স্টুডেন্টের বার্থডে
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শেয়ার করব আমার স্টুডেন্টের বার্থডে সেলিব্রেশন নিয়ে।
আমার স্টুডেন্টের নাম সৃষ্টি। সেদিন ছিল সৃষ্টির জন্মদিন তাই তার মা সকাল সকাল এসেই জন্মদিনের নিমন্ত্রণ করে যায়।
তবে সে তার জন্মদিনের দিনও টিউশন পড়া বাদ দেয়নি। আগে সকলেই পড়াতাম কিন্তু প্রচণ্ড গরমের জন্য সকালে স্কুল করে দিয়েছে তাই আমি দুপুরে টিউশন পড়াই। সে দুপুরবেলা পড়তে এসেছিল। জন্মদিন বলে কথা তাই বেশিক্ষণ পড়াইনি, একটু লিখিয়েই ছুটি দিয়ে দিয়েছি। তারপর আমি ওর সাথে গল্প করছিলাম যে তার জন্মদিনে কেউ গিফটস আনবে না তারপর ও আমাকে যা উত্তর দিলো সেটা শুনে আমি অবাক। আমাকে বলল গিফটস না আনলে ঠাকুর পাপ দিবে। এই কথা শুনে অবাক হওয়ার পাশাপাশি হাসিও পাচ্ছিল আমার।
এবার ভাবছি ওকে কী গিফটস দেওয়া যায়। তারপর মাথায় এলো ওর 0.5 এর পেন্সিল খুব পছন্দের। আমার সেই পেন্সিলটি সে দেখেছিল এবং সে ওটা নিবে বলেছিল, তখন আমি বলেছিলাম ওর জন্মদিনে দিবো।
আর দেখতে দেখতে জন্মদিন চলেই আসলো।
তাই ঠিক করলাম একটা 0.5 এর পেন্সিল দিবো আর একটি আর্ট খাতা দিবো আর একটি কিটক্যাট।
তবে কিটক্যাটটি দিবো একটি খাম বানিয়ে। সব গিফ্টস কেনার পর বসে পড়লাম খাম বানানোর জন্য। প্রথমেই কিটক্যাট এর মাপ নিয়ে কাগজ কেটে নিলাম। তারপর আঠা লাগিয়ে তৈরি করে ফেললাম খাম। তার উপরে একটু ডিজাইন করে নিলাম। ব্যাস তারপর কিটক্যাট ঢুকিয়ে দিলাম।
এবার সন্ধ্যে হয়েই গেল প্রায়। রাত নয়টা বাজতেই আমি আমার ছোট বেলার বন্ধুকে কল করলাম যে জন্মদিনের কেক কাটা হয়েছে কি না! আমার বন্ধুর নাম বিক্রম। সে আমার স্টুডেন্টের রিলেটিভস হয়। তো সে বলল এখন কেক কাটা হবে চলে আয়।
তারপর আমি আর বুনু রেডি হয়ে বেরিয়ে পরি যাওয়ার জন্য। যেহেতু একই পাড়াতেই বাড়ি তাই খুব বেশি সময় লাগেনি পৌঁছতে। আমরা গিয়ে দেখি কেক কাটা হয়ে গেছে সবাই ছবি তুলছে আর কেক খাওয়াচ্ছে, গিফটিস দিচ্ছে। তারপর আমরাও আমাদের গিফটস দিয়ে দিলাম।
একটু বসলাম তারপর খেতে দিলো। খাবারে ছিল লুচি, ছোলার ডাল, আলু পটলের রসা, কেক আর জন্মদিনের স্পেশাল পায়েস যেটা ছাড়া জন্মদিন অসম্পূর্ণ। খাবারগুলো বেশ সুস্বাদু হয়েছিল।
খাওয়া দাওয়া করার পর আমি আমার বন্ধু আরও কয়েকজন মিলে বেশ আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডা দেওয়া হয়ে গেলে আমরা বাড়ি ফিরে আসি।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই ভালো থাকবেন। সেদিন এভাবেই আমার দিনটি কেটেছিল। পরের পোস্টে আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে আসবো। ধন্যবাদ।