আমরা সভ্য হবো কবে!
Hello Everyone,,,
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। যদিও গরমের কারনে সারাদিন সকলের ভালো না থাকারই কথা। তবে সূর্যের তেজ কমতেই কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
আজ শরীরটা বেশ খারাপ লাগছে কারন বিগত রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় নি। ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার একমাত্র কারন হলো বিদ্যুৎ । রাতের বেলায় খানিক বাদে বাদে লোডশেডিং হচ্ছিলো আর তখন ঘুম ভেঙে যাচ্ছিলো৷
যদিও এমন টা আগে কখনও হয়নি । আজ রাতেই এতটা লোডশেডিং হচ্ছিলো। জানি না সামনের দিনগুলোতে কি হবে!
একবার লোডশেডিং হলে প্রায় ৩০ - ৪৫ মিনিট কখনও ১ ঘন্টা দেরিতে কারেন্ট আসছে যেটা সত্যি বিরক্তিকর। রাত তখন প্রায় তিনটা বাজে তখন লোডশেডিং হলো এবং প্রায় ৩.৩০ নাগাদ কারেন্ট আসলো।
ততক্ষণ আমি আমাদের কলঘাটে এসে বসে ছিলাম কারন ঘরে টিকতে পারছিলাম না, তাছাড়া আমি গরম একটু সহ্য করতে পারি না।
রাতে ঘুম না হওয়ার কারনে দুপুরে আজ খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে নিলাম। তারপর বিকালবেলা রাস্তায় হাঁটতে যাই। আমাদের বাড়ির পাশে একটা নদী আছে। কয়েক বছর আগেও নদী দিয়ে বড়ো বড়ো জাহাজ চলাচল করতো তবে এখন সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।
নদীর আকার আগের মতো নেই, এখন লাফ দিয়ে নদী পার হওয়া যায়। এর থেকেই বোঝা যায়, সময়ের সাথে সাথে সব কিছু পরিবর্তন হতে পারে তাই নিজের অবস্থান নিয়ে কখনও অহংকার করা উচিত নয়, সময়ের পরিক্রমায় কখনও যে হারিয়ে যাবেন সেটা নিজেও বুঝতে পারবেন না।
যাই হোক, পোস্টে মূল বিষয়ে আসা যাক -
নদীর উপর দিয়ে ব্রিজ হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। প্রায় ৭/৮ বছর আগে এই ছোট্ট ব্রিজটা নির্মাণ হয়েছিলো।
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ব্রিজের এই নাজেহাল অবস্থা। তাহলে একবার ভেবে দেখুন কতটা মানসম্মত জিনিসপত্র দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো এই স্থাপনাটা!
এই ধরনের ব্রিজ তৈরি করার জন্য অবশ্যই ভালো মানের রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয় সব কিছু পরিমান মতো দিয়ে তৈরি না করলে অল্প দিনেই সেটা নষ্ট হয়ে যায়। এই ব্রিজটার ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই।
আসলে আমরা এখন নিজের পকেট ভরতেই ব্যস্ত। আজ কাল কার তথা কথিত জনসেবকরাই জনগনের পয়সা নিজের পকেটে ঢুকানোর সুযোগ খুজতে থাকে সব সময়। ( সবাই হয়ত এক রকম নয়, তাই কেউ গায়ে মাখবেন না)
যে নির্মাণ কাজে হয়ত ১০০ বস্তা সিমেন্টের প্রয়োজন সেখানে ৮০ বস্তা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভ্যাস পুরানো ঐতিহ্য। হয়ত এই ঐতিহ্যের কখনও ভাঙ্গবে না।
সত্যি বলতে, আমরা সাধারণ মানুষও নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংরক্ষণ করতে পারি না। এই যে ব্রিজ এতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার পিছনে আমরাও দায়ী।
কিছু কিছু মানুষকে দেখলাম, ভেঙে যাওয়া রড ধরে টানাটানি করছে। যেটুকু পারছে রড ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে এবং নিজের কাজে ব্যবহার করছে।
অপরাধ বোধ ঘোচাতে, সবার মুখেই একটা কথা -
সবাই তো নিচ্ছে তাহলে আমি নিলে কি এমন ক্ষতি হবে!
তবে একবার চিন্তা করি না যে, সবাই যদি নিজের জায়গা থেকে এসব কাজ থেকে দুরে থাকি তাহলে হয়ত স্থাপনাগুলো আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মাঝে মাঝে ভাবি -
যে পরিমানে গরম পরেছে তার উপর যদি এত বেশি পরিমাণে লোডশেডিং হয় তাহলে সেটা খুবই দূঃখেজনক। প্রায় প্রতিবছরই গরম এর সময়ে সরকার শহরে ও শিল্পাঅঞ্চলগুলোতে কারেন্ট সাপ্লাই ঠিক রেখে গ্রামের দিকে লোডশেডিং এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় ।
মাঝে মাঝে মনে হয় দূর্নীতি বোধকরি আমাদের জাতীগত সমস্যা ।আমরা মুখে মুখে দূর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় বানী আওড়াই অথচ সুযোগ পেলে নিজেরাও একই কাজ করি।নির্বাচিত ও অনির্বাচিত দুইদলই দেখলাম দূর্নীতিতে কেউ কম যায় না।যতদিন আমরা নিজেরা ভালো না হন ,ততদিন এমন চলতেই থাকবে।
মাঝে আপনার সাথে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম অনেকটা গরম পড়ছে এবং এই গরমে সত্যি কারেন্ট চলে গেলে রুমে থাকা অনেক কষ্টকর এবং আমাদের এখানে অবশ্যই কারেন্ট যায় না তবুও মাঝে মধ্যে এতো বেশি গরম পড়ে রুমের মধ্যে থাকতে পারি না।
আপনার বাড়ির পাশের এই ছোট্ট নদীর কথা শুনে ভালো লাগলো তবে এটা একদম ঠিক কথা বলেছেন সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে যায় তাই সব সময় নিজেকে নিয়ে অহংকার করা ঠিক নয় যে নদী দিয়ে একটি সময় জাহাজ চলাচল করত সেটা এখন ধীরে ধীরে ছোট হয়ে গেছে জীবনও ঠিক তেমন একটি সময় ভালো কাটলেও খারাপ জীবনে আসতে সময় লাগে না।