ঠিক বেঠিক!
কখনও যদি খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন; জীবনের বেশিরভাগ সময়টা আমাদের অতিবাহিত হয়, ঠিক বেঠিক এর হিসেব রাখতে!
এখন ঠিক বেঠিক এর হিসেবে খানিক গণ্ডগোল রয়েছে, কেনো এমনটা বলছি?
কারণ, এই হিসেবের ক্ষেত্রে যে গরমিল রয়ে যায় সেটা হলো, নিজে কতখানি ঠিক করেছি তার সমস্ত হিসেব রাখা;
আর অন্যের বেঠিক এর হিসেব একেবারে কড়ায় গন্ডায় রাখা!
এরকমটা কিন্তু নির্দিষ্ট সম্পর্ক, কিংবা ঘরের ভিতরেই সীমাবদ্ধ এমনটি নয়, বরং এই হিসেব ঘরের বাইরেও নজর কাড়ে!
অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি কর্মক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য।
নিজের বেঠিক আর অন্যের সঠিক এর হিসেব সাধারণত কেউ রাখে না, কিংবা রাখতে চায়না!
এর অন্যতম কারণ হলো, নিজেদের ভুল স্বীকার করবার যোগ্যতা কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের সাথে।
আবার হতে পারে, অহংকার বাধ সাধে! ভুল করেছি এটা বলার চাইতেও মানুষ শুনতে বেশি পছন্দ করে।
মানুষ যে কখনোই সম্পূর্ণ নির্ভুুল হতে পারে না, এটা বোধকরি অহংকার ভুলিয়ে দেয়;
আর তাই তর্ক করে হোক কিংবা গলার আওয়াজ উঁচু করে হোক, আবার ক্ষমতার আড়ালে নিজেদের বেঠিক লুকাতে সিদ্ধহস্ত বেশিরভাগ মানুষ।
ভুল করে, অন্যায় করে বুক বাজিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিছু মানুষের অভ্যেস!
এবার এটা কাদের মধ্যে অধিক লক্ষ্য করা যায়?
সাধারণত ঘরের অভ্যন্তরে তাদের মধ্যে যারা বুঝে যায় তাদের ছাড়া বাকিরা অচল,
আর কাজের জায়গায় যার যত ক্ষমতা, যে যত উচ্চ পদমর্যাদায় আসীন গিয়ে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে।
তবে, ব্যতিক্রমী মানুষ নিশ্চই রয়েছেন, যাদের কারণে খানিক ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে এই ধরায়।
এরা জানেন, মুর্খের সাথে বিতর্কে জড়াতে নেই, তাই তারা সঠিক হলেও বেশিরভাগ সময় হয় চুপ থাকে, নয়তো নিজেরা সঠিক হয়েও মেনে নেয় সামনের মানুষটি ঠিক!
এতে করে সামনের মানুষের বেঠিক যে সঠিক হয়ে যায় এমনটি নয়, কিংবা যে বা যারা মেনে নিচ্ছেন, তারা ছোট হয়ে গেলো এমনটিও নয়।
সময় পরিবর্তিত হয়, তেমনি পরিস্থিতির হাত ধরে এক সময় কেউ না কেউ তাদের দর্পণ দেখিয়ে দেয়।
আমার মনে হয়, স্মৃতি শক্তিকে নিজেকে উন্নত করবার কাজে প্রয়োগ করাই ভালো, অন্যের বেঠিক ধরিয়ে দেওয়ার চাইতে, নিজেকে সঠিক প্রমাণ করবার চাইতে।
এখন আমি লক্ষ্য করে দেখেছি, এখন এই ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে মানুষ ভালো নজরে দেখে না, তাদের কাছে অধিক সময় বিষয়টি অযথা জ্ঞান দেওয়া বলে মনে হয়;
শেখার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে, আর তাই ভুল ধরিয়ে দেওয়া যে মাঝেমধ্যে গঠনমুলক হতে পারে, সেটা অনেকেই মানতে নারাজ।
তবে, কেউ যদি সময়ের সাথে নিজের বেঠিক বুঝতে শেখে তাহলে সেটাও ব্যতিক্রম এই সামিল, কারণ নিজের ভুল স্বীকার করবার জন্য অনেক সাহসী এবং বড় মনের মানুষ হবার প্রয়োজন, সেটা কতজন হতে পারে, এই বিষয়ে আমি বেশ সন্দিহান!
কারণ নিজেদের দোষ পিঠে বাঁধা থাকে, জাতকের সে গল্পের উল্লেখ ইতিপূর্বে আমার লেখায় করেছিলাম, তাই হয়তো অধিক ক্ষেত্রে এমনটা হয়, কে জানে!
কস্মিনকালে বিবেক জাগে!
একটি আঙ্গুল অন্যের দিকে;
চারটি আঙুলের অবস্থান ফিকে!
উপরিউক্ত চারটি লাইন কি এই সমস্যার মূল কারণ? জানবার প্রতীক্ষায় রইলাম।