প্রতিমার সাজ
নমস্কার বন্ধুরা, আপনারা সকলে কেমন আছেন? আশা করি ভালোই আছেন। আমিও ভালো আছি। আজ আপনাদের জন্য একটি অন্যরকম পোস্ট আমি লিখতে চলেছি ।এটি এক ধরনের উদ্ভাবনি হাতের কাজের কারিগরি দক্ষতার উপরে। এই পোস্টটি একটু অন্য পোস্টের থেকে আলাদা রকমই হতে চলেছে। কেউ কেউ যদি চান এটি দেখে এবং এটিকে ভালো করে যাচাই করে নিয়ে আপনারা নিজেরাও কিন্তু এই ধরনের কারিগরি দক্ষতায় সাবলীল হতে পারেন। এই পোস্টটি আমি কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা সাজসজ্জা কি কি উপাদান দ্বারা নির্মিত হয় তার উপরই মূলত ।
কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পূজা যেমন বিখ্যাত ।কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প বিখ্যাত হওয়ার জন্য প্রতিমা গুলিও যেমন বিখ্যাত। তেমনি এক একটি প্রতিমার সাজ কিন্তু বিখ্যাত। কারণ প্রতিমাকে যে সাজ গুলি পড়ানো হয় ।সেগুলি সাজ শিল্পীরা অত্যন্ত নিপুণ দক্ষতার সাথে বিভিন্ন রকমের উপাদান দিয়ে তৈরি করে থাকেন ।এগুলোকে দেখতেও যেমন সুন্দর, তেমনি এগুলো দিয়ে নির্মিত সাজ প্রতিমাকে যখন পড়ানো হয় তখন প্রতিটি প্রতিমাকে অপরূপ সুন্দর লাগে। দেখে তো চোখ দাঁড়িয়ে যায় এবং মনের মধ্যে একটি বিস্ময়কর ভাবনা জাগে যে কিভাবে এমন একটি সাজ কেউ নির্মাণ করল। এই সাজ গুলি বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয় ।সেগুলি সম্পর্কে আমি নিম্নে একেকটি প্রতিমার সাজের ছবি সহ আমি বিস্তারিত একটু আলোচনা করলাম
প্রথম সাজ হচ্ছে শোলার সাজ। এই সাজটি মূলত তৈরি করা হয় শোলা দিয়ে ।এই সাজ গুলি প্রথমে একটি ড্রয়িং সিটে ছবি এঁকে নেওয়া হয়। যেমন মাথার মুকুটে মাপ অনুযায়ী মাথার মুকুটের ছবি এঁকে নেওয়া হয় ।কানের দুল দিয়ে সাজানোর জন্য কানপাশা একে নেওয়া হয়। বক্ষ সাজ সেই রকম নকশা করে নেওয়া হয় ।যেমনটা সেখানে মানাবে ঘাড় থেকে পা পর্যন্ত ডান এবং বাম পাশ দিয়ে দুটি সাজ নামানো হয়। তাকে বলা হয় আঁচল এবং চালচিত্রটি সুন্দর করে সাজাবার জন্য বিভিন্ন রকমের কলকা চিত্র অঙ্কন করা হয়। এছাড়াও প্রতিমার হাত পা গলা কোমর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গহনা অলংকারের জন্য বিভিন্ন রকম ড্রয়িং করা হয়। সেই ড্রয়িং অনুযায়ী স্থান বিশেষে শোলা কেটে কেটে বিভিন্ন রকমের নকশা অনুযায়ী সেগুলিকে বসানো হয়। এর ফলে তখন সাজটি পুরোপুরি ভাবে তৈরি হয়ে যায় এবং প্রতিমাকে পড়ানো হয় তখন অপূর্ব দেখতে লাগে। আসলে সাদা জিনিসের একটি মাধুর্য আলাদা বিশেষ করে সাদা রঙের সাজে আর সোলার রঙ তো সাদা হয়। যার জন্য যেকোনো প্রতিমা কি এই সাজে সাজালে অপূর্ব লাগে ।
এরপরে আসি বোলেনের সাজ ।এই সাজটি বিভিন্ন রকম বোলেনের জরি এবং দরা ও বিভিন্ন রকম রংবেরঙের চুমকি দিয়ে সাজানো হয় ।একইভাবে কাগজের উপর নকশা কেটে তার উপর সাজে জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন রকম রংয়ের অভ্র ব্যবহার করা হয় ।এই সাজের কোন নির্দিষ্ট রং হয় না। বিভিন্ন রং বেরঙের জিনিসপত্র ব্যবহার করার ফলে এই সাহায্যে রঙিন হয় যার ফলে মাকে এই সাজটিও পড়ালে মাকে অপরূপ সুন্দর লাগে। তবে এই সাজে একটি অন্যরকম হাতের কাজের মুকুটও বিভিন্ন প্রতিমাকে পড়ানো হয়ে থাকে, যেমন সেটি হল তারের মুকুট। এই তারের মুকুট আবার তার বিভিন্ন ছোট বড় আকারে কেটে বিভিন্নভাবে তার সাথে আরো অন্যান্য কিছু উপাদান সামগ্রী ব্যবহার করে বানানো হয় ।এই বিশাল বিশাল তারের মুকুটগুলি দেখতে যেমন সুন্দর হয় তেমনি এতে আলো পড়লে ভীষণ চকচক করে, সামনের দিকে ঝুলে থাকা এই তারের মুকুটটি যে কোন প্রতিমা মাথাতে শোভা পেলেই তার অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে ।
এর পরে আসি বনগাঁ বাসির সাজ। এই বনগাঁ বাসির সাজ ।পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ নামক জেলায় তৈরি হয়। তাই জন্যই মূলত এই সাজটির নাম বনগাঁ বাসির সাজ। এই সাজ টি ও মূলত শোলা দিয়েই তৈরি হয়। তবে এদের কাগজের ব্যবহার বিপুল পরিমাণে করা হয় ও এরই সাথে বিভিন্ন রকমের চুমকি ও রং বেরঙের কাগজের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রতিমা সাজালে প্রতিমাকে অপূর্ব সুন্দর লাগে ।
তবে আজকাল কৃষ্ণনগরে এক ধরনের সাজের বাহার উঠেছে। যেমন সেটি হল বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে একটু আনকমন সাজ যেমন আমি একটি প্রতিমা চিত্র আপনাদের সঙ্গে তুলে ধরলাম এই প্রতিমাটির সাজটি কিন্তু তৈরি হয়েছে আইসক্রিমের কাঠের চামচ, বাঁশ পাতা, পাটকাঠি , বাঁশের বেত ইত্যাদি জিনিসপত্র দিয়ে। তবে এই প্রতিমা টি দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে ।
সবশেষে একটি কথা না বললেই পারছিনা ।সেটি হল কৃষ্ণনগরের প্রতিমা শিল্পীদের একটি নিজস্বতা আছে। তাই কৃষ্ণনগরে প্রতিমা শিল্পীরা প্রতিমার সাজ মাটিরও তৈরি করছেন। যেমন এই প্রতিমা চিত্রটিতে আপনারা লক্ষ্য করবেন যে প্রতিমার সাজ গহনা গুলি কিন্তু পুরোটাই মাটির তৈরি এমনকি প্রতিমার পরনের কাপড় ও।
তবে এই হরেক রকমের প্রতিমার সাজ তৈরি করেই কিন্তু সাজ শিল্পীদের সংসার পরিবার এবং জীবিকার নির্বাহ হচ্ছে। শুধুমাত্র এই সাজ শিল্পকলার পারদর্শিতা অর্জন করেই তারা দিনের পর দিন নিজেদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালিত করছেন ।সুতরাং এদেরকে সম্মান জানা প্রার্থনা। যাইহোক এখানে আজকের মত আমি শেষ করছি। আশা করি হয়তো আপনাদের এই পোস্টটি ভালো লেগেছে। আপনারা যে যার মত কমেন্টে জানাবেন ।সকলে ভালো থাকবেন ।অন্যদেরকে ভালো রাখবেন ।ধন্যবাদ।
একটি মূর্তি তৈরি করতে একটা শিল্পীদের অনেক কাজ করে হয় আর অনেক চিন্তাভাবনা করে একটি মূর্তি তৈরি করতে হয়। যা এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনার অনেক সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন।