অনেক দিন পর ফটোগ্রাফি করলাম!
সকাল প্রায় ৮ টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠলাম। রাতে ঘুম ভালো হচ্ছে না কেন জানি। মাথার ভিতর নানা বিষয় নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। আগে ভাবতাম চিন্তার সাথে ঘুম না হওয়ার কি সম্পর্ক। তবে এখন বুঝতে পারছি যে মাথার ভিতর টেনশন থাকলে ঘুম হয় না৷
সকালে ফ্রেশ হয়ে কিছু সময় বাড়িতে কাজ করলাম। অবশেষে বৃষ্টি কিছু দিনের জন্য বিদায় নিয়েছে। রোদের কারনে পথ-ঘাট অনেকটাই শুকিয়ে গিয়েছে। প্রকৃতি আমাদের সব কিছুর যোগান দেয়। রোদ বৃষ্টি সবেরই প্রয়োজন রয়েছে আমাদের।
সকালের খাবার খাওয়া শেষ করেছি ঠিক তখনই লোডশেডিং দেখা দিলো। বাড়িতে যে পরিমাণ গরম সেটা সহ্য করা যাচ্ছিলো না। প্রকৃতির শীতল বাতাসও বইছিলো না। তাই উপায় না পেয়ে রাস্তায় গিয়েছিলাম। রাস্তাটা গাছপালায় ঘেরা ছিলো তাই গরম তুলনামূলক অনেক কম ছিলো।
হেটে যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ফুলের উপর চোখ পড়লো। প্রথমে আমি খেয়াল করি নি, কিছুদুর সামনের দিকে হেঁটে যাওয়ার পর মাথায় আসলো যে কি যেন একটা দেখলাম। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখলাম লাল রং এর দুইটা ফুল ফুটেছে।
এটা আমার পরিচিত একটা রাস্তা। প্রতিদিনই কয়েকবার যাওয়া আসা করি এই রাস্তা দিয়ে তবে আগে তো একবারও চোখে পড়েনি। এত সুন্দর ফুলগুলো কিভাবে এতদিন আমার চোখ এড়িয়ে গেলো সেটাই ভাবছিলাম।
তারপর ভাবলাম,,
তাহলে কি আজই নতুন ফুল ফুটেছে? না! সেটা তো নয় কারন গাছের নিচে বিগত দিনের ঝরে যাওয়া ফুল পড়ে রয়েছে। যদি আজই প্রথম ফুল ফুটতো তাহলে তো ঝরে যাওয়া ফুলের দেখা পেতাম না!
কবে ফুল ফুটেছে সেটা বিষয় নয়, বিষয়টা হলো ফুল গাছের নাম টা কি? ফুলের নাম জানা তো দুরের কথা এই ফুলটা আমি আগে কখনও দেখিনি! তবে সেকারনে তো আর ফটোগ্রাফি করতে মানা নেই। ঝটপট কয়েকটা ফটোগ্রাফি করে নিলাম।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখে নিলাম কেউ আছে কিনা কারন এই ফটোগ্রাফি করতে গেলে অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনতে হয়। ফোন হাতে দেখলেই অনেকে বলতে শুরু করে-
আজকালকার ছেলেমেয়েরা ফোন ছাড়া একমুহূর্ত চলতে পারে না।
তারা আসলে বোঝে না যে যেকোনো জিনিসের ভালো ও মন্দ দুটি দিক রয়েছে। কে ভালো কাজে ব্যবহার করছে আর কে মন্দ কাজে সেটুকু যাচাই করার সময় আদৌও কারো নেই।
যাই হোক, সবুজ পাতা, ডালপালা নেই বললেই চলে আর সাথে লাল রং এর ছোট ছোট ফুল, সত্যি অসাধারণ লাগছিলো। দুইটা ফুল দুদিকে মুখ করে ছিলো, মনে হচ্ছিলো যেন তারা একে অপরের সাথে তুমুল ঝগড়া করেছে এবং কেউ কারো মুখ দেখতে চায় না এজন্য দুজন দুজনের বিপরীত মুখি হয়ে আছে!
ফুলের নতুন কুড়িগুলো যেন সৌন্দর্য্যটা আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। লাল ফুলের মাঝ দিয়ে হালকা হলুদ রং এর শীষ বেরিয়েছে যেটা হয়ত মধু সংগ্রহের জন্য মৌমাছিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে!
প্রকৃতির প্রতিটা উপাদান আমাকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করে সেই সাথে অবাক ও মুগ্ধ দুটোই হয়ে থাকি। অনেক দিন পর ফটোগ্রাফি শেয়ার করলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে!
বরাবরের মতো আপনার ফটোগ্রাফি গুলো ডিএসসেল ক্যামেরার মত সুন্দর হয়েছে। আমি এর আগেও আপনার ফটোকপি পোস্ট দেখেছি।
এই ফুলের নাম আমারও জানা নাই তবে এই ফুলগুলো শীতের আগ মুহূর্তে খুঁজে থাকে দেখতে ভারী সুন্দর লাল টকটকে এই ফুলগুলো।। ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ খুব সুন্দর ফুলের ফটোগ্রাফি আমাদের কাছে উপস্থাপনা করার জন্য ভালো থাকবেন।
আসলে এই ফুলের নামটা আমি নিজেও জানি না। আমাদের রাস্তার পাশেই ফুটেছিলো তবে আমি এতদিন দেখতে পাইনি। তাই আজ যখন চোখে পড়লো সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার না করে পারলাম না। আপনার কাছে আমার ফটোগ্রাফি ভালো লাগে এটা জেনে খুশি হলাম।