অদ্ভুত শাস্তির স্মৃতি!
বাবা মা শিক্ষার হাতে খড়ি দেওয়ার পর থেকে শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ গ্রহণ শুরু করি। এই সময়টা শুধু শিক্ষা গ্রহণ হয় না তার পাশাপাশি জীবনের সব থেকে দুষ্টামির সময়টাও পার করি।
আমরা যখন ছোটো ছিলাম তখন বাড়িতেই আমাদের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। সেটা হোক নৈতিকতার শিক্ষা অথবা পুঁথিগত বিদ্যা, দুটোই আমরা মা বাবার কাছ থেকে প্রথম পাঠ গ্রহণ করে থাকি।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগে আমাদের সময়ে পাঠশালায় পড়তে হতো।
আমাদের সময়ে কেন বললাম?
- তার কারন এখনকার সময়ে পাঠশালা চোখেই পড়ে না। কিছু কিছু বিষয় খুব মনে পড়ে।
যখন পাঠশালায় পড়তাম তখন সকাল ৮ টার মধ্যে পাঠশালায় পৌঁছাতে হতো এবং ১২ টায় ছুটি হতো।
প্রতিদিন ছুটি হওয়ার আগে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে শতকে, ব্যঞ্জণবর্ণ, স্বর বর্ণ পড়ানো হতো। এভাবে পড়ানোকে ডাক পড়ানো বলে। সবাই দাঁড়িয়ে জোরে জোরে এক সাথে ডাক পড়ার মজাই ছিলো অন্য রকম।
এখানে সবাই নিজের গলার যতো জোর আছে সর্বোচ্চটা দিয়ে পড়তো। পাড়ার অন্য প্রান্ত থেকে ডাক পড়ার আওয়াজ শোনা যেতো।
তবে এখন কি কোথাও ডাক পড়ানোর আওয়াজ পাওয়া যায়?
পাঠশালাই তো নেই! তবে অনেক জায়গায় পাঠশালা থাকলেও ডাক পড়ানো হয় না।
আমার বয়স ও অভিজ্ঞতা হয়ত আপনাদের তুলনায় অনেক কম। তবে আমার এই ক'দিনের জীবনযাত্রায় যেসব রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে ছোটবেলা পার করেছি তার কিছুই দেখতে পাই না এখন!
ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়েছেন কখনও?
আমি কিন্তু দাঁড়িয়েছি।
তবে কান ধরে দাঁড়ানোর শাস্তি যতটা না পেয়েছি পড়া না পারার কারনে তার থেকেও বেশি শাস্তি পেয়েছি দুষ্টামি করার কারনে।
ছোটবেলার দুষ্টামির গল্প বলে হয়ত শেষ করা যাবে না। একবার তো এমন হয়েছিলো যে, সকলকে হাতে ইট নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলো। তাহলে গল্পটা শেয়ার করি -
যখন আমি প্রাইমারিতে পড়তাম, মানে পড়ালেখার যাত্রা সবে মাত্র শুরু আর কি!
তখন প্রতিদিন সকালে স্যারের বাড়িতে পড়তে যেতাম। একদিন পড়তে না গেলেই পরদিন বকা শুনতে হতো। তাছাড়া আমি কোনো দিন অযুহাত দিয়ে পড়া বন্ধ করতে পারিনি আমার বাবার জন্য। বাবার একটাই কথা, যতযাই হোক না কেন পড়া বন্ধ দেওয়া যাবে না।
সকালে যে স্যারের কাছে পড়তে যেতাম সে আমাদের স্কুলে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার পাশাপাশি সে গবাদিপশুর ডাক্তারও ছিলেন। তাই অনেক সময় পড়ানোর মধ্যে ডাক্তারি করতে যেতে হতো।
তেমনই একদিন আমাদের পড়াচ্ছেন, তখন ফোন আসে কার নাকি গরু অসুস্থ হয়েছে এবং এখনই যেতে হবে। আমাদের কয়েকটা অংক করতে দিয়ে স্যার চলে যায়। যদিও খুব দ্রুত চলে আসতেন।
আমরা সুন্দর মতো অংকগুলো করেছি, তবে অনেক সময় হয়ে যাচ্ছে তারপরও স্যার আসছে না। তখন সবাই মিলে একটু একটু করে দুষ্টামি করতে শুরু করলাম।
স্যারের স্ত্রী বাড়িতে ছিলো এবং আমাদের বকা দিচ্ছিলো তবে একটু পরই আমরা আবারও দুষ্টামি করছিলাম।
এরই মাঝে স্যার হঠাৎ করে এসে দেখে এই অবস্থা। স্যারের ভীষণ রাগ ছিলো আর তাছাড়াও স্যারের স্ত্রী আরও বেশি উসকে দিয়েছিলো। স্যার তো রেগে আগুন, তখন আমাদের সকলকে উঠানে দাঁড় করিয়ে হাতে ইট তুলে দিলো।
সে দিনকার অনুভূতি আজও মনে আছে। এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলো আস্তে আস্তে শেয়ার করবো। তবে সত্যি বলতে, ছোটবেলার শিক্ষা জীবনটা অনেক বেশি নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ ছিলো। তবে এখন কার বাচ্চাদের মধ্যে তেমনটা দেখি না।
ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে কান ধরে দাঁড়ায় নাই এমন মানুষের সংখ্যা ০০০১ % আমার তো প্রায় কান ধরে দাঁড়াতে হতো আমি ইংলিশ খুব বেশি পারতাম না ছোটবেলা থেকেই ইংলিশের প্রতি দুর্বল।
পাঠশালা বলতে বুঝি নাই আমার মনে হয় ব্র্যাক স্কুলের কথা বলছেন ব্রাক স্কুল গুলো প্রত্যেক গ্রামে একটি করে থাকতো আমাদের গ্রামে দুই বছর চলছিল তারপর সেটা বন্ধ হয়ে যায় কেননা আমাদের গ্রামে প্রাইমারি স্কুল রয়েছে সব বাচ্চারা সেখানে যেত বিস্কুটের লোভে।
ব্যাক স্কুল গুলোতে পড়াশোনা খুবই ভালো হতো বিশেষ করে হাতে লেখা অনেক সুন্দর হতো আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ পুরাতন কিছু স্মৃতি এবং অনুভূতিগুলো আমাদের মাঝে উপস্থাপনা করার জন্য ভালো থাকবেন।