গন্তব্য যখন মামা বাড়ি!
Hello Everyone,,,
বিগত একটা পোস্টে আমি বলেছিলাম সোমবার আমাকে মামা বাড়িতে যেতে হবে কারন সেখানে আমার একটা মাসির বিয়ে সেদিন। আজ রবিবার তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
মাও তেমন একটা মামা বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ পায় না। বারবার বলার পরও বাড়ি থেকে কোথাও যেতে চায় না। তাই বরাবরের মতো নিমন্ত্রণ রক্ষা করার দায়িত্ব আমার উপর।
পানখালি থেকে আমার দিদি, আর দাদাবাবুও যাবে । বাড়ি থেকে কয়টায় বেরোতে হবে সেটা সকালে ফোন করে কথা বলে ঠিক করে নিলাম । তারপর আমি স্নান সেরে প্রস্তুত হয়ে নিলাম। আমি বাড়ি থেকে ১১ টা নাগাদ বের হয়ে ছিলাম। তবে রাস্তায় এসে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও গাড়ি পাচ্ছিলাম না। এটাই হলো সব থেকে বড় সমস্যা!
কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর অবশেষে গাড়ি পেলাম। জীবনে একটা সেকেন্ডের যে মূল্য অনেক বেশি সেটার প্রমান আজও পেলাম।
যখন আমি ফেরিঘাটে পৌঁছালাম তার একটু আগেই ফেরি চলে গেলো। তখন দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া উপায় ছিলো না আর মনে মনে ভাবছিলাম ইশ! একটু আগে আসলেই ফেরিতে উঠতে পারতাম। কি আর করার দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম।
নদী পার হয়ে খানিক দুরেই দিদির বাড়ি। তাই হেঁটে চলে গিয়েছিলাম যদিও গাড়ির জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম তবে গাড়ি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে হেঁটে যেতে হলো।
দিদিদের বাড়িতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা না করে সবাই রওনা হলাম মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে। তবে যাওয়ার পথে চালনা বাজারে কিছু কেনাকাটা করতে হবে। তাই সেখানেও ঘন্টা খানেক দেরি হবে।
প্রথমে দাদা বাবু আর আমি গিয়েছিলাম একটা ঘড়ি কিনতে। এত সুন্দর সুন্দর ঘড়ি দেখছিলাম যে সব গুলোই কিনতে ইচ্ছা করছিলো। দাদা বাবু কিনবে তাই তার পছন্দ অনুযায়ী একটা ঘড়ি বাছাই করলাম এবং কিনে নিলাম।
তারপর যাই একটা প্যান্ট কেনার জন্য। দোকানে গিয়ে প্যান্ট পছন্দ করলাম। অন্য দিকে দিদি আর মাসি মা শাড়ির দোকানে শাড়ি পছন্দ করছে। দিদির শাড়ি পছন্দ করতে অনেকটা সময় লেগে গেলো।
যদিও আগে ভেবেছিলাম হয়ত তাড়াতাড়ি সব কেনাকাটা হয়ে যাবে তবে সব কাজ শেষ করতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেলো। ক্রয়কৃত পন্যের মূল্য নিচে উল্লেখ্য করলাম তবে শাড়ির দাম কত নিয়েছিলো সেটা না জানার কারনে উল্লেখ্য করতে পারিনি।
| পন্য | স্টিম মূল্য | বাংলাদেশী মূল্য |
|---|---|---|
| ঘড়ি | 133 স্টিম | ২৫৫০ টাকা |
| প্যান্ট | 47 স্টিম | ৯০০ টাকা |
সব জিনিসপত্র কেনার পর চালনা থেকে রওনা হলাম। ছোটবেলায় যতবারই মামা বাড়ি গিয়েছি নদী পথে ট্রলে করে গিয়েছি তবে এখন অধিকাংশ লোকজন সড়ক পথে যাতায়াত করে তাই মামা বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোনো ট্রল পাওয়া যায় না।
চালনা থেকে মামা বাড়ি পৌঁছাতে দেড় ঘন্টার বেশি সময় লাগবে। অনেকবারই নদী পার হতে হবে আমাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য।
অবশেষে মামা বাড়ি কাছাকাছি চলে আসলাম এবং এবার একটা চার বেরোতে হবে। তবে সত্যি বলতে চার বেরোতে আমার অনেক ভয় লাগে আর তাছাড়া এই চার টা অনেক বড়।
মামার বাড়ির পাশেই বড় নদী। আপনারা মোংলা বন্দরের কথা আশা করি শুনেছে, এখানেই আমার মামা বাড়ি। ছোটবেলায় নদীর পাশে বসে বড় বড় জাহাজ দেখতে অনেক ভালোবাসতাম। প্রায় বছর খানেক পর মামা বাড়িতে আসলাম একটু অনুষ্ঠানে, যদি বিয়ের অনুষ্ঠান না হতো তাহলে হয়ত আসা হতো না!
মামার বাড়ি যাওয়ার মুহূর্ত আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন,, আপনার আম্মা বাড়ি থেকে কোথাও যায় না,, আপনি আপনার আম্মাকে বলেছেন কিন্তু সে যেতে চাইছে না,, যাহোক অবশেষে আপনি যাওয়ার জন্য ঠিক করলেন,, এবং পানখালি আপনার দিদি ও দাদাবাবু যাবে,, তাই বাসা থেকে ফোন করে ঠিক করে নিয়েছিলেন কখন বের হতে হবে।
আসলে ভাই রাস্তায় বের হলে গাড়ির জন্য আমাদের কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয় এটা সব জায়গায়,, এটা ঠিক বলেছেন সময়ের মূল্য অনেক আছে তবে বাস্তবে তো সব সময় সময় মেনটেন করে চলা যায় না।
মামাবাড়িতে যাওয়ার আনন্দ ছোটোবেলায় সবথেকে বেশি অনুভুত হতো আমার। তখন সুযোগ পেলেই মনে হতো মামাবাড়ি যাবো। গ্রীষ্মকালে ছুটিতে মামার বাড়িতে ঘোরার জন্য পাগল হয়ে যেতাম ভাই,তবে বড় হওয়ার সাথে-সাথে কেমন যেন অদৃশ্য দুরত্ব তৈরী হয়েছে। আপনার পোস্টটি পড়ে খুব ভালো লাগলো। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা, এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য।