উত্তর মেসিডোনিয়া।
আমি ইতিপূর্বে আমার অনেক লেখায় নিজের দেশ তথা রাজ্যের একাধিক ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছি লেখার হাত ধরে!
তবে, যখন আকর্ষণ হয় একটি নির্দিষ্ট বিষয়, তখন সেটি শুধুমাত্র নিজের দেশে সীমাবদ্ধ থাকে না!
আর ঠিক এই কারণে, ইংরিজি বিষয়টির পাশাপশি আমি (পলিটিক্যাল সায়েন্স)রাষ্ট্রবিজ্ঞান, (হিস্টরি) ইতিহাস,(ইকোনোমিক্স) অর্থনীতি এবং (ফিলোসফি) যাকে বাংলায় বলে দর্শন বিষয়বস্তু গুলিকে নিজের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম।
এতে করে নির্দিষ্ট বিষয়ের বাইরে গিয়ে কিছু বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান আস্বাদনের সুযোগ আমি পেয়েছি।
এর মধ্যে যদি শুধু ইতিহাসের কথা বলি, তাহলে এটাও উল্লেখ করতে হবে, আমার ওয়ার্ল্ড হিস্টরি পড়া!
অনেকেই সেই সময় আমায় বলেছিল, ইতিহাস বড্ডো বোরিং সাবজেক্ট কিন্তু আমি বিষয়টি নিয়ে লেখাপড়া করেছিলাম কারণ, আমি বিশ্বাস করি বর্তমানকে সাজাতে হলে ইতিহাসকে মর্যাদা দিতে হবে।
আর মর্যাদা যদি দিতেই হয়, তাহলে জানতে হবে সম্পূর্ণটা, অর্থাৎ গোটা বিশ্বের ইতিহাস!
এর পাশাপশি কৌতূহল তো একটা ছিলই! আর সেই ইতিহাসের পাতা উল্টে আজকে চলুন একটু বিশ্ব ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখি!
কোথাকার ইতিহাস সেটাতো শীর্ষক এর মাধ্যমে আপনারা এতক্ষণে জেনেই গিয়েছেন!
তাই আর আলাদা করে উল্লেখ করলাম না!
দেখুন এই উত্তর মেসিডোনিয়ার ইতিহাস কিন্তু কয়েক বছরের সমষ্টি নয়, বরঞ্চ হাজার হাজার বছর পুরোনো!
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান অঞ্চল, যেখানে কথা উল্লেখ করছি, এটি ছিল, প্রাচীন রোমান, অটোমান, এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অংশ!
যদিও ছিল কথাটি এখনো প্রযোজ্য তবে, যদি লেখাটি আমি ১৯১৩ সালের আগে লিখতাম তাহলে বিষয়টি আর অতীতকাল হিসেবে উল্লেখ করতে হতো না!
কেনো এমন লিখছি? কারণ, ১৯১৩ সালে পতন ঘটেছিল অটোমান সাম্রাজ্যের!
স্বাভাবিক ভাবেই, এরপর বিভাজন প্রক্রিয়া শুরু হয়, আর সেই বিভাজনের হাত ধরে সার্বিয়া, বুলগেরিয়া ও গ্রিসের মধ্যে বিভক্ত হয় উত্তর মেসিডোনিয়া!
এর ঠিক ৩২ বছর পর সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (যুগোস্লাভিয়ার) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এরপর ওই ধরুন ১৯৯১ সালে এই উত্তর মেসিডোনিয়া স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়!
তাহলে এই ৭৮ বছরের ইতিহাস অর্থাৎ ১৯১৩-১৯৯১ পর্যন্ত দেখলে বোঝা যায়, যখন একটি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে, কিভাবে সময়ের হাত ধরে টুকরো টুকরো হয়ে যায় একটি জায়গা, আর রূপান্তরিত হয় একাধিক জায়গায়!
আমার দেশের ইতিহাসও কিন্তু একই কথা বলে, আজকের ভারত এর সীমারেখা আর স্বাধীনতার আগের ভারতের সীমারেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল!
এই অটোম্যান সাম্রাজ্যের শাসনের পূর্বে অর্থাৎ খ্রিষ্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ছিলেন প্রাচীন মেসিডোনিয়ার শাসক!
প্রাচীন মেসিডোনিয়া রাজ্যের মূল কেন্দ্র ছিল, যার বিখ্যাত শাসক ছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট।
কেনো এই আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট এর উল্লেখ করলাম? কারণ তার সাথে ভারতের ইতিহাস জড়িত!
সময়টা ওই ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ যখন তিনি হিন্দুকুশ হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, সেই সময়ের গল্প আরেকদিন উল্লেখ করবো,
কারণ এখানেও ভারতীয় পুরুর বীরত্বের গল্প রয়েছে, যেটি হয়তো অনেকেই জানেন না!
অথবা কালের স্রোতে ভুলে গিয়েছে! যার প্রশংসা স্বয়ং আলেকজান্ডার করেছিলেন এবং সময়ের সাথে বাণিজ্যের প্রসার বৃদ্ধি হয় ভারতের সাথে গ্রিকের!
পরাজিত হয়েও কিভাবে আত্মমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা যায় সেটির নিদর্শন ইতিহাসের পাতা থেকে খুঁজে পাওয়া যায়!
হেরে যাওয়া মানেই তলিয়ে যাওয়া নয়, সেটি যেমন বহু গবেষক প্রমাণ করেছেন এবং তাদের পুনঃ পুনঃ প্রয়াস দিয়ে সফলতার নিদর্শন রেখে গিয়েছেন, ঠিক তেমনি একটি দেশের শুরু থেকে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত একাধিক লড়াই, প্রাণনাশ এবং আত্মবলিদানের গাঁথা জানতে হলে ইতিহাসের প্রতি সামান্য আগ্রহ থাকা আবশ্যকীয়!
আরো অনেক কিছুই লেখার ছিল, কিন্তু খানিক আগেই সম্পূর্ণ লেখা মুছে যাওয়ায়, আবার লিখতে গিয়ে খানিক ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে, তাই বাকিটা নয়তো আরেকদিন হবে, আজ এখানেই ইতি টেনে বিদায় নিলাম!
আজকাল অনেক তথ্য গুগল ঘেঁটে পাওয়া সম্ভব!
কাজেই, আগ্রহ থাকলে নিজেরাই খানিক সরেজমিনে পরিদর্শন করে নেবেন! আর যদি আমার লেখায় আগ্রহ থেকে থাকে তাহলে সঙ্গে থাকুন, আর নজর রাখুন আমার পেজে!
0.00 SBD,
0.32 STEEM,
0.32 SP
Much appreciated your support @steemcurator05 and team July 😊🫰
Most welcome!
Accounts that delegate to us may receive a daily vote worth approximately 15x their delegated SP.