আইবুড়ো ভাতের উপলক্ষে কাটানো একটা ভালো দিন
প্রিয়,
বন্ধুরা,
আশা করি আপনারা কুশল এবং মঙ্গলে আছেন। আর আজকের দিনটা খুব সুন্দর কাটিয়েছেন।
আজকে আমার দিনটা কেমন কাটলো সেটাই আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আমার বান্ধবী সোমাকে তো আপনারা সকলেই চেনেন। আজ সোমার দিদির মেয়ের আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান ছিল।
বাঙালির বিয়ের অনেকগুলি অনুষ্ঠানে মধ্যে বলা যেতে পারে যে প্রথম ও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হলো আইবুড়ো ভাত। আইবুড়ো ভাত কথার অর্থ হল অবিবাহিত। এই অনুষ্ঠানের অর্থ হল বিয়ের আগে অবিবাহিত অবস্থায় শেষ খাওয়া।
মেয়েদের ক্ষেত্রে এটি তার বাপের বাড়িতে শেষ আনুষ্ঠানিক খাওয়া। ভাত যেহেতু আমাদের বাঙালিদের প্রধান খাবার,তাই বিয়ের ক্ষেত্রে খাওয়া দাওয়া অনুষ্ঠানটি প্রধআনত ভাত কেন্দ্রিক। বিয়ের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই আত্মীয় স্বজনদের ও পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে এই খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠান চলতে থাকে।
এবং নিয়ম অনুসারে নিজের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খাওয়ার পর আর বাড়ির বাইরের কিছু খেতে নেই বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত।
আমাদের বাড়িতে যে কোনো অনুষ্ঠানে সোমাকে আসতে বলা হয়। আমারা ছোটো থেকে এক সাথে বড়ো হয়েছি এবং আমাদের বাবারাও বন্ধু, তাই আমাদের সম্পর্কটা পরিবারের থেকে কিছু কম না।
আমাদের বাড়িতে কিছু ভালো রান্না করলেই সোমাকে আসতে বলে মা নিজেই। আর সোমা আমার মায়ের হাতের রান্না খেতে খুব পছন্দ করে। মায়ের হাতের আচার ওর সব থেকে প্রিয়।
যাইহোক আজ সোমার ভাগ্নি আইবুড়ো ভাতের অনুষ্ঠান ছিল, ওর নাম পূজা সরকার। খুব মিষ্টি আর খুব শান্ত একটা মেয়ে। পূজা খুব হাসিখুশি। ও যখনই হাবড়ার আসে সোমাকে আগে জিজ্ঞাসা করে, শ্বেতা মাসিকে আসবে তো? পূজা আমাকে খুব পছন্দ করে।
পূজার খুব একটা বয়স না, এই সবেমাত্র ১৯বছর বয়স। ওরা দুই বোন। ওর মা বাবা ভালো সমন্ধ দেখে বিয়ে দিচ্ছে। পূজা এখন কলেজে পড়াশোনা করেছে।পূজার হবু বর কন্ট্রাক্টে রঙের কাজ করায়।
আজ সোমা পূজার আইবুড়ো ভাতের অনেক আয়োজন করেছিল। অনেক ধরনের রান্না করেছিল। এবং অনেক ধরনের খাবার দিয়েছিল।
আজ মেনুতে ছিল ফ্রাইড রাইস, মুরগির মাংস, পোলাও, কাতলা কালিয়া, ভেজ ডাল, চিংড়ি মাছের ঝাল, চাটনি, পাপড়, পায়েস, আর পাঁচ রকমের ভাজা। এতসব রান্না করেছিল সোমা একা হাতে। আর আমার সবাই ওকে একটু সাহায্য করে দিয়েছিলাম।আর মিষ্টি আর দই আছেই। আর কিছু চকলেট আর বিভিন্ন ধরনের খাবার।
এরপর পূজাকে খেতে দিয়ে আমারা সবাই ও খেতে বসলাম। সোমা খুব ভালো রান্না করেছিল। বিশেষ করে পোলাও আর মাংস। শেষে এত খাবার খেতেই পারেনি পূজা। অনেক কষ্ঠে খাওয়া হল। অনেক ছবি তোলা হয়েছে। তারপর খাওয়া দাওয়া পর একটু আড্ডা ও গল্প করে বাড়ির দিকে আসলাম।মোটামুটি আজ দিনটা আমার খুব ভালো কেটেছে।
তাহলে আজ এখানেই ইতি টানলাম। আপনার সকলেই ভালো থাকবেন।
শুভ রাএি।
আনন্দের পাশাপাশি নিজের কাজটাকে ও সমান গুরুত্ব দিতে শিখুন, কারণ সেটাই আপনার আসল ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে।
@sduttaskitchen করবো ম্যাম।
এটা ঠিক বলেছেন দিদি ❤️❤️
এই দিনগুলোতে যতটা আনন্দ হয় ততটাই কষ্ট হয় একটা মেয়ের কারণ এতো বছরের সব ছেড়ে একটা নতুন জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।এই ছবি গুলো দেখে আমার আইবুড়ো ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়ে গেলো।দিদি আপনার সাজানোটা ভালো হয়েছে।
@sanchita96 ধন্যবাদ দিদি এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
Congratulations! This post has been upvoted through steemcurator06. We support quality posts, and good comments anywhere, and with any tags.
অসংখ্য ধন্যবাদ @steemcurator06 এবং@cryptogecko আপনাকে।
বাহ্ সাজানো, রান্নাবান্না সবটা মিলিয়ে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে তোমাদের অনুষ্ঠান। ভালো লাগলো তোমাদের দেখে। সোমার ভাগ্নির জন্য শুভকামনা রইল।
@baishakhi88 ধন্যবাদ দিদি
দেখে মনে হচ্ছে অনুষ্ঠানের আয়োজন অনেক ভাল ছিল। পরিবারের সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্তগুলো অসাধারণ হয়ে থাকে। ধন্যবাদ ও শুভকামনা রইল।
@rabibulhasan71 ধন্যবাদ এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
ভালো থাকবেন।
স্বাগতম আপনাকে
তুমিও বসে পড়তে পারতে আর এখনও দেরি হয় নি, বসে পড় বিয়ের পিড়িতে। হাহাহা।
@pulook না স্যার আমার এখনো দেরি আছে।
অনেক ভালো লাগলো দিদি আপনার পোস্ট টি পড়ে ❤️❤️
@farhan456 ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর মন্তব্য করার জন্য।
জি দিদি❤️❤️😇