বেড সোর( Bed sores) বা শয্যা ক্ষতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা ও যত্ন।
কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজনের মুখেও একই ধরণের কথা শুনতে পেলাম। তার বাবা দুই মাসের মতো লাইফ সাপোর্টে। সে বলতেছিলো যে ,মাঝে মাঝে মনে হয় বাবাকে কষ্ট দিতেছি। কিন্তু এটা মনে হলেও আসলে কিছু যে করার নেই সেটা বুঝেছিলাম ভালোমতোই। কাউকে মারা যাওয়ার জন্য বিনা চিকিৎসায় ছেড়ে দেয়া যায় না।
দীর্ঘ দিন বিছানায় শুয়ে থাকাটা আসলেই খুব কষ্টকর। সেটা হসপিটালের হোক কিংবা বাসাতেই। তবে এর মাঝে সবচেয়ে যেটা খারাপ ,শুধু খারাপ বললেও ভুল হবে ,শব্দটা হবে ভয়ংকর আর সেটা হলো বেড সোর কিংবা শয্যা ক্ষত। যাদের বাসায় এমন শয্যাশায়ী রোগী আছে তাদের আগে থেকেই সচেতন হওয়া উচিত।এটা যে শুধু বয়স্ক মানুষেরই হবে এমনও না।তবে বয়স্কদের বেশি হয়।
দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে কাঁধের পেছনের দিক, টেইলবোন, পশ্চাদ্দেশ এবং গোড়ালির মতো অংশের ওপর অতিরিক্ত এবং অনেকক্ষণ ধরে চাপ পরে। আর তখনই বেড সোরের সৃষ্টি হয়।পানিশূন্যতা, পুষ্টিহীনতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে) মতো রোগে, প্যারালাইসিস বা পোস্ট অপারেশন করলে কিংবা হাড় ভাঙা সারাতে প্লাস্টার করা থাকলেও বেড সোর হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি এবং অক্সিজেনের সরবরাহের ঘাটতির জন্য ক্ষত হয়।
রোগীর যারা সেবা করবে তাদের এই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। বেডসোর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
তবে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি বেডসোর শুরু হবার আগে থেকে সচেতন হওয়া জরুরী। এর জন্য রোগীকে প্রতি দুইঘন্টা পর পর অবশ্যই পাশ ফেরাতে হবে। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে বসাতে হবে।
বিছানার চাদরে বা পরনের পোশাকে যাতে বার ঘষা না লাগে কিংবা দুই পা যাতে একত্রে আটকে না থাকে এ বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে দুই পায়ের মাঝে নরম বালিশ দিয়ে আলাদা করে রাখতে হবে। রোগীকে শুকনো জায়গা বা অবস্থায় রাখতে হবে। সেইসাথে রোগীর বেডসোর শুরু হবার পূর্বেই তার জন্য ইলেকট্রিক বেড এর ব্যাবস্থা করতে হবে ,যাতে করে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে। এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা জিনিস। আর এটা খুব বেশি দামিও না।
আর যদি বেডসোর হয়েই যায় তাহলে ঘায়ের মাঝে কিছুক্ষন পরপর পভিসেপ এর মতো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে। সেই সাথে প্রচুর পরিমানে বাতাসের মাঝে রাখতে হবে যাতে ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে যায়। আগে একটা কথা প্রচলিত ছিল যে ,একবার এই ক্ষত হলে রোগী আর বাঁচে না। এটা পুরোপুরিই ভুল কথা । ঠিকমতো চিকিৎসা ও যত্ন পেলে সেরে উঠে এই ক্ষত।
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦
খুবই সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন আপনি। এটি একটি খুবই শিক্ষনীয় পোস্ট। আমরা অনেকেই হয়তো বেড সোর এর প্রতি নজর এই দেই না। এবং এর থেকে অনেক সময় অনেক বড় ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে খুবই ভালো লিখেছেন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো, ভালো থাকবেন সবসময়।
আমার পোস্ট পড়ে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভাগ থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য
You are most welcome 🤗
আমার মার বেডসোর হয়েছিলো কিন্তু এখন সেরে গেছে। মাকে যদিও air mattress এর ওপর শুয়ে থাকতে হয় কারণ আমার মা আর নিজের থেকে উঠে বসতে বা একদিকে কাত হতেও পারে না। ধন্যবাদ এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা নিয়ে লেখার জন্য।
@pijushmitra(52)
আপনার মায়ের বেডসোর ভালো হয়েছে জেনে ভালো লাগলো।আসলে আমরা যারা এর মাঝ দিয়ে গেছি বা যাচ্ছি তারাই শুধু ভালোভাবে বুঝতে পারবো এর ভয়াবহতা। আমার মা-ও শেষ এর দিকে এমনই ছিলেন। আপনার মা সুস্থ হয়ে উঠুক এই প্রার্থনা করি।
সেই সাথে আপনিও ভালো থাকবেন।