এক্সাম দিতে শিলিগুড়ি - প্রথম পর্ব
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব শিলিগুড়ি যাওয়া নিয়ে।
আমার একটা এক্সামের সিট পড়েছিল শিলিগুড়ি। তবে শুধু আমার না, আমাদের এখান থেকে আমার আর আমার বান্ধবী বিদীপ্তারও এক্সাম পড়েছিল শিলিগুড়িতে। এক্সাম আমাদের সকালে ছিল। রিপোর্টিং টাইম ছিল 7:30am তাই আমরা ঠিক করলাম আগের দিন শিলিগুড়ি গিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে থাকবো, তাহলে এক্সাম দিতে সুবিধা হবে।
আমাদের বাড়ি থেকে শিলিগুড়ি যেতে বেশ অনেকক্ষণ সময় লাগে, তাই আমরা এক্সামের আগের দিন সকাল সকাল বেরিয়ে পরলাম যাওয়ার জন্য।
রায়গঞ্জ থেকে আমরা শিলিগুড়ির বাসে উঠলাম। যেতে বেশ ভয় ভয়ই লাগছিল কারণ গার্জিয়ান ছাড়া এই প্রথমবার এত দূরে যাচ্ছি।
যেতে যেতে বাসটি খাওয়ার জন্য একটি হোটেলে থামলো। প্রচণ্ড গরম থাকায় সবাই বাস থেকে নেমে পড়েছিল। আমরাও নেমে পড়লাম তারপর দেখলাম ঝালমুড়ি বিক্রি করছে। আমি আর বিদীপ্তা ঝালমুড়ি কিনে নিলাম বেশ ভালো ছিল খেতে।
টানা পাঁচ ঘণ্টা জার্নির পর আমার পৌঁছে গেলাম শিলিগুড়ি। তারপর দেরি না করে আমরা টোটো করে এক্সাম সেন্টারের সামনে গিয়ে নামলাম। তারপর সেখানেই রুম খুঁজতে শুরু করলাম সেই সেন্টারে মাঝে মাঝেই এক্সাম হয় তাই ওখানকার সবাই রুম ভাড়া দেয়। তারা তাদের বাড়ির সামনে মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে রেখেছিল যেন সহজেই সবাই যোগাযোগ করতে পারে। আমরাও সেই নম্বরে কল করে একটা রুম বুক করলাম। তারপর আমরা রুমে পৌঁছালাম দেখলাম আরও দুজন সেই রুমে থাকবে তারাও এক্সাম দিতে এসেছে।
বেশ কয়েকটি নাম্বারে কল করেছিলাম তবে কোনো রুম ফাঁকা ছিল না যেহেতু এক্সাম তাই সবাই আগে থেকেই বুক করে রেখেছিল।
তাই আমরা এডজাস্ট করে ওই রুমটিতেই থাকার জন্য রাজি হলাম। তখন প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছে। সেখানে আমরা ফ্রেশ হয়ে নেই তারপর আমরা বেরিয়ে পরি ভাত খাবার জন্য। কিন্তু আসে পাশে তেমন দোকান নেই। কিছুদূর গিয়ে আছে তবে সেখানে ভাত পাওয়া যায় না। তখন আমাদের হাতে কোনো উপায় না থাকায় রুটি, তরকারি আর মোমো খেয়ে নিলাম। তবে মনে হলো যেন পেট ভরেনি, আসলে বাঙ্গালীদের ভাত ছাড়া চলে না।
তারপর আমরা রুমে ফিরে আসি। রুমের বাকি দুজনের সাথে কথা বলি, গল্প করি। বেশ ভালো ছিল তারা। রাতে তারা ভাত রান্না করেছিল আর সেখান থেকেই আমাদের খেতে দিয়েছিল। তারা সত্যিই খুব ভালো ছিল। তাদের অনেক বড়ো মন ছিল তাই তো তারা আমাদেরও খেতে দিয়েছিল ভাত। খাওয়া দাওয়া করে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পরি।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
Curated by:@wirngo