তখন সন্ধ্যে পাঁচটা বেজে সাতাশ!

in Incredible Indialast month

যেমনটি লেখার শীর্ষক পড়ে বুঝতে পেরেছেন, আজকে একটি নির্দিষ্ট সময়কে উল্লেখ করেছি নিজের লেখার বিষয়বস্তু হিসেবে শীর্ষক এর পাশাপশি।

অনেকদিন ধরেই বাইরে যাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলাম, কারণ নতুন মাসের সাথে আসে সেই পুরোনো খরচ গুলোই।

কি অদ্ভুত! পেটের জ্বালা যদি না থাকতো অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হতে যেতো।
তবে ওই যে, বাস্তবকে অস্বীকার করবার উপায় নেই, তাই তাকে মেনে নিয়েই এগোতে হবে আমাদের সকলকেই।

কিছুদিন ধরেই বিকেল হলেই একটা ঝড়ের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে, এবং ঠিক সেই কারণেই চাইলেও বেরোতে পারছিলাম না বাইরে।

দু হাতে জিনিষ নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরা প্রায় অসম্ভব, তারপর হাতে জিনিসের ওজনের বহর যা থাকে সে আর না বলাই ভালো।

আজকেও ঠিক সন্ধ্যে দেবার পর বেরোবো এমন মনোভাব তৈরি করেই রেখেছিলাম সকাল থেকেই, কিন্তু ঠিক যখন ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যে পাঁচটা বেজে সাতাশ, দেখলাম আকাশ জুড়ে মেঘের ঘনঘটা, সাথে শুরু হলো ঝড়ের দাপট।

মনে মনে ভাবলাম, আজকেও বেরোনো বোধহয় হবে না!
এরপর সন্ধ্যে দিতে দিতেই বৃষ্টির শব্দ কানে আসছিলো, কাজেই এক্ প্রকার বেরোনো হবে না ধরেই নিয়েছিলাম, কিন্তু ঠিক সাতটা নাগাদ জানালা খুলে দেখলাম বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে।

আর দেরি না করে, তৈরি হয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। এই প্রথম আমার মাথায় বাজারের ছবি তোলার কথা এক্ বারের জন্য আসেনি।

আমার একটি খারাপ অভ্যেস আমি প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা তৈরি করে নিয়ে যাই না, ওই খানিক মেমোরি টেস্টের মত মাথায় করে নিয়ে যাই, তবে এতে করে সুবিধার চাইতে, অসুবিধা হয় অধিক।

দোকানে গিয়ে মনে করে করে পড়া শিক্ষককে দেবার মত খানিক জিনিসের নাম বলে, হা করে দাড়িয়ে থাকি, বাকি পড়া অর্থাৎ জিনিসের নাম মনে করি, আর সেই সুযোগে মাঝখান থেকে পরে আসা খদ্দের তাদের জিনিষ কিনে হওয়া।

না, তাদের দোষ নয়! তারা নিজেদের দু চারটে জিনিষ ও লিখে নিয়ে আসে, আর আমি তো ঘরে সব জিনিষ তলানিতে ঠেকল বাজারে যাই।

যেমন, আজ যখন ঘরে শুধু দুটো আলু পড়ে ছিল, তখন বাজার গেছি, না দুটো আলুকে অন্য অর্থে দয়া করে নেবেন না!

একদিকে মুদি সদাই, যেখানে এমন কিছু জিনিষ যেগুলো অনলাইন থেকে নিজের প্রয়োজনের মাপে পাওয়া যায় না, সেগুলোর একটা ওজন, অন্যদিকে কাচা সবজি, একেবারে আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে যা যা পেরেছি।

আচ্ছা, এরপর ঘি কিনতে হয়েছে, এই ঘী আমাদের এখানে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, আমি ৫০০ গ্রাম ঘী কিনেছি, যার দাম পড়েছে ভারতীয় মুল্যে ৩২০ টাকা, অর্থাৎ স্টিম এর আজকের দর অনুযায়ী ৬০ স্টিম!

ওমাগো! আমি দুমাস ধরে কনটেস্টের মাধ্যমে ৫০০ গ্রাম করে ঘী খাওয়াচ্ছি সকল বিজয়ীদের!
তাও আবার বিগত চার বছরের অধিক সময় ধরে! এটা তো আগে ভেবে দেখিনি!

  • গ্রসারি দ্রব্যের জন্য আজকে আমার খরচ হয়েছে, ভারতীয় মুল্যে ৬২৫ টাকা, অর্থাৎ ১১৭.১৮ স্টিম!

আর সবজির দোকানে দিয়েছি ২৭০ টাকা, অর্থাৎ ৫০.৬২ স্টিম!

  • পার্লার গিয়েছিলাম, সেখানে প্রথমেই খরচ করেছিলাম, ৩০০ টাকা, মনে ওই ৫৬.২৫ স্টিম!

অর্থাৎ,

সর্বমোট আজকে আমার খরচ হয়েছে, ভারতীয় মুল্যে ১,৫১৫ টাকা, যেটা স্টিম মূল্যে দাড়ায় ২৮৪.০৫ স্টিম!

এরপর কার বাড়ি থেকে বেরোতে ইচ্ছে করে, যখন বাড়ি ফিরে মনে পড়ে, দু একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ কেনা হয়নি, অথচ ব্যাগ হালকা হালকা লাগছে!

এরপর কার মনে থাকবে, ওই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায়, ভেজা কর্দমাক্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কথা, না না আপনারাই বলুন!
আমি কি মানুষ বলে মানুষ নই!

যখন গলদঘর্ম হয়ে বাড়ি ফিরলাম, দেখি দরজার বাইরে ২০ লিটারের ৩টে জলের ব্যারেল রেখে দিয়ে চলে গেছে, জল দেবার ছেলেটি!

মানে, সেই মুহূর্তে আমার পরিস্থিতি একে রাম রক্ষা নেই, লক্ষণ দোসর!

দু হাতের ওজন ঘরে চালান করে ওই ৬০ লিটার ওজন ঘরে চালান করতে গিয়ে, আমার পরিস্থিতি যা গিয়েছিল, সে আর না বলাই ভালো!

(কিছু ঝড় মনের অভ্যন্তরেও চলে সর্বদাই!)

অনেক কথা মজার ছলে লিখলাম, কিন্তু কি জানেন তো, সব কাজ সেরে যখন ইজি চেয়ারে বসলাম, চোখের জল নিজের অজান্তেই দু'গাল বেয়ে পড়ছিল!

কিছু খারাপ লাগার কারণ থাকে, কিছু অনুভূতি আছে যেগুলো বিশ্লেষণ শব্দ দ্বারা বোঝানো এক কথায় অসম্ভব।

তারপর, নিজেই নিজেকে বোঝালাম, এটাই হয়তো ছিল আমার জন্য আজকের পরীক্ষা, পাশ ফেল জানিনা, তবে পরীক্ষায় যে মনোবল নিয়ে বসতে পেরেছি, এটাই তো ঢের, কি তাই না বলুন?

বি: দ্র:-
ছবিগুলো আপলোড করা গেলো না সার্ভার সঠিকভাবে কাজ না করায়, যেটি এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়!

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.080
BTC 61947.99
ETH 1628.87
USDT 1.00
SBD 0.41