in Incredible India2 years ago (edited)

people-peoples-homeless-male.jpgsrc

পর্ব ১
পর্ব ২
পর্ব ৩

তৃতীয় পর্বের শেষে আজ চার নম্বর পর্ব লিখছি৷ পাঠকের সুবিধার্থে গত পর্বের লিংকগুলো পূর্বের মতোই শুরুতের সংযুক্ত করে দিয়েছি। যাতে নতুন একজন পাঠকেরও বিগত পর্বগুলো খুঁজে পেতে একটুও বেগ পোহাতে না হয়।

চলুন শুরু করা যাক,

ছেলে ইন্টারভিউ বোর্ডে, অপরদিকে বাবা মা রুমে বসে ছেলে ফেরার অপেক্ষায় অপেক্ষমান। তারা ভেবেই নিয়েছে ছেলের চাকরিটা হয়ে গেছে। ছেলে বাসায় ফিরলো, ছেলেকে দেখে বাবা মা খুশিতে আত্মহারা৷ গালে মুখে চমু দিতে দিতে বললেন, কিরে চাকরিটা হলো....? খুশিতে আত্মহারা বাবা মা'কে ছেলে কিভাবে বুঝ দিবে সে চাকরিটা পায় নি...? সে ভাষা হয়তো এই মুহুর্তে সে হারিয়ে ফেলেছে! চুপচাপ, কথা বলছে না, বসে পড়লো চৌকির এক কোণায়৷
pexels-photo-5255996.jpegsrc
আর এদিকে রিক্সা চালক ছাত্রের হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেট খুলে বাবা মা'র দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন মিষ্টি খান৷ তখনো বাবা মা ব্যাপারটা বুঝতে পারেন নি। যখন ঠিক বুঝতে পারলেন আসলই চাকরিটা হয়নি, তখন তারাও রিকশা চালক ছাত্রের ন্যায় শোকাহত হয়ে পড়লেন।

নাটকের পরিচালক রিকশা চালক ছাত্রের চরিত্রকে ভীষণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই নাটকে৷ তিনি যত কষ্টেই থাকেন না কেনো সবকিছুকে তোয়াক্কা করে সব সময় হাসি খুশি থাকার চেষ্টা করেন৷ তার মধ্যে একটুও বিরক্তির ছাপ নেই৷ শোকে কাতর বাবা-মা'কে তিনি বোঝাচ্ছেন, যে এই চাকরি হয়নি, আরেকটা হবে এতে ভেঙে পরার কিছু নেই৷

বড় ছেলে, বাবা, মা, এবং ভাইকে খুঁজে খুঁজে হয়রান।

pexels-photo-13207842 (1).jpegsrc

যে ছেলে বাবা মা বাসায় আসায় তাদের বোঝা মনে করেছিলো, ঠিকমতো তাদের সাথে কথা বলেনি, ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে চলেছে সবসময়, বাবা মা বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর সেই ছেলেই বাবা মা'কে হারিয়ে ক্যামন যেন উন্মাদের মতো হয়ে গেছে৷ তার অফিসের একজন ছোট্ট কর্মচারী কিছুদিন আগে তার কাছে এসেছিল ছুটি নিতে, গ্রামে গিয়ে বাপ মায়ের সাথে দেখা করবে বলে কিন্তু তিনি ছুটি দিতে অমত জানিয়েছিলেন। সেও নাছোরবান্দা, চাকরি থাকুক আর না থাকুক সে গ্রামে যাবেই। বসের মতামতকে তোয়াক্কা না করে সে রাগ করেই চলে গেছে।

pexels-photo-6647030.jpegsrc

বাবা মা'কে হারিয়ে শোকাতুর ছেলের এখন যেকোনো বাবা মা'র প্রতি ভক্তি বেরে গেছে৷ সে সুযোগ পেলেই অন্যের বাবা মা'র খোঁজ নেয়৷ অনেক পর তার অফিসের কর্মচারিকে ফোন করে তার বাবা মা'র খোঁজ খবর নেয়, ভালো মন্দ খাওয়ার জন্য টাকা পাঠায়। অন্যের বাবা মা'র মধ্যে যেন তার নিজের মা বাবার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায় এখন।

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে,

"দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম না বোঝা"। এক লাইনের ছোট্ট একটি প্রবাদ কিন্তু এর ব্যাখ্যা বৃহৎ। আমরা সহজে কিছু পেয়ে গেলে তার মুল্য আমরা কমই দিতে চাই৷ বিপরীতে কষ্টে অর্জিত কোনো কিছু আমরা অতি যত্নে আগলে রাখি৷

আজ এপর্যন্তই। পরবর্তী পর্ব আগামীকাল। সে পর্যন্ত সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

Sort:  
 2 years ago 

প্রথমে বলবো, এত সুন্দর একটি গল্প আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার গল্পটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো! আমি হয়তোবা আপনার গল্পের প্রথম পর্ব গুলো পড়িনি। ইনশাল্লাহ আমি অতি শীঘ্রই পড়বো, আপনার গল্পের প্রথম অংশগুলো পড়ে নিব, ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

Loading...
 2 years ago 

আপনার লেখা যত পড়ছি তত শেষটা পড়ার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে আসলে শেষে কি হয়েছিল এটাই জানার একটা আগ্রহ থাকে একটা কথা কি জানেন তো যখন বাবা মা আমাদের সামনে থাকে তখন আমরা তাদেরকে মূল্যায়ন করি না আমরা তাদের সাথে এমনভাবে আচরণ করি মনে হয় যেন আমরা এই পৃথিবীতে এমনি এমনি চলে এসেছে।

তবে এখানে রিকশাচালক ছাত্রের ভূমিকা অপরিসীম ছিল কেননা তিনি এত সুন্দরভাবে বিষয়টাকে হ্যান্ডেল করলেন যেটা বলে বোঝানো সম্ভব না শেষে কি হয়েছে সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম ভালো থাকবে।।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 65663.26
ETH 1921.85
USDT 1.00
SBD 0.38