ছবিগুলো পুরানো কিন্তু গ্যালারিটা জীবন্ত!
বর্তমানে দাড়িয়ে জীবনে পার করে আসা সময়গুলো সব থেকে সুন্দর মনে হয়। যত সময় পার হয়ে যায় মানুষ যেন তার জীবনটাকে উপভোগ করতেই ভুলে যায়। একজন মানুষ নিজের জীবনকে সব থেকে বেশি উপভোগ করে তার বাল্যকালে। যত বয়স বাড়ে উপভোগ্য সময়ের পরিমানটা অনেক কমে আসে।
জীবনে অনেক বন্ধু বান্ধব আসে তবে সব থেকে মধুর বন্ধুত্ব তৈরি হয় স্কুল জীবনে। যদিও পরবর্তী ধাপে ধাপে আরও অনেক মানুষের সাথে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব হয় তবে তারা স্কুল জীবনের বন্ধুদের মতো হয় না। স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে আমরা মেলামেশা করতে যতটা সাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং সাবলীলভাবে তাদের সাথে মিশে যেতে পারি সেটা অন্য কারো সাথে সম্ভব নয়।
একটা কথা প্রচল আছে, কলেজ জীবনের বন্ধুত্ব কলেজেই শেষ হয়ে যায় তবে স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব সারাজীবনে ফুরিয়ে যায় না।যদিও এর ব্যতিক্রমও রয়েছে অনেক। সবাই যে যার মতো আলাদা হয়ে যাওয়ার পর যদি সেই বন্ধুদের সাথে হঠাৎ করে দেখা হয় তাহলে সত্যি সেটা অনেক সুখের মুহুর্ত।
বাসার পাশেই যেহেতু শীতলাবাড়ি মন্দির। প্রায়শই বিকালে মন্দিরে যাওয়া হতো। তেমনই একদিন মন্দিরে গিয়ে কয়েকজন বন্ধুদের সাথে দেখা হয়েছিলো। ছবিটা দুই বছর আগেরকার। তখন সবাই মিলে একসাথে মন্দিরে অনেকটা সময় পার করেছিলাম।
আগে যখন যা ইচ্ছা করতো বন্ধুরা মিলে সেটাই করতাম তবে এখন আর সেটা হয়ে ওঠে না সব সময়। এখন কাউকে ফোন দিলেও আগের মতো এক জায়গায় হওয়ার সময় বের করতে পারে না সবাই। যে যার ব্যক্তিগত কারনে ব্যস্ত থাকে। বন্ধুত্বের সম্পর্কে সময় না দিলেও হয়ত বন্ধুত্ব টিকে থাকবে তবে বন্ধুত্বের মুহুর্তগুলো উপভোগ করা সম্ভব হবে না।
রাত তখন প্রায় ৩ টা। বাসার সকলের চা খাওয়ার ইচ্ছা হলো। তবে সেটা বাসায় বানিয়ে খেলে হবে না, যেতে হবে দোকানে। খুলনার সাতরাস্তা মোড়ে সারারাত চায়ের দোকান খোলা থাকে। সকলে বললো যে ওখানেই যেতে হবে।
যে কথা সেই কাজ! বাইরে প্রচন্ড শীত তারপরও সবাই বেরিয়ে পড়লাম। বাসা থেকে সাতরাস্তা হেটে যেতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে। এত রাতেও চায়ের দোকানে প্রচুর ভীড় ছিলো। সবাই মিলে চা খাওয়া শেষ করলাম।
তবে বিপত্তি বাঁধে বাসায় আসার সময়। মাঝরাস্তায় পুলিশের সাথে দেখা হয় এবং আমাদের কাছে নানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। আমরা সঠিক উওর দেই এবং আমরা যেহেতু কোনো অন্যায় করে নি তাই আমাদের ছেড়ে দেয়।
পুলিশের কাছে জানতে পারলাম, পাশেই নাকি মারামারি হয়েছে তাই পুলিশ টহল দিচ্ছে আর একারনেই রাস্তায় বেশি ঘোরাঘুরি না করে বাসায় চলে আসার পরামর্শ দেয়। যাই হোক, আমাদের কাজ তো শেষ তাই সরাসরি বাসায় চলে আসছিলাম।
এই ছবিটা কোনো একটা ভালোবাসা দিবসের ছবি। এদিন সবাই যে যার মতো ঘুরতে যায়। আমরাও কয়েকজন বন্ধুরা মিলে জাতিসংঘ শিশু পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেদিন চারজন বন্ধু মিলে বাইরে ঘোরাঘুরি এবং খাওয়া- দাওয়া করে সুন্দর মুহুর্ত পার করেছিলাম।
অনেক দিন হয়ে গিয়েছে, এই বন্ধুগুলোকে আর আগের মতো পাই না। তাদের সাথে আগের মতো করে সময় কাটাতে পারি না। তাই মোবাইলের ছবিগুলো যখন দেখি তখন আগের মুহুর্তগুলো খুব মনে পড়ে। কত আনন্দেই না দিন পার করতাম। অতীত সব সময়ই সুন্দর হয়! তাই তো বললাম, ছবিগুলো হয়ত অনেক পুরানো তবে ফোনের গ্যালিরা এখন জীবন্ত!
ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা সোনালী অতীত উপহার দেওয়ার জন্য।
বাল্যকালের আনন্দটা হারিয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ অনেক থাকে, তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে ক্যারিয়ারের পিছনে ছোটার কারণে আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়।
স্কুল লাইফটা বেশি সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং সেই সময় মন মানসিকতা কোমল থাকে, তাই সময়টা উপভোগ করার মত।
বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়, দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে তাই ভালো দুরন্ত সময় টুকু কখনোই আর ফিরে আসে না।
সময়ের সাথে সাথে আমাদের কাঁধে দায়িত্ব বাড়তে থাকে। নিকের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে ভাবার সময় আসে আর একারনে এখন ইচ্ছে করলেও আগের মতো সময় পার করা সম্ভব হয় না বন্ধুদের সাথে। স্কুল জীবনে সব থেকে বেশি সময় পার করা হয় বন্ধুদের সাথে সেটা জীবনের সোনালী মুহুর্ত।
আপনার পোস্ট পড়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সেই মধুময় স্মৃতি গুলো মনে পড়ে গেল, এখন ইচ্ছে করে যদি আবার সেই সময়টা ফিরে পেতাম, এবং বন্ধুদের সাথে সেই আনন্দ মুহূর্তগুলো যদি কাটাতে পারতাম, এই সময়গুলোকে অনেক বেশি মিস করি, অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।